1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

ব্যাংক হিসাব খোলার আগেই ঋণ, অবিশ্বাস্য উপায়ে অর্থ লোপাট!

ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হলে গ্রহীতাকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রথমেই সংশ্নিষ্ট ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট (হিসাব) খুলতে হয়। এরপর সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে ব্যাংক। তবে কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকে বেশ কয়েকটি ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। হিসাব খোলার আগেই ঋণের আবেদন করেছেন কিছু গ্রহীতা।

বিস্ময়করভাবে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সেই আবেদন মঞ্জুরও করা হয়েছে। আবেদনের চার দিন পরই ৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তার অর্ধেক অর্থ ঋণগ্রহীতাকে হস্তান্তরের অবিশ্বাস্য ঘটনাও ঘটেছে। এরপর যা হওয়ার তা-ই হয়েছে; ঋণের সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

বহুল আলোচিত শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে সব ধরনের নিয়মকানুন উপেক্ষা করে ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করা হয় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেই বেরিয়ে এসেছে তথ্য-প্রমাণ। পরে দুদকের তদন্তেও অর্থ আত্মসাতের নানা কাহিনি উঠে এসেছে।

সূত্র জানায়, ঋণ আবেদনের ২৭ দিন পর হিসাব খুলে টাকা তুলে নেওয়ার বিস্ময়কর ঘটনাও ঘটেছে এই ব্যাংকটিতে। এটাকে নজিরবিহীন বলছেন ব্যাংকাররা। আবেদন যাচাই-বাছাই না করেই ব্যাংকের শাখা থেকে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত দ্রুতগতিতে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুদকের তদন্তে জানা যায়, ভুয়া জামানত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ক্লিয়ারেন্স না থাকা এবং গ্রাহকের ব্যবসার অস্তিত্ব, ধরন ও ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। ২০০৯ সালের মাঝামাঝিতে বাচ্চু ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর অযোগ্য ও অস্তিত্বহীন কোম্পানির মালিক, ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও প্রধান কার্যালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল অর্থ লোপাটের চক্র।

তদন্তে ডায়নামিক ট্রেডিং, এসএফজি শিপিং লাইন, সিলভার কম ট্রেডিং, এশিয়ান শিপিং বিডি, সুরমা স্টিল, তানজিলা ফ্যাশনসহ কয়েকটি কোম্পানির জাল-জালিয়াতির বিস্ময়কর প্রমাণ পেয়েছে দুদক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসিক ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, হিসাব খোলার আগেই ঋণের আবেদন বিস্ময়কর ও নজিরবিহীন ঘটনা। এটা সম্পূর্ণরূপে ব্যাংকিং রীতিনীতির পরিপন্থি ও বেআইনি। তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ের আগে যেমন সন্তান নেওয়া যায় না, তেমনি হিসাব খোলার আগে ঋণ দেওয়াও সম্ভব নয়।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সমকালকে বলেন, এই কেলেঙ্কারির মূল হোতাকে চিহ্নিত করে আইনের কাছে সোপর্দ করা জরুরি। আইনগতভাবে দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা। তাই এটা দুদকের পক্ষেই সম্ভব। তাতে দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে গোটা ব্যাংকিং খাত ও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, দুদক সব মামলাতেই অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগেই আদালতে চার্জশিট পেশ করা যায়। ব্যাংকের টাকা সর্বশেষ কার হাতে গেছে, এ তথ্য বের করতে চার বছর সময় লাগতে পারে না। এই দীর্ঘ সময়ে সব তথ্যই উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব। কাউকে বাঁচাতে তদন্ত কার্যক্রম বিলম্ব করা হচ্ছে কি-না, সে প্রশ্নও উঠছে।

অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে বাচ্চুকে দায়ী করার কথা থাকলেও দুদকের ৫৬ মামলার একটিতেও তাকে আসামি করা হয়নি। মামলার চার্জশিটে তার নাম থাকবে কি-না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ঋণের জন্য ব্যাংকের যে কোনো শাখায় হিসাব খুলে আবেদন করতে হয়। এরপর আবেদন যাচাই করা হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন, ব্যবসার আকার, লাভ-লোকসান, জামানত, ঋণ-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টসহ গ্রাহকের সব তথ্য যাচাই করা হয়। সব ঠিকঠাক থাকলে প্রস্তাবটি পাঠানো হয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে।

