1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

যে দেশটি ২০২০ সালে ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে

দক্ষিণ আমেরিকা হয়তো দুর্বল প্রবৃদ্ধি, অস্থিতিশীলতা ও কৃচ্ছ্রতানীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এতসব নেতিবাচক খবরের ভিড়ে একটি ছোট্ট দেশ বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে এগোচ্ছে। বলা হচ্ছে, ৭ লাখ ৮০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত গায়ানার কথা। দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে ব্রাজিল ও ভেনিজুয়েলার সীমানাঘেঁষে দেশটির অবস্থান।

চলতি বছরে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর আগামী বছর প্রবৃদ্ধিতে বিশাল এক লাফ দিতে চাচ্ছে দেশটি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর দেশটি ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে যাচ্ছে। দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি এক্সনমবিল তেল খুঁজে পাওয়ায় আগামী বছর চীনের চেয়েও ১৪ গুণ বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে লাতিন আমেরিকার এ দেশটি।

আগামী পাঁচ বছর গায়ানার অর্থনীতি তিন গুণ বেশি সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজধানী জর্জটাউন থেকে এক টেলিফোন সাক্ষাত্কারে অর্থমন্ত্রী উইনস্টন জর্দান বলেন, আমরা নিম্নস্তর থেকে বড় একটি লাফ দিতে যাচ্ছি। দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র ইংরেজি ভাষাভাষী এ দেশটির সম্ভাব্য উল্লম্ফনের পেছনে ভূমিকা রাখবে ২০১৫ সালে দেশটিতে অফশোর তেলক্ষেত্র আবিষ্কারের বিষয়টি।

এ মুহূর্তে দেশটি কোনো অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করছে না। যদিও তাদের প্রতিবেশী দেশ ভেনিজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে। গায়ানার ৪০০ কোটি ডলারের জিডিপি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্যের জিডিপির মাত্র এক-দশমাংশ হলেও ২০২৪ সাল নাগাদ তা দেড় হাজার কোটি ডলার ছাড়াবে বলে মনে করছে আইএমএফ।

সরকার তার আয় উপকূলীয় শহরগুলোর সঙ্গে মধ্যবর্তী শহরগুলোর সংযোগ স্থাপন করতে মহাসড়ক নির্মাণে ব্যয় করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী জর্দান। কম জনসংখ্যা অধ্যুষিত মধ্যবর্তী শহরগুলোতে স্বর্ণ, হীরা ও বক্সাইটের মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইএমএফের হিসাবে বলা হচ্ছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটির মোট অর্থনীতির ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করবে তেল খাত।

আইএমএফ অবশ্য বলছে, তাদের পূর্বাভাসে বড় সংশোধনও আসতে পারে। প্রত্যাশিত তেল উত্তোলনে অল্প পরিবর্তন সার্বিক অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দেশটির গভীর সমুদ্রে বৃহত্তম তেল ক্ষেত্র আবিষ্কারে হ্যাস করপোরেশন ও চীনের সিএনওওসির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এক্সনমবিল।

এক্সন বলছে, আগামী মাসেই প্রথম খনি থেকে তেল উত্তোলন শুরু করবে তারা। আর ২০২৫ সাল নাগাদ প্রতিদিন ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন করবে গায়ানা। গায়ানার জলসীমায় তেল অনুসন্ধান করা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে টোটাল এসএ, টিউলৌ অয়েল ও রেপসল এসএ।

প্রাথমিকভাবে লাভ ও রয়্যালটি ভাগাভাগির মাধ্যমে বছরে ৩০ কোটি ডলার আয়ের প্রত্যাশা করছে সরকার। ২০২২ সালে দ্বিতীয় অফশোর খনি থেকে উত্তোলন শুরু হলে তা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে। অর্জিত ওই অর্থ চলতি বছরে প্রতিষ্ঠিত দেশটির সার্বভৌম তহবিলে জমা হবে। অর্থমন্ত্রী জর্দান জানান, উপার্জিত অর্থ ‘আন্তঃপ্রজন্ম সঞ্চয়’ তেলের দামে ওঠানামায় সুরক্ষা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় ব্যবহার হবে।

More News Of This Category