1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

কম পুঁজিতে উপহার সামগ্রীর ব্যবসার আইডিয়া ও মার্কেটিং কৌশল

হলিডে ও উপলক্ষ উপহার সেবা ( Holiday and Occasional Gift Service) এই ব্যবসাটি আপনি সম্পূর্ণ ঘরোয়া করতে পারেন। আবার যদি একটু বড় আকারে করতে চান তবে তাও করতে পারেন। আপনি যদি শৈল্পিক, সৃজনশীল হন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি আখাংকা থাকে তবে এই ব্যবসাটি আপনার জন্য। প্রতি মানুষই তার প্রিয়জনদের খুশি করতে চায়, ছেলের জন্মদিনে, মা দিবসে, ঈদে, বার্ষিকীতে, বন্ধুদিবস আরও কত কি!

ছেলের উপহার, মায়ের উপহার, ভালবাসার মানুষের উপহার, বন্ধুর উপহার, প্রতিবেশীর উপহার, অফিসের , আরে উপহারের কি এর শেষ আছে? এই কাজটি করার জন্য কত ঝামেলা ফহাতে হয়, বাজারে যাও, উপহার পছন্দ করো, উপহার বক্স কিনো, মলাট লাগাও কত কি ! আর এই কাজটি আপনি যদি পেশাধারী হিসেবে করেন তবে সেটা হতে পারে আপনার ব্যবসার নতুন দুয়ার।

কিভাবে শুরু করবেন ? যদি এই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী হন তবে ধরে নিব উপহার সামগ্রী কিনা, ডিজাইন করা, মলাট করা ইত্যাদির উপর কিছুটা হলেও আপনার ধারণা আছে। এরপর ও আপনাকে এর উপর কিছু পড়াশুনা করতে হবে। জানতে হবে মানুষের রুচি, কোন মানুষ কি ধরনের উপহার কিনে, কোন উপলক্ষে কি ধরনের উপহার কিনে। সবধরনের উৎস ও উপলক্ষ জানতে হবে।

যদি একা একা শুরু করেন তবে ভালো হয় যদি এডোবি ফটোশপ শিখে নেন যাতে নিজের ডিজাইন গুলো নিজে করে নিতে পারেন, নিজের কন্টেন্ট গুলো নিজে আপলোড করতে পারেন। আপনি সম্পূর্ণ ঘরোয়া এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন তবে বিক্রি ও বাজারজাত করার জন্য আপনাকে কিছু কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

স্টোর দিয়ে শুরু করুন বা ঘরোয়া শুরু করুন, শুরু থেকে অনলাইন অপশন আপনাকে রাখতে হবে। আমার পরামর্শ হল শুরুতে স্টোর না দিয়ে একটি ভালো ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া সাইট দিয়ে শুরু করতে পারেন, আপনার ওয়েবসাইটটি হবে ২৪ ঘণ্টার স্টোর। ব্যবসা বাড়ার সাথে সাথে আপনি এটা সম্পসারন করতে পারবেন। ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনার ওয়েব ডেভলপারের সাহায্য লাগবে, তারচেয়ে বড় কথা হল এটা করার আগে একজন কন্টেন্ট রাইটার ও ব্যবসায়িক পরামর্শকের সাথে পরামর্শ করে নিবেন।

প্রথম কথা শেষে, যদি সিদ্ধান্ত নেন এই ব্যবসাটি করবেন তবে প্রথম কাজ হবে এই ব্যবসার খুঁটিনাটি সব জানা, এরপর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করুন। আপনি যদি ক্রিয়েটিভ ডিজাইন নিয়ে পড়াশুনা করে থাকেন, অথবা গার্হস্থ বিজ্ঞান, চারুকলা, নিয়ে পড়াশুনা করে থাকেন বা সপ্রনোদিত ডিজাইনার হন তবে ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুবিধা পাবেন।

কারা আপনার গ্রাহক ? প্রত্যেক ব্যক্তি ছোট বড় সবাই আপনার গ্রাহক হতে পারে। কিন্তু এটা মনে করে আপনি যদি ভাবেন সারা বিশ্বই আপনার বাজার তাহলে হয়ত আপনাকে কোন কিছু না বিক্রি করে বসে থাকতে হবে। এজন্য আপনাকে গবেষণা করতে হবে, নিজের বাজার নির্দিষ্ট করতে হবে, এবং সে অনুসারে আপনাকে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