প্রধান কার্যালয়ের কমার্শিয়াল ক্রেডিট ডিভিশন (সিসিডি) ও ঋণ-সংক্রান্ত কমিটি প্রস্তাবটি যাচাই করে পাঠায় এমডির কাছে। প্রস্তাবটি যথাযথ হলে এমডি ঋণ অনুমোদনের জন্য পরিচালনা পর্ষদের কাছে সুপারিশ করেন। পর্ষদ সভায় এটি যাচাই করা হয়। প্রস্তাবের সব দিক ঠিক থাকলে পর্ষদ ঋণের অনুমোদন দেয়। এসব প্রক্রিয়া শেষ করে একজন গ্রাহকের ঋণ পেতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। ঋণের নামে ওই সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতে এসব নিয়ম মানা হয়নি।

ডায়নামিক ট্রেডিং :দুদকের তদন্তে বলা হয়, ডায়নামিক ট্রেডিংয়ের মালিক আবুল কালাম মো. আবু রায়হান বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখায় হিসাব খোলার ২৭ দিন আগেই ১৬ কোটি টাকা ঋণের জন্য শান্তিনগর শাখায় আবেদন করেছিলেন। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই ঋণের আবেদন করলেও হিসাব খুলেছিলেন প্রায় এক মাস পর, ১৩ আগস্ট।

বরখাস্ত হওয়া সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী আবেদনটি যাচাই না করে প্রধান কার্যালয়ের সিসিডি বিভাগের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মোনায়েম খানের কাছে পাঠান। মোনায়েম খান ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কনক কুমার পুরকায়স্থ সেটি ঋণ যাচাই কমিটির সাবেক সভাপতি ফজলুস সোবহানের কাছে পেশ করেন।

প্রস্তাবটি সংশোধনের জন্য ফেরত না পাঠিয়ে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামের কাছে পেশ করা হয়। ত্রুটিপূর্ণ জেনেও ফখরুল প্রস্তাবটি পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করেন। আবেদনের ১৫ দিনের মাথায় ৩১ জুলাই পর্ষদের ৩১৪তম সভায় ওই প্রস্তাবের বিপরীতে ১২ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়।

এরপর শান্তিনগর শাখায় পাঠানো হয় ঋণ মঞ্জুরিপত্র। শাখা ব্যবস্থাপক ওই বছরের ১৩ আগস্ট তিন কোটি, ১৪ আগস্ট ছয় কোটি, ২৭ আগস্ট তিন কোটিসহ মোট ১২ কোটি টাকা গ্রাহকের হিসাবে স্থানান্তর করেন। এখন তা সুদ-আসলে হয়েছে ১৭ কোটি ১১ লাখ ৯৮ হাজার ২৬০ টাকা।

সিলভার ট্রেডিং :মেসার্স সিলভার কম ট্র্রেডিংয়ের মালিক সাইফুল আজম পলাশ ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৬২ কোটি টাকার ঋণের আবেদন করেছিলেন ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। হিসাব খুলেছিলেন ১০ সেপ্টেম্বর। ঋণপ্রস্তাবে জামানত হিসেবে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার রাধাকানাই মৌজার ৪৩৯ দশমিক ২৫ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয়। দুদক সরেজমিনে ওই জমির অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। সেখানে এই পরিমাণ জমির বাজারমূল্য ৬৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা হলেও ঋণ আবেদনে উল্লেখ করা হয় ১৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

সিলভার ট্র্রেডিংয়ের আবেদনটি শাখা থেকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলে ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুর সভাপতিত্বে পরিচালনা পর্ষদের ৩১৫তম সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। পর্ষদ ভুয়া জামানতে ৩৫ কোটি ৮৬ হাজার টাকার ঋণ মঞ্জুর করে। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী ওই টাকা দ্রুততম সময়ে ছাড় করা হয়। বর্তমানে সুদ-আসলে তা দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ঋণপ্রস্তাবটি পর্ষদে উপস্থাপন ও পাস করতে সহায়তা করেছিলেন সাবেক ডিএমডি ফজলুস সোবহান ও সাবেক এমডি কাজী ফখরুল।

আবেদনের চার দিন পরই ঋণ :এশিয়ান শিপিং বিডি তিনটি নতুন জাহাজ কেনার নামে ৫০ কোটি টাকার ঋণের জন্য ২০১২ সালের ১ এপ্রিল গুলশান শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলেন। এর পরদিন ৫০ কোটি টাকার ঋণ আবেদন করেন। এরপর ৪ এপ্রিল আবেদনটি শাখা থেকে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ৫ এপ্রিল সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুর সভাপতিত্বে পরিচালনা পর্ষদের ৩১০তম সভায় ৫০ কোটি টাকাই অনুমোদন দেওয়া হয়।

