1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

অফিসে হিংসুক সহকর্মী সামলাবেন যেভাবে!

প্রতিটি পেশায়ই কিছু সহকর্মী থাকে যারা অন্যকে হিংসা করতে পারে। কোনো কারণ থাকুক বা না থাকুক কিছু লোকের স্বভাবই অন্য সহকর্মীদের হিংসা করা। দুর্ভাগ্যক্রমে আপনিও পেতে পারেন এমন সহকর্মী যিনি কারণে বা অকারণে আপনাকে হিংসা করে। প্রতিদিন এ ধরনের সহকর্মীদের মোকাবিলা করা শুধু অপ্রীতিকর কাজই না, এতে হিংসার শিকার কর্মীর কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়, আত্মবিশ্বাসের মাত্রা কমে যায় এবং মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আপনার যেকোনো কাজ তাদের হিংসার কারণ হতে পারে। তবে আপনার প্রতি তাদের আচরণ খেয়াল না করলে জানতেই পারবেন না যে তারা আপনাকে হিংসা করছে। তার আপনার ওপর অপ্রাসঙ্গিক ক্ষমতা খাটানোর চেষ্টা করবে। অন্যদের সামনে বিশেষ করে বসদের সামনে আপনাকে খারাপ বানানোর সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে। তবে আপনাকে যে ইস্যু ধরে খারাপ বানানোর চেষ্টা করবে সেখানে নিজে জড়িত থাকবে না।

এ ধরনের আচরণ একসময় আপনার কাছে অসহ্য লাগবে। এমনকি আপনি তাদের অভিযুক্তও করতে পারবেন না, কারণ তারা খুব চতুরতার সাথে কাজটি করে। তাই তাদেরকে খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে সামলাতে হবে। নিয়ন্ত্রণ না হারিয়ে তাদেরকে যথাযথভাবে সামলানোর জন্য কিছু কৌশলের কথা তুলে ধরেছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

দক্ষতার সাথে নিজের কাজ করে যাওয়া: হিংসা করা সহকর্মীরা আপনার কী করতে চায়, আপনাকে ব্যর্থ প্রমান করতে চায়? আপনাকে হিংসা করে? তারা তখনই এসব করে যখন দেখে আপনি আপনি আপনার কাজ করে যাচ্ছেন, প্রশংসা পাচ্ছেন এবং সবার মন জয় করছেন বিশেষ করে যখন দেখে বস আপনার প্রশংসা করছেন। হ্যাঁ, এক্ষেত্রে সমস্যা আছে।

তারা তাদের কুটকৌশল আরো জোরদার করবে। তবে আপনি যদি আপনার কাজ ঠিকমতো করে যান, আপনার লক্ষ্য পূরণ করতে থাকেন এবং যদি অফিসে নির্বরতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে তারা আপনা আপনিই এক সময় থেমে যাবে। এক্ষেত্রে তাদেরকে উপেক্ষা করাই সবচেয়ে ভালো কৌশল।

আমরা জানি ঈর্ষান্বিত সহকর্মীর মুখোমুখি হওয়ার জন্য এবং তার আচরণ আপনার কাজকে কীভাবে প্রভাবিত করছে তা তাকে জানানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই কতটা প্রলুব্ধ হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ নেতিবাচক হয়ে দাঁড়ায়। কারণ হিংসা করা সহকর্মীরা নাটক করতে পছন্দ করে এবং যখন বুঝে যাবে যে তাদের আচরণ আপনার জন্য বিরক্তিকর হচ্ছে তখন তারা আনন্দ পাবে। একপর্যায়ে আরো উৎসাহী হয়ে তাদের উৎপাত বাড়িয়ে দেবে।

কাজের নথি আবশ্যক: কাজের প্রমান রাখা খুবই জরুরি। ছুটির দিনে কাজ, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা, অতিরিক্ত কাজ- সবকিছুর নিথ রাখতে হবে। কারণ হিংসাত্মক সহকর্মীর প্রথম কাজই হবে অন্যদের সামনে আপনাকে খারাপ বানানো, বিশেষ করে বসের কাছে। এমনকি আপনি যদি সবকিছু ঠিকঠাক মতো করেনও তারা সবসময় সত্য ঢাকার চেষ্টা করবে এবং বলার চেষ্টা করবে, ‌‌”‌ছুটির দিন কাজ করতেই হলেই সে (আপনি) দূর দূরে থাকে”, বসের সামনেই তারা এটা বলবে। এ ধরনের আচরণ কোনো কারণ ছাড়াই আপনাকে অপেশাদারী করে তুলবে। সুতরাং কাজের প্রমান রাখুন, নিজেকে নিরাপদ রাখা খুবই জরুরি।

অন্য সহকর্মীদের সাথে বন্ধুত্ব করুন, জোটবদ্ধ হোন: হিংসা এবং ক্ষতি করা সহকর্মীদের প্রধান লক্ষ্য হলো আপনাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, যেন আপনি প্রয়োজনের সময় অন্যদের সহযোগিতা না পান। কিন্তু অফিসেও বন্ধু থাকা আবশ্যক। আপনাকে হিংসা করা সহকর্মীরও অফিসে বন্ধু আছে, সুতরাঙ আপনারও উচিত অন্যদলের সাথে বন্ধুত্ব করা। আবার জোটবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল করতে হবে যেন সেই দলে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কেউ থাকে।

নিজেকে হালকা রাখুন এবং ক্ষমাশীল হোন: যে সহকর্মী আপনাকে কর্মবিমুখ করছে এবং আপনার কর্মক্ষমতা নষ্ট করেই চলছে তার সাথে কাজ করা যে কতটা চাপের তা সহজেই অনুমান করা যায়। এ অবস্থায় অনেকেই ভেঙে পড়তে পারেন। আবার অনেকেই নিজেকে প্রমান করার জন্য কঠোর পরিশ্রম শুরু করে দেন।

উভয় ক্ষেত্রেই যখন চরম মাত্রায় পৌঁছাবে তখন আপনি নিজেকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না। যখন আপনার চারপাশের লোকেরা ইতোমধ্যে কঠোর হয়ে উঠেছে এবং সহযোগিতা করছে না, তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু তখনই সময় নিজেকে শক্ত করা এবং কিছুটা ক্ষমাশীল হওয়া। বিশেষ করে নিজেকে কৃতিত্ব দেয়া এজন্যই যে, এমন দূষিত পরিবেশেও সারাদিন ভালোভাবে কাটিয়ে দিয়েছেন। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category