আপনার সন্তানকে ভবিষ্যতে CEO হিসেবে দেখতে চাইলে ৩ ভাষা শেখান

Chief Executive Officer বা CEO হতে যে গুণ এবং যোগ্যতা থাকতে হয় তার মাঝে ভাষাগত দক্ষতা অন্যতম। যদি মনে করেন মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি জানলেই হয়ে যাবে তাহলে আপনার এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দেবে সাম্প্রতিক গবেষণা। ভাষা আল্লাহ্‌র একটা উপহার। মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও ভাষা শেখাও অনেক বড় একটা অর্জন।

আপনার জন্য বা আপনার সন্তানের জন্য নতুন ভাষা মানেই সেই ভাষাভাষী মানুষের সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হওয়া, যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়া, নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহ আরও অনেক দিক থেকেই এগিয়ে থাকা। কিন্তু প্রশ্ন হল পৃথিবীতে এত এত ভাষার মাঝ থেকে কোন কোন ভাষা শিখব? বা শুধু ইংরেজি জানলেই কি হয়ে যায় না? অবাক করা তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক গবেষণায়। আর তাতেই খুঁজে পাবেন আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর।

The Center for Economic and Business Research and Opinion এবং লন্ডনের Heathrow এয়ারপোর্ট একত্রে একটা স্টাডি করেছে এই বিষয়ে। সন্তানের দৈনন্দিন জীবনে ভাষা কিভাবে ও কতখানি প্রভাব ফেলে সেটার ওপর গবেষণা চালান বিশেষজ্ঞরা। তারা আরও বোঝার চেষ্টা করেন যে কোন শিশু পরিণত বয়সে ভাল নেতৃত্ব দিতে পারবে এবং নিজের পেশাগত জীবনে নিজের সেরাটা দিতে সক্ষম হবে।

“আমরা বিশ্বাস করি যে ভাষা শেখা হল সন্তানদের জন্য বিরাট এক লাভজনক বিষয়। এবং এটা ভবিষ্যতের জন্য সত্যিকারের এক বিনিয়োগ,” বলেন Antonella Sorace যিনি Developmental Linguistics এর প্রফেসর এবং এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির Bilingualism Matters এর ডিরেক্টর।

তো গবেষণায় একটা জরিপ চালানো হয় ২০০১ জন অভিভাবকের মাঝে যাদের সন্তানদের বয়স ১৮’র নিচে। সাথে আরও একটা জরিপ চালানো হয় ৫০০ জনেরও বেশি বিজনেস লিডারের মাঝে। তাহলে প্রশ্ন হল কোন ভাষাটা সবচে ওপরে উঠে এল? ফলাফল আমাদেরকে বলছে বাচ্চাদের (বা আপনার নিজেকেও) যে তিনটি ভাষা শেখাবেন সেগুলো হল ফ্রেঞ্চ, জার্মান, এবং/অথবা ম্যান্ডারিন।

যদি আগামি ১০ বছরের মাঝে বাচ্চাদের সফল দেখতে চান, ভাল মানের চাকরিতে দেখতে চান তাহলে এই ভাষাগুলো শেখান। দ্বিতীয় ভাষায় দক্ষতা থাকলে বিশ্ববাজারের নতুন নতুন মার্কেটের দ্বার উন্মোচিত হয়, এবং সম্ভাব্য অংশীদারের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। শুধু নতুন একটা ভাষায় কথা বলতে পারাই সব কিছু না। সেই ভাষার মানুষের কাছ থেকে, তাদের কালচার থেকে, প্রকাশিত বইপত্র থেকেও অনেক কিছু শেখার থাকে যেগুলোও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

“সন্তানদের সামনে যখন নতুন ভাষা আসে তখন তারা নিজেদেরকে সেই কালচার সম্পর্কে আরও সতর্কভাবে গড়ে তুলতে পারে, সেই ভাষার মানুষদের প্রতিও শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়, এবং তাদের মতামতকেও সম্মান জানাতে শেখে। এক ভাষা জানা মানুষের থেকেও তারা মাল্টিটাস্কিং (একসাথে একাধিক কাজ) ভাল পারে এবং পড়ার দিক থেকেও তারা এগিয়ে থাকে,” যোগ করেন সোরেস।

জরিপে আরও উঠে আসে যে ৮৫% অভিভাবকই মনে করেন মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও ভাষা সন্তানদের শেখা উচিত। এবং প্রতি চারজনে একজন বিশ্বাস করেন যে এতে তাদের ক্যারিয়ারে সুযোগ থাকবে, এবং চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। যাই হোক, ৪৫% অভিভাবক স্বীকার করেন যে তাদের সন্তান/সন্তানেরা দ্বিতীয় কোন ভাষা জানে না।

অভিভাবক হিসেবে এখন এটা আপনার ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হল। আপনিই সিদ্ধান্ত নিন যে আপনার সন্তানকে আপনি আর পাঁচ-দশজনের মত চাকরির পেছনে ছুটতে দেখবেন না কি এখন থেকেই ওদেরকে ঘষামাজা শুরু করে ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য করে তুলবেন। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

SHARE