উদ্যোক্তা নিয়ে ব্যবসা, উদ্যোক্তার জন্য ব্যবসা!

বিবিসিতে একটা আর্টিকেল পড়লাম, উদ্যোক্তা কি জন্মগতভাবেই উদ্যোক্তা নাকি উদ্যোক্তা তৈরি করা যায়? এ নিয়ে। আসলে প্রশ্নটা জটিল। মূল বিষয়ে যাবার আগে একটা গল্প করা যাক। বিসিএস অনেকের টার্গেট প্লেস। এই সোনার হরিণের পিছনে অনেকেই ছুটেন। কারো নাগালে ধরা দেয়, আবার কারো দেয় না।

এখানে কিন্তু চমৎকার একটা বিজনেস আইডিয়া আছে। আপনি বিসিএসে টিকতে না পারলে ব্যবসা করতে পারেন। যারা বিসিএসের জন্য ট্রাই করছেন তাদের নিয়ে। সেটা কীভাবে? এর উজ্জ্বল উদাহরণ, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, কোচিং সেন্টার। তেমনিভাবে আপনি যদি উদ্যোক্তার পথে হেঁটে বার বার হোঁচট খেয়ে থাকেন তবে করতে পারেন উদ্যোক্তাদের নিয়ে ব্যবসা! সেটা কীভাবে?

প্লাটফর্ম বানিয়ে! ব্যাপারটা শুরু হতে পারে গ্রুপ বানিয়ে, তাদের ট্রেইনিং দিয়ে, গল্প শুনিয়ে। তাদের একটা কথাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলতে হবে- লক্ষ্য অটুট রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে অথবা একই টপিকের উপর লিখতে পারেন বইও, দিতে পারেন বক্তৃতাও টাকার বিনিময়ে।

আপনি যদি আপনার নিজের লক্ষ্য অটুট রেখে এগিয়ে যান তবে দেখবেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার প্লাটফর্মের পিছনে ঘুরছে একসময়। তাদের লক্ষ্য- ঋণ দেবার জন্য যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন। প্লাটফর্মের জন্য ওয়েবসাইট হলেও মন্দ হয় না। অ্যাড পাবার সম্ভাবনা এক্ষেত্রে অনেক বেড়ে যাবে।

কর্পোরেটগুলো লুফে নিবে ব্যাপারটা। কারন তরুণদের (হোক সে বেকার!) খরচের হাত যেহেতু অনেক লম্বা তাই কর্পোরেটদের আগ্রহ এক্ষেত্রে সবসময় থাকে অনেক বেশী। কর্মসংস্থান মানব জীবনের অনেকটুকু জায়গা জুড়ে আছে। তাই “কর্মসংস্থান” নিজেই অনেক ধরনের ব্যবসার জন্ম দেয়।

ফলে উদ্যোক্তা তৈরি নিয়ে ব্যবসা করারও আছে অনেক সুযোগ! এখন আসা যাক মূল প্রসঙ্গে। উদ্যোক্তা হবার জন্য আসলে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড জরুরী। পিজা এক্সপ্রেস, স্ট্রাডা, পাতিসেরি ভালেরি-এর সিরিয়াল উদ্যোক্তা লুক জনসন বলেন যে, এতদুর আসার পিছনে তার বাবার ভূমিকা অগ্রগণ্য।

আমার বাবা নিজের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা নিজেই করেছিলেন, বলেন তিনি। বছরের পর বছর আমি অনেক উদ্যোক্তার সাথে মিশেছি, কাজ করেছি। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আমি যে ব্যাপারটা দেখেছি সেটা হল, নিজে কোন ব্যবসা পরিচালনা করছে এমন নিকট আত্মীয় কেউ না কেউ তাদের রোল মডেল। তার বাবার বয়স এখন ৮৪ এবং কাজ করে যাচ্ছেন এখনও।

যার সামনে এমন ধরনের একটা রোল মডেল থাকে সে আসলে কারো জন্য কাজ করে না, নিজের কর্ম-সংস্থানের জন্য কারো উপর নির্ভরও করে না। আপনি যদি এমন পরিবার থেকে আসেন যে আপনার মা বাবা ‘নিরাপদ চাকুরী’ করেন, মাস শেষে বেতন তো আছেই আবার চাকুরী শেষে পেনশনও পাবেন তারা। এমন পরিবারে থেকে উদ্যোক্তা হওয়া আপনার কঠিনই হবে।

নিরাপত্তার চাদর ছেড়ে একা পথ চলা ভয়ঙ্কর মনে হতে পারে আপনার কাছে। খ্যাতি সম্পন্ন বিজনেস কোচ পিটার রাইডিং বলেছেন, উদ্যোক্তার ব্যাপারটা সহজভাবে বললে, ৭০% জন্মগত, ১০% পরিচর্চার এবং ২০% প্রশিক্ষণের!

কোন মানুষের যদি পরিস্থিতি অভিযোজিত করার চিন্তাশক্তি সম্পন্ন হয় তাহলে সে ব্যবসায় প্রয়োজনটা ধরতে পারে এবং ঠিক করে ফেলে কি কি ধরনের স্কিল দরকার এই প্রয়োজনটা মেটাতে এবং এরপর তা তাড়াতাড়ি এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে। এবং এটা তারা বারবারেই করতেই থাকে।

ল্যান কাস্টার ইউনিভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট স্কুলের প্রাতিষ্ঠানিক মনোবিজ্ঞানী ক্যারি কপার বলেন, ব্যাপারটাকে আমি আসলে জেনিটিক হিসেবে দেখি না। এটা আসলে পূর্ব অভিজ্ঞতা। উদ্যোক্তা হতে হলে, পূর্ব অভিজ্ঞতা জরুরী। কিন্তু সান ফ্রান্সিস্কো ভিত্তিক প্রকৌশল শিল্পে বিনিয়োগকারী জেনিফার মসেস ব্যাপারটার সাথে যোগসুত্র স্থাপন করেছেন আটলান্টিকের দুই পাশের অর্থনৈতিক চাহিদার উপর।

চিরাচরিত পেশায় আর আগের মত সুবিধা নেই, তাই উদ্যোক্তার দিকে ঝুঁকছে মানুষ। এমনটি বলেন জেনিফার মসেস। ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড নেই কিন্তু উদ্যোক্তা হবার জন্য স্বপ্ন দেখেন, তারা হয়তো কিছুটা নিরাশ হলেন লেখাটা পড়ে। হতাশ হবার কিছু নেই।

মার্ক জাকারবার্কের বাবা ডেন্টিস্ট, মা মনোবিজ্ঞানী। নিরাপত্তার চাদর তো তার আর কম ছিল না! তবে আপনার ভয় কিসে? কিন্তু স্টিভ জবসের বাবা কিন্তু আবার উদ্যোক্তাই ছিলেন! তা যাহোক, উদ্যোক্তা হবার জন্য দরকার আসলে, সাহস! সাহস থাকলে নেমে পড়ুন। লেখক: সাজ্জাদ রেজা।

SHARE