1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

শাখা কমিয়ে আয় বাড়াতে চায় সোনালী ব্যাংক

লোকসানি শাখা কমাতে চায় রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটির ৯৩টি শাখা লোকসান গুনছে। আগামী বছরের মধ্যে লোকসানি শাখার সংখ্যা ৫০-এ নামিয়ে আনতে চায় ব্যাংকটি।

পাশাপাশি ঋণ বিতরণ বাড়িয়ে আয় বাড়াতে চায় সোনালী ব্যাংক। চলতি বছর ব্যাংকটি নতুন করে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে চায়। সরকারের কাজে জমা দেওয়া কর্মপরিকল্পনায় এসব লক্ষ্যের কথা জানিয়েছে সোনালী ব্যাংক।

সোনালী ব্যাংক তাদের কর্মপরিকল্পনার শুরুতে লিখেছে, খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায় সন্তোষজনক নয়। বছরের প্রথম সাত মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৪৫২ কোটি টাকা। এক অঙ্কের ঋণের সুদহারের কারণে পরিচালন মুনাফা কমেছে। বিদেশি মুদ্রার ব্যবসায় ৭ মাসে ক্ষতি হয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা।

ঋণ আদায় জোরদার, বিশেষ সুবিধার আওতায় খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার পরও চলতি বছর শেষে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বাড়বে ১০ হাজার কোটি টাকা।এই সময় সুনাম আছে এমন ব্যবসায়ী ও বড় গ্রাহকদের সিন্ডিকেট ঋণে যুক্ত হতে চায় ব্যাংকটি।

বিভিন্ন উদ্যোগের পরও চলতি বছর শেষে ব্যাংকটির অবস্থা কী দাঁড়াবে, তা-ও তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংকের খেলাপি ও অবলোপনকৃত করা ঋণের ৮৪ শতাংশ স্থানীয়সহ ২০ শাখায়। এসব ঋণ আদায়ে উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের তত্ত্বাবধানে আদায় কার্যক্রম জোরদারের কথা বলছে সোনালী ব্যাংক।

ব্যাংকটি বলছে, ব্যাসেল-৩ নীতিমালা বাস্তবায়নে ২০১৯ সালে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে সব মিলিয়ে সাড়ে ১৭ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজন হবে। বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হলে ২০১৯ সালে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়ে হবে ১০ হাজার কোটি টাকা। মুনাফার অর্থে এই পরিমাণ মূলধন ঘাটতি পূরণ প্রায় অসম্ভব।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ‘আমরা যে পরিকল্পনা করছি, তা পুরোটাই বাস্তবায়নযোগ্য। বছর শেষে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে ব্যাসেল-৩-এর কারণে মূলধনের চাহিদা বেড়ে গেছে। তাই পরিস্থিতির উত্তরণ হলেও ঘাটতি থেকে যাবে। এ জন্য আমরা নতুন কৌশল খুঁজছি।’ তিনি জানান, ভালো মানের ঋণ দিয়ে ও খেলাপি ঋণ আদায় করে ব্যাংকটির পরিস্থিতি উন্নতি করার চেষ্টা চলছে।

চলতি দশকের শুরুতে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির কারণে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে যায় ব্যাংকটি, যা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। গত বছর সরকারের সঙ্গে যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি করেছিল, তার বেশির ভাগই অর্জন করেছে সোনালী ব্যাংক।

নতুন পরিকল্পনায় ব্যাংকটি বলছে, সোনালী ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত মাত্র ৪২ শতাংশ। গত বছর শেষে আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা ও ঋণ ৪৬ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। এ জন্য ব্যাংক কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছে না।

তাই গুণগত ঋণ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এ জন্য চলতি বছরে ৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা ঋণ বৃদ্ধি করা হবে। ২০২০ সালে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ব্যাংকটি। বড় ভালো গ্রাহকদের পাশাপাশি কৃষি, এসএমই খাতের ঋণে জোর দিতে চায় সোনালী ব্যাংক।

২০১৮ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৬ শতাংশ। ২০১৯ সালের মধ্যে ১৯ শতাংশ ও ২০২১ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ ১২ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায় তারা। এ জন্য বিশেষ সুবিধার আওতায় ২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমাতে চায় ব্যাংকটি।

ব্যাংকটি বলছে, নির্বাচনের কারণে ২০১৮ সালে নগদ ১ হাজার ৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় হয়। চলতি বছরে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। অবলোপন ঋণ থেকে ২০১৮ সালে আদায় হয়েছিল ৯৫ কোটি টাকা, চলতি বছরে আদায় করতে চায় ৫০ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকটি সব কর্মকর্তাকে লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে। এ জন্য ডিএমডির নেতৃত্বে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি বছরে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা ও ২৭২ কোটি টাকা নিট মুনাফা করতে চায় ব্যাংকটি। ২০১৮ সালে পরিচালন ও নিট মুনাফা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ২৬ কোটি টাকা ও ২২৬ কোটি টাকা।

More News Of This Category