1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

কম পুঁজি নিয়ে আইসক্রিম তৈরীর ব্যবসা!

আইসক্রিম একটি জনপ্রিয় খাবার। আইসক্রিমের জন্মস্থান চীনে। ইতালীয় পর্যটক মার্কোপোলো আইসক্রিম তৈরির কৌশলটি চীন থেকে ইউরোপে নিয়ে আসেন। তৎকালীন সময়ে কুবলাই খানের লোকেরা ঠেলাগাড়ি করে জমাট দুধের খাবার বিক্রি করত। মার্কোপোলো খাবারটি খেয়ে পছন্দ করেন এবং এর কৌশল শিখে নেন। এ খাবারটির নাম পরে হয় আইসক্রিম।

১৫৩৩ সালে আইসক্রিম ইতালি থেকে প্রথম ফ্রান্সে আসে এবং সেখান থেকে পরে যায় ইংল্যান্ডে। এর পর আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আইসক্রিম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০০ সাল থেকে আইসক্রিমের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। বাংলাদেশে প্রথম আইসক্রিম উৎপাদন শুরু হয় চট্টগ্রামে, ১৯৬৪ সালে।

সেখান থেকে ক্রমাগত প্রসারণের ফলে বাজারে প্রচলিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আইসক্রিম ব্র্যান্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধডজনে। একই সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু দেশি মানের সাধারণ ব্র্যান্ড ও খোলাবাজারের আইসক্রিম

বাজার সম্ভাবনা: আইসক্রিম হচ্ছে অতি জনপ্রিয় একটি খাবার, বিশেষ করে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের কাছে আইসক্রিমের চাহিদা বেশি দেখা যায়। গরমকালে আইসক্রিমের চাহিদা আরও বেশি থাকে। শীতকালে বিক্রির পরিমাণ কমে যায়। স্কুল-কলেজের সামনে আইসক্রিম বেশি বিক্রি হতে দেখা যায়।

এছাড়া পার্ক, খেলার মাঠ ও আবাসিক এলাকাতেও আইসক্রিমের চাহিদা থাকে। অতিথি আপ্যায়নেও আইসক্রিমের ব্যবহার দেখা যায়। আইসক্রিম ব্যবসা শুরুর মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তি নিজের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করতে পারেন। আইসক্রিমের প্রধান উপাদান দুধ ও চিনি। এ ছাড়া স্বাদ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ফলের রস, চকোলেট পাউডার, গ্লুকোজ ইত্যাদি মেশানো হয়।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায়, সব মিলিয়ে দেশে বর্তমানে আইসক্রিমের বাজার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন থেকে শুরু করে বিক্রেতা পর্যন্ত দেশের আইসক্রিমশিল্পে কর্মরত জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর আইসক্রিমের বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে প্রায় ২০ শতাংশ হারে।

দেশে নন-ব্র্যান্ড ও খোলা আইসক্রিমের বাজারও বেশ বড়। সাধারণত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কম পুঁজি বিনিয়োগে বেশি মুনাফার জন্য খোলা আইসক্রিম উৎপাদন ও বিপণন করেন। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে খোলাবাজারে বিক্রি হওয়া আইসক্রিমের একটা বড় অংশ উৎপাদিত হয় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের হাতে।

সম্ভাব্য পুঁজি: বাণিজ্যিকভাবে আইসক্রিম উৎপাদন করতে প্রাথমিক অবস্থায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ব্যবসার শুরুতে কিছু সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রয়োজন। যদি নিজের কাছে প্রয়োজনীয় পুঁজি না থাকে তবে পরিবারের কারো কাছে থেকে কিংবা আত্মীয়স্বজন, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) থেকে স্বল্পসুদে ঋণ নেওয়া যেতে পারে।

প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমেই মিল্ক পাউডার, ইমালসিফায়ার, ননফ্যাট ব্লেন্ডিং করে মিক্সকে পাস্তুরীকরণ করতে হবে। এরপর মিশ্রণটিকে হোমোজেনাইজেশন করা হয়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর আইসক্রিমের মান অনেকখানি নির্ভর করে। এরপর ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সারারাত হোমোজেনাইঞ্জ মিক্সকে এইজিং করা হয়।

তারপর লিকুইড ফেভার এবং কালার যোগ করা হয়। এরপর মিশ্রণকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফ্রিজারে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই মিশ্রণকে কনটেইনারে রাখা হয়, যা একে বিভিন্ন আকৃতি প্রদান করে। সর্বশেষে এ আইসক্রিমকে অটোমেটিক মেশিনে প্যাকেট করে বিক্রির উপযোগী করে তোলা হয়।

প্রশিক্ষণ: ভালো মানের আইসক্রিম তৈরি শেখার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে আইসক্রিম তৈরি শিখে নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ ৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। বাজারজাতকরণ আইসক্রিম ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যে কোনো বয়সী মানুষের পছন্দের খাবার। যে কোনো মানুষ আইসক্রিমের ভোক্তা হবে। বিভিন্ন খাবার দোকান ও কনফেকশনারিতে বিক্রি করা যায়। দোকান ছাড়াও নিজস্ব গাড়িতে করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা যাবে।

More News Of This Category