1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

অনিশ্চিত ব্যয়বহুল কয়লা ভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের বিকাশে সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডেভেলপাররা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার চেয়ে নবায়নযোগ্য উৎস তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় তারা হারাতে পারে কয়েক হাজার কোটি পাউন্ড। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্বন ট্র্যাকারের প্রতিবেদন বলছে, বৈশ্বিক বিদ্যুৎ খাতে এ সম্ভাব্য পরিবর্তনের মূলে রয়েছে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ কম উৎপাদন খরচ।

এমনকি আগামী ১০ বছরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়ে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ অনেক বেশি লাভজনক হয়ে উঠবে। তবে আরো বহু বছর বিশ্বে বিদ্যুতের প্রধান উৎস হিসেবে কয়লার অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)।

কার্বন ট্র্যাকারের প্রতিবেদনের গবেষকরা বলছেন, তারা বিশ্বের ৯৫ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থনীতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কয়লার চেয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও উৎপাদন খরচ কম পড়ছে। এমনকি ৬০ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে।

এ অবস্থায় আগামী ১০ বছরে সব দেশেই সস্তা জ্বালানি উেসর প্রসারে, বর্তমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এর বদলে গড়ে উঠবে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। মূলত বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব টের পাচ্ছে পুরো বিশ্বের মানুষ। কার্বন নিঃসরণের কারণে ক্রমেই বাড়ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি।

এ অবস্থায় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে আশার কথা, এরই মধ্যে বিশ্বের বহু দেশ গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। এ বিষয়ে কার্বন ট্র্যাকার বলছে, কার্যকরভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ২০৪০ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন একটি করে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করতে হবে।

একই সঙ্গে প্রতিবেদনটিতে সরকার ও বিনিয়োগকারীদের পরিকল্পনায় থাকা কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে আর বিনিয়োগ না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তা না হলে তাদের প্রায় ৫০ হাজার কোটি পাউন্ড ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক বাজারে এমনিতেও কয়লা আর টিকে থাকতে পারবে না।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কয়লা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি কয়লা শিল্পের পুনরুত্থান ঘটাবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীরা তার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না। এদিকে উন্নত বিশ্বে ধীরে ধীরে কয়লানির্ভরতা কমতির দিকে থাকলেও এখনো বহু উন্নয়নশীল দেশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে যাচ্ছে। এখনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উচ্চ খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অনুমতি দিচ্ছে এসব দেশের সরকার।

কার্বন ট্র্যাকারের প্রতিবেদনের সহলেখক ম্যাট গ্যারি বলেন, বিশ্বব্যাপী এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি কয়লাকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিনিয়োগকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তিনি আরো বলেন, বৈশ্বিক বাজার এখন নিম্ন-কার্বন জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু সরকারগুলো সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছে না। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অবিলম্বে নতুন কয়লাভিত্তিক প্রকল্প বাতিল করা প্রয়োজন।

পাশপাশি যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে সেগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিতে হবে। বিশ্বের বহু স্থানে, বিশেষ করে এশিয়ায় এখনো বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু তার পরও আইইএ বলছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পতন ঘটতে যাচ্ছে। ২ দশমিক ৫ শতাংশ হিসেবে বিদ্যুতের এ উৎপাদন কমবে আড়াইশ টেরাওয়াট ঘণ্টার (টিডব্লিউএইচ) বেশি।

আইইএর পূর্বাভাস বলছে, কয়লার শেয়ারদর ২০১৮ সালের ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪ সালে ৩৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু তার পরও বৈশ্বিকভাবে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে কয়লার অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। আইইএর কেইসুকে সাদামোরি বলেন, এখনই কয়লার ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বিশেষ করে এশিয়ায় কয়লার চাহিদা বাড়ছে। সূত্র: বিবিসি

More News Of This Category