ওই দিনই ঋণ মঞ্জুরিপত্রটি শাখায় পাঠানো হয়। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে একই দিনে গ্রাহকের হিসাবে ২৫ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।দুদকের তদন্ত থেকে জানা যায়, ভুয়া জামানত, জাহাজের মূল্য যাচাই না করা, ঋণ সম্পর্কে সিআইবির ক্লিয়ারেন্স না থাকা, গ্রাহকের ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা যাচাই না করে ওই পরিমাণ টাকা প্রদান করা হয়।

এসএফজি শিপিং: এসএফজি শিপিং লাইনের এমডি সৈয়দ গোলাম হোসেন গুলশান শাখায় ৬০ কোটি টাকার ঋণের আবেদন করেছিলেন ২০১২ সালের ৭ এপ্রিল। হিসাব খুলেছিলেন এর আগের দিন। সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক শিপার আহমেদ আবেদনটি গ্রহণ করেন। জামানত হিসেবে গ্রাহকের দেওয়া ২৫১ শতাংশ জমি ছিল ত্রুটিপূর্ণ।

ঋণের বিপুল অর্থের বিপরীতেও তা ছিল অপর্যাপ্ত। আবেদনে জামানত দেখানো হয় গাজীপুরের শ্রীপুর থানার রাথুরা নামক স্থানের ২৫১ শতাংশ জমি। প্রতি শতাংশের দাম অতিমূল্যায়িত করে ১২ লাখ টাকা হিসাবে তিন কোটি ১২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়। জামানতের কাগজপত্র, গ্রাহকের ঋণ গ্রহণের যোগ্যতা যাচাই না করে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট ছাড়াই আবেদনের ৯ দিন পর ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল শাখা থেকে ঋণপ্রস্তাবটি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবটি কোনোরূপ যাচাই না করে পরিচালনা পর্ষদে পেশ করা হয়েছিল। পরে একই বছরের ১৯ এপ্রিল বাচ্চুর সভাপতিত্বে ৩১১তম পর্ষদ সভায় ৬০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর শাখা থেকে ঋণ মঞ্জুরিপত্র (ডকুমেন্টেশন) তৈরি করার আগেই সাবেক ডিএমডি ফজলুস সোবহানের নির্দেশে ৬০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়। বর্তমানে সুদ-আসলে তা হয়েছে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

৫৬ মামলার বর্তমান অবস্থা :ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হলেও দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৬টি মামলা করে। এতে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুলসহ ১২০ জনকে আসামি করা হয়। তবে বাকি দুই হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আর কোনো মামলা করা হয়নি। জানা গেছে, চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এসব মামলার চার্জশিট আদালতে পেশ করা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে একাধিকবার মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে।

দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে বিশেষ টিমের সদস্যরা বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলার তদন্ত করছেন। পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক পর্যায়ের ৯ কর্মকর্তা এসব মামলার তদন্ত করছেন। কোনো কোনো কর্মকর্তা ১০ থেকে ১১টি পর্যন্ত মামলা তদন্ত করছেন। জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তারা মামলাগুলোর তদন্তকাজ এরই মধ্যে শেষ করেছেন। কমিশনের সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন পেলেই আদালতে চার্জশিট পেশ করা হবে।

বাচ্চুকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা :২০১৭ সালের শেষ দিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাচ্চুসহ তৎকালীন পর্ষদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত সম্পন্ন ও আদালতে চার্জশিট পেশের জন্য দুদকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আদালতে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি মামলার আসামি ব্যাংকের বরখাস্ত জিএম জয়নুল আবেদীন চৌধুরীর জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সময় শুনানিকালে সাবেক প্রধান বিচারপতির এক প্রশ্নের জবাবে জয়নুল বলেছিলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। পর্ষদের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা ছাড়া তাদের কোনো উপায় ছিল না।

জয়নুলের ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এজলাসে উপস্থিত দুদকের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেছিলেন, পর্ষদের যারা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের মধ্যে কারও নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা না হলে সংশ্নিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই সময় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে দুদকের কাছে পাঠানো এক আদেশে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ ওই সময়কার পর্ষদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট পেশ করতে বলা হয়েছিল। তথ্যসূত্র: সমকাল।

More News Of This Category