আকিজ গ্রুপের ঐতিহ্যবাহী টোব্যাকো ব্যবসাটি বিক্রির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জিং!

৭৩ বছর ধরে ব্যবসা করলেও আকিজ গ্রুপের শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ নব্বইয়ের দশকে। গ্রুপের সবচেয়ে লাভজনক তামাক ব্যবসা সম্প্রতি বিক্রি করেছে তারা। ব্যবসায় আরো বেশি বৈচিত্র্য আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রেখেছে গ্রুপটি। এসব নিয়েই সম্প্রতি কথা বলেছেন আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন।

বিনিয়োগের জন্য আকিজ গ্রুপ বিদেশমুখী হচ্ছে। আবার বিদেশী প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের ব্যবসার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। আকিজ গ্রুপ কোনো রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি?

অধিগ্রহণ বা বৈচিত্র্য সংযোজন যেটাই বলুন আমরা তা করছি ব্যবসার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে। আমাদের তামাক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান। এটি সম্পন্ন হবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ। এ সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা না বলতে আমরা চুক্তিবদ্ধ। সাধারণভাবে বলা যায়, আকিজ একটি ক্রমবিকাশমান প্রতিষ্ঠান।

প্রতিদিন না হলেও ব্যবসার শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমার বাবা বালক বয়সে খুবই স্বল্প পুঁজি নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। সেদিন থেকে এখন যে অবস্থানে আছি, পুরো সময়টিতে আমরা রূপান্তরিত হয়েছি। আরো রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় আছি।

এটা অবশ্যই বলব, বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যবসায়ী হিসেবে আমাদের জন্য এ ব্যবসাকে বৈচিত্র্যময় করা বা বিক্রি করা বেশ চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত। প্রতিষ্ঠানের ভেতরের ও বাইরের চ্যালেঞ্জগুলো আমলে নিয়েই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তামাক ব্যবসা থেকে বের হয়ে যাব, এটা ছিল আমাদের সচেতন সিদ্ধান্ত। সে অনুযায়ী আমরা এ ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় আছি।

আয়ের বড় উৎস হওয়া সত্ত্বেও সিগারেটের ব্যবসা থেকে আকিজ গ্রুপ বেরিয়ে আসছে কেন?
আয় বিবেচনায় এটিই আমাদের গ্রুপের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। আকিজ গ্রুপের সবচেয়ে বড় ক্যাশ কাউ বা নগদ অর্থের বড় উৎস এটি। ব্যবসাটি আকিজ গ্রুপের ঐতিহ্য বহন করছে। আমার বাবা যখন পাটের ট্রেডিং করতেন, তখন সেটি ছিল আমাদের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস।

বস্তুত আমাদের ব্যবসায়িক পুঁজি সঞ্চয়নের সূচনা বা মূলধনের পত্তন শুরু হয়েছিল পাট দিয়েই। বাবার ক্ষেত্রে একটি বিষয় প্রযোজ্য ছিল, তা হলো— তিনি ছাই ধরলেও সোনায় পরিণত হতো। ব্যক্তি হিসেবে তিনি অসাধারণ প্রতিভাবান ছিলেন। ব্যবসায়ী হিসেবে ভীষণ মনোযোগী, ফোকাসড ছিলেন। তার শুরু করা প্রতিটি ব্যবসাই আমাদের মুনাফা দিয়েছে।

গোড়াতেই মুনাফা না এলেও পর্যায়ক্রমে এসেছে। টোব্যাকো ব্যবসাটি অবশ্যই মুনাফার বড় উৎস। সবকিছুকে যদি সমন্বিতভাবে দেখেন, তাহলে অনুধাবন করতে পারবেন, এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দৃঢ় মানসিক অবস্থান জরুরি। তা না হলে এ ধরনের সিদ্ধান্তে আসা যায় না।

এ বিষয়গুলোর সমন্বয়ে চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা দৃঢ় একটি মানসিক অবস্থান থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ ছিল না। সিগারেটের ব্যবসাটা পরিচালনা করি আমি। এ ব্যবসা বিক্রির প্রস্তাবও আমারই ছিল। আমার অন্য ভাইয়েরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেননি। আমার প্রস্তাব তারা সানন্দে মেনে নিয়েছেন।

জাপান টোব্যাকোর (জেটি) সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেন কীভাবে?
আপনারা নিশ্চয়ই এনবিও বা নন বাইন্ডিং অফার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এ অফার অনুযায়ী আমরা প্রক্রিয়াটির গোপনীয়তা বজায় রাখতে বাধ্য। তাছাড়া জেটি যেহেতু একটা লিস্টেড কোম্পানি, এ তথ্য ওদের জন্য সংবেদনশীল। এমন কিছু বলাটা আমার উচিত হবে না, যা এ ট্রানজেকশনের জন্য ক্ষতির কারণ হয়।

জাপানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যবসা বিক্রির পেছনে কৌশলগত কোনো কারণ ছিল কি?
আমরা যতগুলো ক্রেতার সঙ্গে কথা বলেছি তার মধ্যে পার্সোনাল কেমিস্ট্রি ওদের সঙ্গে ভালো কাজ করেছে। আমাদের জাপানভিত্তিক কোনো ব্যবসা নেই। আমরা যেহেতু জিরো ডিভিডেন্ড কোম্পানি, তাই যে বিক্রয় প্রসিড আসবে তা থেকে কোনো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করব না আমরা। এটা শতভাগ পুনর্বিনিয়োগ হবে।

এত বড় আকারের জাপানি বিনিয়োগ যেহেতু এখানে হচ্ছে, তাই এ ধারাবাহিকতায় জাপান আরো অনেক ব্যবসার উৎস হতে পারে। ভবিষ্যতে কে আসবে সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তবে অনেক জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমরা আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি। তারা আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছে। এটা দারুণ ব্যাপার। বিভিন্ন পক্ষের এসব আগ্রহকে কোল্যাটারাল বেনিফিটস বলতে পারেন।

ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে আকিজ গ্রুপের অভিজ্ঞতা কেমন?
আমরা যখন মালয়েশিয়ায় অধিগ্রহণ করি অথবা যখন নতুন কোনো ব্যবসায় যাই, যেমন আমরা সমুদ্রগামী জাহাজের ব্যবসা করি— এগুলো আমাদের জন্য ব্যবসার ক্ষেত্র হিসেবে সম্পূর্ণ অপরিচিত। এ খাতগুলোয় কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। তবে আমরা মনে করেছি এ ক্ষেত্রগুলোর সম্ভাবনা ভালো।

মূলত এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে কয়েকটি নিয়ামকের ওপর। এর একটি হলো অর্থনৈতিক যোগ্যতা। জিরো ডিভিডেন্ড কোম্পানি হওয়ায় আমরা কোনো ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ ঘোষণা দেই না। এর ফলে ব্যবসাগুলোর আয় আমরা রিটেইন বা সংরক্ষণ করতে পারি। এ সুবিধার কারণেই আমাদের কোম্পানি নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারে।

বিদ্যমান ব্যবসারও সম্প্রসারণ করতে পারে। আমরা দুটোই করি। বিদ্যমান ব্যবসাগুলোকে সম্প্রসারণ করি আবার নতুন ব্যবসার দিকেও যাই। সম্প্রতি আমরা চা বাগান অধিগ্রহণ করেছি। আরো দুয়েকটি অধিগ্রহণ নিয়ে কথাবার্তা চলছে। দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে উভয়ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ব্যবসা দেখছি। এভাবে আমরা প্রতিদিনই বিকশিত হচ্ছি।

আমাদের জন্য রূপান্তর হলো নতুন নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে বিচরণ করা। যেমন শিপিং ব্যবসা। এখন আমাদের সাতটি সমুদ্রগামী জাহাজ আছে। এ ব্যবসার শুরু একটা দিয়েই করেছিলাম। দ্রুততার সঙ্গে আমরা সাতটিতে পৌঁছে গেছি। এখন আমরা আরো তিনটি জাহাজের বিষয়ে ভাবছি। এভাবে আমরা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি হওয়ার আশা করছি।

৩৫-৪০টির মতো কোস্টাল ভেসেলও নিয়ে আসছি আমরা। আকিজ গ্রুপ একটা বহুমুখী বা ডাইভারসিফায়েড প্রতিষ্ঠান। আমার বাবাই এ প্রতিষ্ঠানকে ডাইভারসিফায়েড করেছেন। তখন তিনি একা ছিলেন। এখন আমরা পাঁচ ভাই এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় আছি। পাঁচ ভাইয়ের বৈচিত্র্যময় ব্যবসায়িক আগ্রহ নিয়ে আজ আমরা ব্যবসা করে চলেছি।

মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের মাধ্যমে আকিজ গ্রুপ বৈশ্বিক রূপ পেয়েছে। এ অর্জনের পথটা কেমন ছিল?
মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার নিয়মনীতি সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করেই হয়েছে। ওখানে অর্থায়ন করেছে ডিইজি নামে একটা জার্মান সংস্থা। এটা জার্মান সরকারেরই সাবসিডিয়ারি, যারা আন্ডারটেকিং নিয়ে উন্নয়নমূলক অর্থায়নগুলো করে।

