1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

কর্মজীবন থেকে দ্রুত অবসরে না যাওয়ার বেশ কিছু উপকারীতা!

দ্রুত কর্মজীবন শেষ করে অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে অধিকাংশ মানুষের। এই কারণে মানুষ প্রতিনিয়ত নিজের রোজগার বাড়ানোর চেষ্টা করে। যেন দীর্ঘ বছর ধরে তাকে কাজ করতে না হয়। এমনকি আমরা ইয়ুথ কার্নিভালে একাধিক নিবন্ধের দ্রুত অবসরে যাওয়ার নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছি।

কিন্তু কখনো কী উল্টোভাবে ভেবে দেখেছেন, দ্রুত অবসরে না যাওয়ার কী কী ভালো দিক থাকতে পারে? আমাদের আজকের নিবন্ধের বিষয়বস্তু দ্রুত অবসরে না যাওয়ার উপকারিতা। সবাই দ্রুত অবসরে যেতে চায়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কী সুবিবেচনাপ্রসূত, নাকি অন্যদের দেখাদেখি অনুসরণ করা? চলুন খতিয়ে দেখি দ্রুত অবসরে না যাওয়ার কী কী ভালো দিক আছে।

অবসরের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা কোনো শাস্তি নয়: দ্রুত অবসরে যাওয়া আপনার স্বপ্ন হতে পারে। কিন্তু আপনি কি জানেন, বর্তমানে মানুষের আয়ু পূর্বের তুলনায় বেড়েছে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যখন সামাজিক নিরাপত্তার কথা প্রথম চিন্তা করা হয়, তখন মানুষের গড় আয়ু ছিলো মাত্র ৬২ বছর, যা বর্তমানে ৭৯ বছর।

শুধু মার্কিন মুল্লুকে নয়, আমাদের বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুও বেড়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর, যা ২০০০ সালে ছিল ৬৫ বছর। এমনকি এর পূর্ববর্তী বছরগুলোতে গড় আয়ু আরো কম ছিল। এই বাস্তবতায় আপনাকে দ্রুত অবসর নিতে হলে অবসর পরবর্তী বছরগুলোর জন্য যথেষ্ট অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ওমেন এন্ড মানি বইয়ের লেখক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সুজ ওরম্যান মত দিয়েছেন, দেরিতে অবসর নিলে আপনি অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী এবং চাপমুক্ত হতে পারবেন। আমেরিকার জনগণের জন্য তিনি ৭০ বছরে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে আপনি নির্ণয় করুন অবসর নেওয়ার জন্য আপনার কতটা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারপর চাপমুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে অর্থ সঞ্চয় করুন, এবং নিশ্চিন্তে অবসর গ্রহণ করুন।

দীর্ঘ জীবনের সুস্থতা: কর্মমুখীতা মানুষকে সব সময় উদ্দীপ্ত ও সজীব রাখে এবং চোখের সামনে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা ও উদ্দেশ্য হাজির করে। বিপরীতে অলস্য, কর্মহীনতা ও দুশ্চিন্তা আপনাকে বৃদ্ধ করে তোলে। এ বিষয়ে অরম্যান বলেন, অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তা আপনাকে মানসিক পীড়া দেবে। যার ফলে আপনি আরো বৃদ্ধ হয়ে যাবেন।

কিন্তু আপনি যদি অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল থাকেন তাহলে বাকি সময়টা আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারবেন। তাই দ্রুত অবসর না নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজের সাথে থাকুন এবং নিজের তারুণ্য ধরে রাখুন। সাথে সাথে দ্রুত অবসর নিয়ে অর্থনৈতিক জটিল হিসাব করতে গিয়ে অযথা মানসিক পীড়া নেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করুন।

