1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

ইঞ্জিনিয়ারদের যেসব ব্যবসায়িক দক্ষতা থাকা উচিৎ!

বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত পেশাদার প্রকৌশলীর চাহিদা বাড়ছে। আমেরিকান লেবার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে ২০২৬ সালের মধ্যে শুধু আমেরিকাতেই ১ লক্ষ ৪০ হাজার নতুন প্রকৌশলীর কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। যত বেশি প্রযুক্তি এবং শিল্পের বিকাশ ঘটবে কর্মক্ষেত্রে প্রকৌশলীর চাহিদাও তত বেশি বৃদ্ধি পাবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বিকাশের ফলে অধিকাংশ কাজ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু কিছু মানবীয় গুণাবলী এবং দক্ষতা আছে, যা কোনোভাবেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আয়ত্ত এবং বাস্তবায়ন করতে পারে না। যেমন: সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা এবং সৃজনশীল দক্ষতা প্রয়োগ।

তাই প্রকৌশলীদের প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি আরও কিছু বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন। ব্যবসা এবং চাকরি ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে প্রকৌশলীদের কারিগরি জ্ঞানের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ ব্যবসার জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরী। দীর্ঘদিন একটি পেশাদার কারিগরি পরিষেবা সংস্থায় কাজ করা প্রকৌশলী কাইল রোসনেমিয়ার বলেন, ‘কয়েক বছর কাজ করার পর আমি বুঝতে পারলাম অনেক পেশায় শেষ পর্যন্ত বসায়িক দক্ষতার প্রয়োজন হয়।

যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করা কোনো কর্মী ধীরে ধীরে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী পর্যন্ত উন্নীত হয়, তবে সমগ্র কর্ম জীবনে তার প্রকৌশলগত দক্ষতা কাজে লাগানোর চেয়ে ব্যবসায়িক দক্ষতা বেশি কাজে লাগাতে হয়।’ অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো বোঝা এবং সৃজনশীল উপায়ে ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানের জন্য প্রকৌশলীদের আয়ত্ত করার মতো কিছু বিশেষ দক্ষতা এখানে আলোচনা করা হলো।

কার্যকরী যোগাযোগ: প্রকৌশলীদের কাজ এতটাই প্রযুক্তিগত যে কখনও কখনও প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মীরা তাদের কাজের প্রভাব সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। তাছাড়া প্রকৌশলীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন যোগাযোগ দক্ষতা ভালোভাবে আয়ত্ত করে না। ফলে প্রতিষ্ঠানে তাদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অন্যদের সাথে সমন্বয় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রকৌশলীদের মধ্যে কার্যকরী যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে। জটিল প্রযুক্তিগত বিষয় সহজভাবে প্রকাশ করে অন্যান্য কর্মীদের কাছে বোধগম্য করে তোলার দক্ষতা থাকতে হবে।

পরিচালনার দক্ষতা: আধুনিক যুগের পেশাসমূহে প্রকৌশলীরা সাধারণত তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। তাই একজন প্রকৌশলীর মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী এবং দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষতা থাকতে হবে। প্রকৌশলীদের ব্যবসায়ী নেতাদের মতো কোম্পানির নেতৃস্থানীয় কাজ পরিচালনা করতে হয় তাই ব্যবসায়ীক দক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়।

সহকর্মীদের অনুপ্রাণিত রাখা, নিজের কাজ এবং দক্ষতা দ্বারা প্রভাবিত করা, কার্যকর ভাবে বিভিন্ন কৌশল বাস্তবায়ন করা এবং প্রতিনিয়ত নতুনত্বের সাথে দলকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দক্ষতা থাকতে হবে। এক কথায় আধুনিক যুগের প্রকৌশলীদের ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরী।

সৃজনশীলতা একজন: প্রকৌশলীকে প্রতিনিয়ত জটিল জটিল সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তিগত এবং ব্যবসায়িক নানা সমস্যার সমাধান করে সামনে এগোতে হয়। তাই প্রকৌশলীদের মধ্যে সৃজনশীল উপায়ে চিন্তা করা, এবং ছোট ছোট বিষয়গুলো উপেক্ষা করে বড় লক্ষ্যের দিকে মনোযোগী থেকে কাজ করার সৃজনশীলতা থাকতে হয়।