এ বিনিয়োগের জন্য দেশের ভেতরে, মালয়েশিয়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে জার্মান বিধিবিধান অনুসরণে কঠোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের। জার্মান সংস্থাই বেশির ভাগ অর্থায়ন করেছে। আমরা তো দেশ থেকে শুধু ২ কোটি ডলার নিতে পেরেছি। বাকি যে অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে, তার বেশির ভাগই ডিইজির মাধ্যমে এসেছে।

তারা এ অধিগ্রহণে মূল অর্থায়নকারী হিসেবে এসেছে। অন্যরা থাকলেও ডিইজি হচ্ছে আমাদের অর্থায়ন সহযোগী। এছাড়া এ বিনিয়োগে বড় সহযোগীর ভূমিকায় ছিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। মূল অর্থায়নকারী হিসেবে ডিইজি যে স্বস্তিটা আমাদের দিয়েছে, সেটা পেতে যত পদক্ষেপ আমাদের অনুসরণ করতে হয়েছে তা ছিল বড় অভিজ্ঞতা।

আমাদের জন্য স্বীকৃতিটা হলো— আমরা বৈশ্বিক কার্যক্রম (গ্লোবাল অ্যাকটিভিটিজ) করতে পারি। এটা আমাদের জন্য বড় স্বীকৃতি বলতে পারেন। মালয়েশিয়ায় যে বিনিয়োগ করেছি একই ধরনের বিনিয়োগ আমাদের বাংলাদেশেও আছে। বাংলাদেশে আমরা যে পার্টিকেল বোর্ড তৈরি করি, তার ওপর প্রিন্টিং ফ্যাসিলিটিটা দেশের কারখানায় নেই, যেটা মালয়েশিয়ার কারখানায় এমডিএফ বোর্ডের ওপর করা যায়।

তবে বাংলাদেশে আমাদের প্রকল্পটি মালয়েশিয়ার প্রকল্প থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। আমরা নতুন কারখানা করেছি। আর ওখানকার কারখানা তো ২০ বছরের পুরনো। বাংলাদেশে আমাদের প্রকল্প অনেক বেশি আধুনিক। ওরাও বাংলাদেশের কারখানা দেখে হতবাক হয়েছে। মালয়েশিয়ার কারখানায় তৈরি পণ্য এখন বাংলাদেশেও আমদানি হচ্ছে।

রবিন রিসোর্সের বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্য, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে। রবিন রিসোর্সের মাধ্যমে এ বাজারগুলোয় আমাদের জন্য খুব ভালো একটি প্রবেশপথ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি পার্টিকেল রফতানিতে এটা বাড়তি সুবিধা দেবে। এমডিএফ বোর্ডের কাঁচামাল মূলত রাবার উড। মালয়েশিয়ায় রাবার উড উদ্বৃত্ত থাকে। পরিবেশ-সংক্রান্ত কোনো জটিলতাও নেই। বাসাবাড়িতে বেড়ে ওঠা রাবার গাছই কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পঞ্চাশের দশক থেকে এখন পর্যন্ত শিল্পায়নে আকিজ গ্রুপের বিকাশ সম্পর্কে কিছু বলুন।
৭৩ বছর ধরে ব্যবসা করছে আকিজ গ্রুপ। বাংলাদেশে শিল্পায়নের ইতিহাস লক্ষ্য করলে দেখবেন, নব্বই দশক থেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে শিল্পায়ন ব্যাপক হারে বেড়েছে। আকিজ গ্রুপের ক্ষেত্রেও শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ এ সময়টাতেই হয়েছে।

নব্বই দশকে আমরা অনেকগুলো নতুন শিল্পে বিনিয়োগ করেছি। এর আগেও আমরা ব্যবসার বিকাশ ঘটিয়েছি। যদি ক্ষুদ্র শিল্প থেকে চিন্তা করেন, তাহলে আকিজের বিকাশ শুরু হয়েছে পঞ্চাশের দশকে। ষাটের দশকে এক ধরনের ব্যবসা ছিল আমাদের, যা অনেকাংশেই অযান্ত্রিক।

সত্তরের দশকে মোটরচালিত কারখানা, অর্থাৎ যে কারখানাগুলোয় মোটর প্রয়োজন পড়ে, তেমন কারখানা শুরু করেন আমার বাবা। তবে এগুলোকে ভারী শিল্প বলা যাবে না। যেমন সত্তর দশকে আমরা একটা প্রিন্টিং-প্যাকেজিং কারখানা করেছিলাম। ওই বিষয়টি ছিল ম্যানুয়াল থেকে বেরিয়ে আমাদের প্রথম মোটরাইজড ব্যবসায় অংশগ্রহণ।

