আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও তার স্ত্রীর ৫০০ কোটির সম্পদ বাজেয়াপ্ত

আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বাদল এবং তার স্ত্রী সোমা আলম রহমানের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের আদেশ নিয়ে আজ এ ব্যবস্থা নেয় সংস্থাটি।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, এই দম্পতির ক্রোক করা সম্পদের দলিলমূল্য ২৫৩ কোটি টাকা হলেও বাজারমূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি।

দুদক জানিয়েছে, বাদলের ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ ব্যাংকের জিম্মায় এবং সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে থাকবে। দুদকের নথিতে থাকা তথ্যমতে, বাদলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৩০ কোটি ২৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৯৬ টাকার। আর তাঁর স্ত্রী সোমার সম্পদের পরিমাণ ১৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৭ টাকার।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মে সংস্থার উপপরিচালক শেখ আবদুস সালাম বাদী হয়ে লুৎফর রহমান বাদল ও সোমা আলমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত এখনো চলছে।

দুদকের সূত্রগুলো বলছে, বাদল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। সেখান থেকেই দেশে থাকা তাঁর সম্পদ বিদেশে স্থানান্তর ও অন্য নামে হস্তান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুদকের উপপরিচালক মোশারফ হোসাইন মৃধা ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতসহ নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী ও কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এই দম্পতির সম্পদ জব্দ ও ক্রোক চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বাদল দম্পতি যাতে ওই সম্পদ কোনো প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করতে না পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে বলা হয়। এ ছাড়া এই ব্যবসায়ী দম্পতির শেয়ার ও ব্যাংকের অর্থ ফ্রিজ (জব্দ) করতে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বাদলের সব সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন।

জব্দ করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে: লুৎফর রহমানের বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসের ৫ নম্বর রোডের ৬৮ নম্বর বাড়ি, বাড়িধারা মডেল টাউনের তিন তলা একটি বাড়ি, ধানমন্ডির রয়েল প্লাজা, বনানীর গলফ হাইটস, ভাটারার বাড়ি এবং কাকরাইল ও রমনার ভূমি।

জব্দ করা অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে—সাউথইস্ট ব্যাংকের একক ও যৌথ হিসাব, ওয়েসিস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ৫০ হাজার টাকার শেয়ার, সিনক্লিয়ার ফার্মাসিটিক্যালের ১ লাখ টাকার শেয়ার, লতিফ সিকিউরিটিস লিমিটেডের ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার, বিসি করপোরেশনের ৫০ হাজার টাকার শেয়ার,

ডায়াপার লিমিটেডের ৬০ লাখ টাকার শেয়ার, বেঙ্গল মিডিয়া করপোরেশনের ১ কোটি টাকার শেয়ার, আল মানার হাসপাতালের ৬৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার, ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৪১ লাখ ৮১ হাজার টাকার শেয়ারসহ অন্যান্য সম্পদ। তথ্যসূত্র: প্রথমআলো।

SHARE