আপনার ক্রেতাদের মধ্যে কিছু হবে ব্যক্তিগত ক্রেতা ও কিছু হবে ব্যবসায়িক ক্রেতা। ব্যক্তিগত ক্রেতাদের মধ্যে একটা বড় অংশ হবে মহিলা। মহিলারা সাধারণত উপহার সামগ্রী বেশি কিনে। ব্যক্তিগত ক্রেতারা সাধারণত জন্মদিন, বার্ষিকী, বিভিন্ন দিবস, ধর্মীয় উৎসব,পারিবারিক পার্টি ইত্যাদিতে উপহার সামগ্রী কিনে থাকে।

ব্যবসায়িক ক্রেতাদের থেকে আপনি লম্বা অর্ডার পেতে পারেন। কিছু কিছু কর্পোরেট তাদের কর্মচারীদের জন্মদিন, বার্ষিকী, পদোন্নতি, অবসর উজ্জাপন করে, এছাড়া গ্রাহকদের জন্যও কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন উপলক্ষে উপহার সামগ্রী প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে সারা বছরই তাদের থেকে অর্ডার পেতে পারেন।

আপনি কি বিক্রি করবেন ? আপনি কি কি পণ্য বিক্রি করবেন সেটা নির্ভর করে আপনার আগ্রহী গ্রাহকদের উপর। আপনাকে জানতে হবে সক্রিয় গ্রাহকেরা কোন কোন উপহার সামগ্রী কিনার উপর তাদের পয়সা খরচ করে। একটা হল আপনি ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে বক্স তৈরি করতে পারেন আবার আদর্শ উপহার বক্সও তৈরি করতে পারেন ।

উভয় ক্ষেত্রেই আপনাকে গবেষণা করতে হবে। প্রতিটি বক্সের সাথেই আপনার কোম্পানির ব্রান্ড, বাজারজাতকরন ও ভবিষ্যৎ নিহিত, সুতরাং এগুলো তৈরির আগে ভালভাবে চিন্তা করে নিবেন। আগে প্রতি উপহারের জন্য বিভাগ ঠিক করে নিন, এটা আপনাকে ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনায়ও সাহায্য করবে।

কত খরচ হতে পারে? নির্ভর করে আপনার ব্যবসার আকারের উপর। ইচ্ছা করলে ১০,০০০ টাকা দিয়েও শুরু করতে পারেন।কিন্তু যদি স্টোর দিয়ে শুরু করেন তাতে মূলধন বেশি লাগবে। তবে যত ছোট হউক বা যত বড় হউক কোম্পানির গঠন যেন একটি আদর্শ কোম্পানির মত হয়। ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করে দেখেন আপনার কত প্রয়োজন এবং আপনার কত আছে।

ডিজাইন,পরিকল্পনা, লক্ষ্য, সবকিছুই হতে হবে নিয়ম মত। যদি ঘরোয়া ভাবে শুরু করেন তবে একটি রুমকে আপনার স্টোর হিসেবে ব্যবহার করতে হবে যেখানে বক্স করার টেবিল, গিফট রাখার সেলফ , পেকেজিং ও শিপিং এর সরঞ্জাম , অফিস সরঞ্জাম রাখতে পারেন। আপনার যদি কিছু সরঞ্জাম যেমন সেলফ , টেবিল, কম্পিউটার আগে থেকেই থেকে থাকে তাহলে শুরুর খরচ অনেক কম লাগবে।

শুরুর খরচ যদি কমে করতে চান তবে প্রথমেই ওয়েবসাইট তৈরি করার দরকার নেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়াকে ওয়েবসাইট এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, পরে ব্যবসা প্রসারের সাথে নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে নিবেন। আপনার মার্কেটিং মেটেরিয়াল ও গিফট বক্সের সরবরাহ গুলো প্রথম থেকেই থাকতে হবে।

যেসব যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী লাগবেঃ ১। একটি ওয়ার্ক স্টেশন থাকতে হবে যেখানে কাজের জন্য টেবিল, ক্রাফ টিং এর জন্য যন্ত্রপাতি, রেপিং পেপার, সাইনেজ, মোড়ক বাঁধার জন্য হিটগান থাকতে হবে। ২। উপহার সামগ্রী রাখার জন্য কিছু সেলফ থাকতে হবে।

৩। আপনি যদি ষ্টোর দিয়ে শুরু করেন তবে স্টোরের জন্য ক্যাশ রেজিস্টার, শপিং ব্যাগ, গিফট বক্স, সেলস ট্যাগ ইত্যাদির প্রয়োজন হবে। ৪। পাকেজিং ও শিপিং এর জন্য কিছু সামগ্রী লাগবে। ৫। কিছু অফিস সাপ্লাই যেমন কম্পিউটার, ল্যান্ড ফোন, প্রিন্টিং মিশিন, ক্যামেরা ইত্যাদি লাগবে। ৬। গিফট বক্স সামগ্রী ও অন্যান্য।