সেটা ছিল বড় ধরনের রূপান্তর। আশির দশকে আমরা বেশকিছু নতুন ব্যবসায় মনোনিবেশ করি। এভাবে রূপান্তর হয়েই আসছি আমরা। নব্বইয়ের দশকে আমরা বস্ত্র খাতে আসি। এ সময় আমরা আরো অনেক নতুন ব্যবসায় জড়াই, যেমন সিমেন্ট, পার্টিকেল বোর্ড মিল। এরপর ১৯৯৭ সালে আমরা জুট মিলও শুরু করি।

২০০০ সালের পর এ ব্যবসাগুলো সম্প্রসারণের পাশাপাশি আমরা নতুন আরো কিছু ব্যবসা শুরু করি। ২০১০ সালে আমরা সিরামিকের ব্যবসা শুরু করলাম। এভাবে সব দশকেই আমরা ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছি। আকিজ গ্রুপের সূচনা থেকে সামগ্রিকভাবে দেখলে আশি ও নব্বইয়ের দশকেই ব্যবসার ব্যাপ্তিটা বেশি ছড়িয়েছে।

বর্তমানে আকিজ গ্রুপে মোট কর্মসংস্থান এবং টার্নওভার কত?
আমাদের ব্যবসার একটি অংশ আমার বড় ভাইয়েরা ম্যানেজ করেন। ওটা যদি ধরা হয়, তাহলে মোট কর্মসংস্থান ৭০ হাজারের বেশি। আর ওটা বাদ দিলে আমাদের এখানে ৫০-৫৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আমাদের টার্নওভার গত বছর পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

বিদ্যমান গ্যাস সংকট বা সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী দিনগুলোয় আকিজ গ্রুপের বিনিয়োগ পরিকল্পনা কেমন? পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

আমরা নতুন বিনিয়োগ ও অধিগ্রহণের কাজ করছি। ব্যবসায়ের নতুন খাত নিয়েও ভাবছি। সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস প্রাপ্তিটা কিছু সহজ হতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। এলএনজিও আসছে। এ অবস্থায় আমাদের জন্য সামনে আরো সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছি। আমরা বিদ্যমান বিনিয়োগগুলো সম্প্রসারণ করব।

টেক্সটাইল হোক বা রফতানিমুখী অন্যান্য শিল্প হোক, আমরা বড় ধরনের বিনিয়োগের চিন্তা করছি। আরো বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে। এ মুহূর্তে সাতটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আমরা কাজ করছি। এর মধ্যে আছে খাদ্য খাতে বেকারি অ্যান্ড বিস্কিট, প্লাস্টিক খাতে পিভিসি পাইপ ও হাউজহোল্ড ওয়্যার, বিয়াক্স ফিল্ম। এছাড়া ব্যবসা সম্প্রসারণ হচ্ছে সিমেন্ট, ফ্লাওয়ার মিল ও পলিফাইবারে।

সিরামিক খাতে টাইলসের পাশাপাশি টেবিলওয়্যার ও স্যানিটারি পণ্যও উৎপাদন হবে। এর মধ্যে বেশকিছু প্লান্ট এখন থেকে আড়াই বছরের মধ্যে উৎপাদনে আসবে। একদম নতুন বা গ্রিনফিল্ড প্রজেক্টগুলোয় বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া পরিকল্পনাধীন আছে ৮ থেকে ১০টি প্রজেক্ট।

বিনিয়োগ ও ব্যবসার গতি নির্ধারণে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? আকিজ গ্রুপের গতি এখন কেমন, আগ্রাসী না স্থিতিশীল?
ব্যবসা বা বিনিয়োগের গতি নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় কাজ করে। শুধু যে পুঁজির জোগান বা অ্যাকসেস টু ক্যাপিটাল থাকলে বিনিয়োগ করব, তা নয়। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা। আমাদের ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার বাইরে কিছু করব না।

যেখানেই বিনিয়োগ করি না কেন, তা বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়েই। কারণ যে কোনো উদ্যোগে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পিপল। আপনি যদি জনবল ব্যবস্থাপনা করতে না পারেন, তাহলে বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকুন। শুধু পুঁজির শক্তিতে ভর করে কোনো বিনিয়োগ সফল হয় না।

সাক্ষাত্‍কার নিয়েছেন বদরুল আলম, তথ্যসূত্র: বণিকবার্তা।

SHARE