বাজার গবেষণা সংস্থা ফরেস্টারের জরিপে দেখা গেছে ৮২ শতাংশ প্রধান নির্বাহী কোম্পানির সাফল্যে সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তারা মনে করে কোম্পানির আয় বাড়ানো এবং বৃহৎ বাজার সৃষ্টি করার জন্য সৃজনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার এত কল্যাণকর দিক থাকা সত্ত্বেও ৬১ শতাংশ নির্বাহি তাদের প্রতিষ্ঠানে সৃজনশীলতার অভাব বোধ করেন। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের জন্য প্রকৌশলীদের পরিকল্পিত লক্ষ্য এবং নিজের গণ্ডির বাইরে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা থাকতে হবে।

অর্থনৈতিক হিসাব নিকাশ: অর্থনৈতিক হিসাব জানা সব পেশার মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকৌশলীদের জন্য আরও একটু বিশেষভাবে জরুরী। অর্থনৈতিক হিসাব প্রকৌশলীকে প্রাতিষ্ঠানিক সমৃদ্ধি ও লাভ ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কাজের প্রভাব উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। গৃহীত প্রকল্পের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কোম্পানির সামগ্রিক বাজেট বুঝতে সহায়তা করে।

অর্থনৈতিক হিসাব নিকাশ না জানলে প্রকল্প ব্যয় পরিচালনায় প্রকৌশলীরা হিমশিম খায় ফলে প্রকৌশলীরা আরও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে এবং অর্থ প্রবাহের উপর ভিত্তি করে প্রকল্পে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করতে পারে। বিপরীতে জটিল অর্থনৈতিক হিসাব নিকাশ না জানা প্রকৌশলীরা প্রকল্পের বাজেট নির্ধারণ এবং খরচ নিরূপণের জন্য হিমশিম খায়, এবং সব সময় অর্থনৈতিক
বিশেষজ্ঞের পরামর্শের উপর নির্ভর করে।

সুযোগ সৃষ্টি এবং নতুন আইডিয়া: প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চমক সৃষ্টি করছে। যার ফলে বর্তমান জটিল অর্থনৈতিক বাজারে সুনির্দিষ্ট পণ্য বা সেবা নিয়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই প্রকৌশলীদের নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী আইডিয়া থাকতে হবে। উঠতি বাজার চাহিদা এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার দক্ষতা থাকতে হবে।

আলাপ আলোচনার দক্ষতা: প্রকৌশলীদের প্রায়ই ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের জন্য দলবেঁধে কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দল এবং ব্যক্তির সাথে আলোচনা করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আলাপ আলোচনার জটিলতা এবং প্রকৌশলগত বিদ্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আলাপ আলোচনা বা দর কষাকষির দক্ষতার অভাবে শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলীরাও চতুর ব্যবসায়ীদের কাছে হেরে যান এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

যেকোনো প্রকল্পে প্রত্যেক অংশীদারের ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বোঝা এবং সমগ্র দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সমন্বয় করতে পারার দক্ষতা এ ক্ষেত্রে খুব জরুরী। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে সবার বিশ্বাস স্থাপন করা, সবাইকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য প্রস্তুত করা এবং আলোচনার ভিত্তিতে নিজের প্রাপ্য অধিকার আদায় করে নেওয়ার দক্ষতা প্রকৌশলীকে সফল করে তুলতে পারে।

নীতি-নৈতিকতা: প্রকৌশলীরা তাদের কাজের মাধ্যমে সমাজে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের উদ্ভাবিত পণ্য এবং প্রযুক্তি সুবিধা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। সুতরাং প্রকৌশলীর নীতি-নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৌশলীরা যেহেতু মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিকতার উপর স্পষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তাই তাদের উদ্ভাবিত পণ্য এবং প্রযুক্তি দ্বারা মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। সুতরাং সমাজের প্রয়োজনে প্রকৌশলীর নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category