1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

ইসলামের দৃষ্টিতে দালালি পেশার বৈধতা- অবৈধতা

বাস্তব সমীক্ষার প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দালালি কর্মটি অনেকভাবে হয়ে থাকে। যথা : (১) ক্রেতার পক্ষে দালালি, (২) বিক্রেতার পক্ষে দালালি, (৩) উভয়পক্ষের হয়ে দালালি, (৪) পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দালালি, (৫) পারিশ্রমিক বা কোন প্রকার বিনিময়বিহীন দালালী, (৬) ব্যক্তি ইমেজ বা ব্যক্তির সামাজিক সম্মান-সুনামের বিনিময়ে ২/১টি কথা বলে বা একটু সুপারিশ করে ক্রয়-বিক্রয় করিয়ে দেয়া, (৭) পেশা হিসেবে দালালি করা,

(৮) ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র বা আড়তের নির্দিষ্ট রীতি মোতাবেক প্রতি পণ্য বা চালান বা বিলের বিপরীতে শতকরা বা একটি নির্দিষ্ট অংকে ধার্যকৃত হারে দালালি করা, (৯) নির্দিষ্ট না করে ক্রেতা বা বিক্রেতা সন্তুষ্টচিত্তে দালালকে কিছু সম্মানী/ হাদিয়া/ বখশিশ নামে প্রদান করা এবং বিনা বিবাদ ও বাক্যে দালালের তা গ্রহণ করে নেয়া, (১০) ক্রেতা/বিক্রেতার ধার্যকৃত অংকের বা অবগতির বাইরে অতিরিক্ত বা কম মূল্যে বিক্রয় করে বা ক্রয় করে তা নিজে গ্রহণের মাধ্যমে দালালি করা, (১১) বিয়ের দালালী ইত্যাদি।

‘ওকালাত’/‘শাফা‘আত’/‘দালালি’ শব্দত্রয় যথাক্রমে ‘প্রতিনিধিত্ব করা’ বা ‘সুপারিশ করা’ বা ‘কারও পক্ষ হয়ে কাজ করা’—এগুলো পরস্পর ভাবার্থ বিবেচনায় অনেকটা কাছাকাছি মনে হলেও পারিভাষিক বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও পৃথক বিধি-বিধানসংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে। উদাহরণত কারো প্রতিনিধি হয়ে কাজ করার জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাকে নিযুক্ত হতে হয় কিংবা অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হয়। কিন্তু দালালি করার ক্ষেত্রে তেমনটি জরুরি নয়; যদিও তেমনটি বাঞ্ছনীয় ছিল।

একইভাবে সুপারিশ কর্ম ও দালালি কর্মে বিধানগত বিভিন্ন পার্থক্যের পাশাপাশি অন্যতম পার্থক্য হচ্ছে, সুপারিশ কর্ম অন্যায় বা মন্দ কাজে হয়ে থাকলে তার ইহকালীন দায়-দায়িত্বের পাশাপাশি পরকালীন মারাত্মক পরিণতি আছেই; আর তা যদি ভালো ও কল্যাণ কাজে হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে কোনো পারিশ্রমিক/সম্মানী গ্রহণ করা না জায়েজ এবং তা দালালির বিধি মোতাবেক ঘুষ-উেকাচরূপে পরিগণিত। (তাফসীর মা‘আরিফুল কুরআন, সৌদি ছাপা, পৃ. ২৭০-২৭১) পক্ষান্তরে মিথ্যা ও প্রতারণা ইত্যাদি মুক্ত বিধি মোতাবেক দালালির পারিশ্রমিক/ বিনিময় হালাল ও বৈধ হয়ে থাকে।

দালালি পেশা বা দালালি কর্মটি শরিয়তের ব্যাখ্যা ও বৈধতার মাপকাঠি মোতাবেক হতে হবে, অর্থাত্ দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি বা মৌখিক বক্তব্য বা ওয়াদা অনুযায়ী দালালের শ্রম/যাতায়াত/দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে কাগজপত্র ইত্যাদির ফটোকপি সংগ্রহ ও সরবরাহ কাজে সময়দান এবং যথাসাধ্য সংশ্লিষ্ট ক্রয়-বিক্রয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভুয়া-সঠিক-বেঠিক, নিষ্কণ্টক বা নিষ্কণ্টক নয়, ইত্যাদি জানার পাশাপাশি তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক এত… টাকা বা শতকরা এত অংশ নির্দিষ্ট বা নির্ধারিত হওয়ার প্রাক-শর্ত স্পষ্ট থাকা চাই।

তার কারণ, সে যদি সংশ্লিষ্ট কর্মের ভালো-মন্দ, সঠিক-বেঠিক/ভুয়া বা জাল-ভেজাল না বুঝে কিংবা তাতে ত্রুটি-প্রতারণা থাকা সত্ত্বেও মধ্যস্বত্ব ভোগের লোভে অন্যায়ভাবে ক্রেতা/বিক্রেতাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত হয় তাহলে প্রকারান্তরে সেও নিজ অর্পিত বা উপযাচক হয়ে কৃত কর্মে অযোগ্য, অদক্ষ ও প্রতারক বলে গণ্য হবে।

যে কারণে তেমন ক্ষেত্রে কোনোভাবেই দালালি কর্মকে বৈধ বলা যাবে না। তেমন কিছু ঘটলে সে ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতার প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির অপরাধের শাস্তির মধ্যে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দালালও অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। লেখক: মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক।

More News Of This Category