1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

আকস্মিকভাবে বেড়ে চলছে রডের দাম

দেশের বাজারে রডের মূল্য এখন ঊর্ধ্বমুখী। কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় দাম বাড়ছে পণ্যটির। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু পাইকারি পর্যায়েই পণ্যটির দাম বেড়েছে টনে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা। দেশের ইস্পাতের চাহিদার বেশির ভাগ জোগান আসে চট্টগ্রাম থেকে। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে দেশের নির্মাণ শিল্পে বেশ চাঙ্গাভাব দেখা যায়। যদিও নির্বাচনের কারণে গত মাসে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে বেশ স্থবিরতা দেখা যায়।

নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকে আবারো গতি পায় নির্মাণ শিল্প। এরই ধারাবাহিকতায় দাম বাড়তে থাকে রডের। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে অস্বাভাবিক রকমের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা দেয় পণ্যটির বাজারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে রড ও রডের কাঁচামালের দরবৃদ্ধিও এক্ষেত্রে বড় একটি অনুঘটকের কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সাধারণ গ্রেডের রডের দাম। এ সময়ে প্রায় প্রতিদিনই দফায় দফায় বেড়েছে পণ্যটির দাম। বর্তমানে মিল গেটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি টন সাধারণ গ্রেডের (৪০০ ওয়াট) এমএস রড বিক্রি হচ্ছে ৫১-৫২ হাজার টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও মিল গেটে একই মানের রড বিক্রি হচ্ছিল ৪৭ হাজার থেকে সাড়ে ৪৭ হাজার টাকার মধ্যে। সে হিসাবে এ সময়ের মধ্যে সাধারণ গ্রেডের রডের দাম বেড়েছে টনে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

একই সময়ের মধ্যে সেমি অটো (৬০ গ্রেড বা ৫০০ ওয়াটের সিল থাকলেও যেসব রড সেমি অটো মিলে উৎপাদন হয়) এমএস রডের দাম টনে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি টন সেমি অটো রড বিক্রি হচ্ছে ৫৩-৫৪ হাজার টাকার মধ্যে, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৫০-৫১ হাজার টাকার মধ্যে। চট্টগ্রামের বাজারে সাধারণ গ্রেড ও সেমি অটো এমএস রডের মধ্যে বলাকা, খলিল, মজিদ, ভাটিয়ারি, এসএল, এমএসআরএম (মানতি), আম্বিয়া ব্র্যান্ডের রডের চাহিদা ও বিক্রি বেশি।

রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা জানান, গত সপ্তাহে রডের বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানের রডের দাম বেড়েছে বেশি। নির্মাণ শিল্পে চাঙ্গাভাবের কারণে বাজারে এখন এসব রডের চাহিদা বেশি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহের গতি কম হওয়ায় বাজারে পণ্যটির দাম বাড়ছে দ্রুত। মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি পর্যায়ের ক্রেতাদের মধ্যেই এ ধরনের রডের চাহিদা থাকে বেশি।

একই কথা বলছেন ব্যবসায়ীরাও। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও বিলেটের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে গত মাসে নির্বাচনের কারণে নির্মাণকাজে গতি ছিল কম। বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণকাজের গতি বাড়ায় চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে রডের দামও বেড়েছে।

সাধারণ গ্রেডের রডের পাশাপাশি ৬০ গ্রেড (৫০০ ওয়াট) এমএস রডের বাজারও কিছুটা বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি টন ৬০ গ্রেডের রড বিক্রি হচ্ছে ৬১-৬৩ হাজার টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও এর মূল্য ছিল টনপ্রতি ৬০-৬২ হাজার টাকা। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রডের দাম বেড়েছে টনে ১ হাজার টাকা।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৬০ গ্রেডের রডের মূল্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর মধ্যে প্রতি টন বিএসআরএম রড ৬৩ হাজার ১০০-৬৩ হাজার ২০০ টাকায়, কেএসআরএম ৬২ হাজার টাকায়, একেএস ৬২ হাজার এবং আরএসআরএম, জিপিএইচ ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের রড ৬১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রামের পাইকারি রডের বাজার আসাদগঞ্জের মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এসএম কামরুজ্জামান বলেন, মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে সাধারণ গ্রেডের রডের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি মিলগুলোয় সংকটের কারণে গত কয়েক দিনে রডের দাম আরো বাড়ছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেট করে পণ্যটির দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন এ ব্যবসায়ী।

সালেহ স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক ইকবালবলেন, নির্বাচন ঘিরে গত কয়েক মাসে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বড় ধরনের কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ ছাড়াই নির্বাচন শেষ হওয়ায় গত সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে চাহিদা বাড়ায় সাধারণ গ্রেডের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কাঁচামালের দাম স্বাভাবিক ও কারখানাগুলোয় পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় উচ্চ গ্রেডের রডের দামে খুব একটা পরিবর্তন হবে না। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা।

More News Of This Category