কাজের ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন: দীর্ঘ বছর কাজ করা নিয়ে অযথাই মানুষ দুশ্চিন্তা করে। ভাবে, ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে যাব? এত দীর্ঘ সময়? কাজের ব্যাপারে আপনার এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন। নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তা করুন। অরম্যান বলেন, ‘কাজ হলো অর্থ উপার্জন এবং জমানোর হাতিয়ার। তাই সব সময় নগদ অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করতে কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকুন।’

তাছাড়া কাজ ছেড়ে দিয়ে আপনি যাবেন কোথায়? এত বছরের অভ্যস্ততা কাটিয়ে শেষ বয়সে নতুনভাবে জীবন শুরু করা সত্যিই খুব কঠিন। তাই অনেক মানুষ অন্যের দেখাদেখি দ্রুত অবসর নিয়ে কর্মহীন জীবনের কারণে মানসিক অস্বস্তিতে পড়েন। কেননা তারা চাইলেও তাদের দৈনন্দিন কাজের প্রভাবমুক্ত হতে পারে না। সুতরাং দ্রুত অবসর নেওয়ার চিন্তা ছেড়ে দিন এবং নিজেকে কাজের মধ্যে সম্পৃক্ত রেখে নগদ অর্থ প্রবাহ নিশ্চিত করুন এবং সুন্দর সময় কাটান।

ছেলে মেয়ে নাতি নাতনিদের জন্য উদাহরণ: দীর্ঘজীবন কাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে নিজের ছেলে, মেয়ে, নাতি নাতনির জন্য উত্তম আদর্শ সৃষ্টি করুন। শেষ বয়সে এসেও সারাক্ষণ কর্মমুখী থেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শিখিয়ে দিন কীভাবে নিজের কাজে মনোযোগী থাকতে হয়। আপনার এই কর্ম উদ্দীপনা এমন এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করবে যা পরিবারের তরুণ সদস্যদের ভবিষ্যৎ এবং ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণ প্রজন্মের জন্য সঞ্চয় উদাহরণ: কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসেও সঞ্চয় করে পরিবারের তরুণ সদস্যদের জন্য অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেন। দীর্ঘদিন সঞ্চয় চালু রেখে পরিবারের তরুণ সদস্যদের শেখান, কীভাবে সব প্রয়োজন মেটানোর পর নিয়মিত সঞ্চয় প্রবাহ নিশ্চিত করতে হয়। পরিবারের তরুণ সদস্যরা যদি আঠারো বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে সঞ্চয় করে তাহলে অবসর নেওয়ার পর সে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতে পাবে, তরুণ বয়সেই এই বোধ তাদের মধ্যে সৃষ্টি করুন।

অভিজ্ঞতা বিনিময়: আপনি নিশ্চয়ই অনন্তকাল এই কাজ করবেন না। কিন্তু আপনার এত বছরের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অন্য কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত অবসর না নিয়ে কর্মজীবনের শেষ দিনগুলো অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কাজে ব্যয় করুন এবং তরুণ প্রজন্মকে আরও সময় উপযোগী এবং দক্ষ করে তুলুন।

এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থেকে নেতৃত্ব দিলে যেমন আপনার মানসিক শান্তি মিলবে, তেমনি তরুণ কর্মীরা আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। সুতরাং দ্রুত অবসর না নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তরুণদের সাথে বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেকে আরও মহত্ব এবং অনন্য আসনে অধিষ্ঠিত করুন। দ্রুত বা দেরিতে অবসর নেওয়া পুরোটাই আপনার মানসিক ব্যাপার, আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। আপনি জীবনকে যেভাবে দেখবেন আপনার জীবন ঠিক তাই হবে।

সুতরাং ভীত, আত্মকেন্দ্রিক, এবং স্বার্থপর মানুষের মতো দ্রুত অবসর নিয়ে নিজের মূল্যবান অভিজ্ঞতা থেকে পৃথিবীকে বঞ্চিত করবেন না। দীর্ঘজীবন কাজের সাথে থাকুন এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক তারুণ্য ধরে রাখুন। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category