বাজারজাতকরনঃ ব্যবসার সফলতা ও প্রসারের অন্যতম শর্ত হল বাজারজাতকরন। যত উন্নত পণ্যই আপনার থাকুক না কেন যদি ভালো বাজারজাতকরন কৌশল না থাকে তবে পণ্য ঘরেই পড়ে থাকবে, বিক্রি হবে না। সে জন্য আপনার ব্যবসা ও পণ্যের বাজারিকরন করতে হবে। অনেক ব্যবসায়ি বাজারজাতকরণ পছন্দ করেন না কিন্তু আপনি যদি কৌশল জানেন তবে এটা আপনার জন্য মজার অভিজ্ঞতা হবে।

বাজারজাত করার জন্য যে কৌশল গুলো অবলম্বন করতে পারেনঃ ১। সবসময় যথেষ্ট পরিমাণ বিজনেস কার্ড ও ব্রসিয়ার রাখুন। যখনই সুযোগ পান পরিচিত, অপরিচিত সকলের মাঝে বিতরণ করুন।

২। আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করতে চান তবে এলাকা নির্ধারিত করে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের ডাটাবেজ তৈরি করুন। ধরুন আপনি যদি এলাকায় ১০০ বিল্ডিং টার্গেট করেন এবং প্রতি সপ্তাহে ৫ টি বিল্ডিং এর ডাটা সংগ্রহ করেন তাহলে ৬ মাসে আপনার এলাকার ডাটাবেজ তৈরি হয়ে যাবে। নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ইমেইল সংগ্রহ করবেন। প্রথম থেকেই এদের সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করুন এবং আপনার ব্যবসার কোথা জানান।

৩। মার্কেটিং এর ১০ নিয়ম ব্যবহার করুন। প্রতিদিন সম্ভাব্য ১০জন গ্রাহককে কল বা ইমেইল করুন, ১০জনের সাথে দেখা করুন এবং ১০জন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করুণ। ৪। যদি কেউ আপানর ব্যবসার জন্য গ্রাহক পাঠায় তবে প্রেরককে শুভেচ্ছা উপহার পাঠান। ৫। প্রতিটি উপহার বক্সের সাথে আপনার বিজনেস কার্ড ও ব্রসিয়ার দিবেন।

৬। যদি কোন গ্রাহক আপনার পণ্যে সন্তুষ্ট না হয় তবে তাদের তাদের সমস্যা সমাধানে ত্বরিত পদক্ষেপ নিন। মনে রাখবেন, গ্রাহক সেবা হল আপনার ব্যবসার সবচেয়ে বড় অবলম্বন। ৭। বিভিন্ন উপলক্ষ ও বিশেষ দিনের পূর্বেই গ্রাহকদেরকে স্মরণ করিয়ে দিন। পোস্ট কার্ড, ইমেইল অথবা কল করতে পারেন। ৮। সরাসরি বাজারজাতকরণ কৌশল অবলম্বন করতে হবে যাতে গ্রাহক থেকে গ্রাহক আপনার পণ্যের প্রসার করে

আয় ও মূল্য নির্ধারণঃ আয় নির্ভর করছে আপনি কতটা কঠোর পরিশ্রম করবেন এবং আপনি কতটা বড় আপনার ব্যবসা দেখতে চান। পূর্ণ সময় নিয়ে যদি একটা ভালো শুরু করতে পারেন তবে বছরে ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারেন।

মূল্য নির্ধারণে একটু সাবধানী হওয়া ভালো। যদি খুব কম মূল্য নির্ধারণ করেন তবে আপনি লাভ অথবা পণ্যের গুণগত মান নষ্ট করবেন আবার খুব উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করলে আপনি গ্রাহক হারাবেন। শ্রম মূল্য , পণ্য খরচ, পেকেজিং খরচ, সরবরাহ খরচ, বিক্রি ও বাজারজাত খরচ ও অন্যান্য সব যোগ করে পণ্য মূল্য বের করবেন।

এছাড়া ডিজাইনের ভিন্নতা, গ্রাহকের আকর্ষণের উপড়ও কোন কোন পণ্যের দামের ভিন্নতা হতে পারে। এরপর ৩০ থেকে ৩৫% লভ্য সীমা রেখে বিক্রি মূল্য নির্ধারণ করুন। আবার ক্ষতি পোষানোর জন্য বা বিক্রি বাড়ানোর জন্য লভ্য সীমা বাড়ানো বা কমানো যেতে পারে। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category