কলকাতার পাইকারি বাজার! জেনে নিন কোথায় কি পাবেন!

প্রতিবেশী বাজারে টুকিটাকি অনেক কিছুই আমরা কেনার সময় ঠিক মতো খুঁজে পাইনা, পেলেও মনমতো দাম বা মানের হয় না। আপনাদের জন্য রইল কলকাতার এমন কিছু রাস্তার পরিচিতি, বিবরণী ও বাজারের খবরা-খবর যেখানে হাতের মুঠোয় একটু খুঁজলেই পেয়ে যাবেন মনের মতো রকমারি জিনিসপত্র অত্যন্ত সস্তায় এবং সুলভে।

নিউমার্কেট– কলকাতা শহরের অন্যতম একটি পুরনো বাজার হল এই নিউমার্কেট। ১০০ বছরেরও পুরনো নিউমার্কেট নিজেই একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে কলকাতার সকল বাসিন্দার কাছে। এই বাজারের মধ্যে এবং নিকটবর্তী রাস্তায় পথচলতি বিভিন্ন পসরা সাজানো দোকান আপনাকে অবশ্যই আকৃষ্ট করবে। জামাকাপড়, খেলনা, প্রসাধন সামগ্রী থেকে শুরু করে খাবারদাবার সবকিছুই আপনি এখানে পেয়ে যাবেন। তবে অতি অবশ্যই আপনাকে দরকষাকষির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

গড়িয়াহাট– দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত পণ্য বিকিকিনির আদর্শ জায়গা হল গড়িয়াহাট। আপনার পছন্দমত এখানে সমস্ত ব্র্যান্ডেড এবং দামী দামী উচ্চমানের জিনিসপত্র পেতে পারেন। কিন্তু তবুও street shopping এখানে অত্যন্ত বিখ্যাত। রাস্তার উভয় দিকের ফুটপাতে জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন street hawkers যারা জামা কাপড় থেকে শুরু করে সাজগোজের জিনিসপত্র সমস্ত কিছুই বিক্রি করে। এখানকার fashion accessories এর কালেকশন এবং ভ্যারাইটি আপনাকে অবাক করে তুলবে।

কলেজ ষ্ট্রীট — এটি হলো এশিয়ার বৃহত্তম সেকেন্ড হ্যান্ড বইয়ের বাজার। এখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার মধ্যে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি এবং প্রেসিডেন্সি অন্যতম। এখানকার বিভিন্ন দোকানগুলিতে মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য examination guide, test paper ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তকও পাওয়া যায়।

এমন কোন বই নেই যা এই কলেজ ষ্ট্রীট বই বাজারে পাওয়া যায় না।এছাড়াও বিভিন্ন নামীদামী প্রকাশনী সংস্থার প্রিন্টিং প্রেস, বিয়ের কার্ড, খাতা ও অন্যান্য লেখাপড়ার সাজসরঞ্জামের একচেটিয়া বাজার এটি। থার্মোকলের থালা, বাটি, গেলাস থেকে শুরু করে কার্ডবোর্ড,সব কিছুই এই কলেজ ষ্ট্রীট মার্কেটে পেয়ে যাবেন।

বিরশুলহাট– উপযুক্ত মূল্যে উপযুক্ত মানের উৎকৃষ্ট পণ্য বিশেষত জুতো কেনার জন্য চলে আসুন পদ্মপুকুর ময়দানে নিকটবর্তী CIT রোডের বিরশুলহাটে। সকাল ছ’টার থেকে এখানে সকল ব্যবসায়িক লেনদেন শুরু এবং দুপুর পর্যন্ত তা চলতে থাকে। বড় রাস্তায় থেকে ভিতরের দিকে প্রচুর টেবিলে সাজানো জুতো। দেখতে পাবেন বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন সাইজের আকর্ষণীয় মূল্যে অত্যাধুনিক জুতো। এ ছাড়াও বিভিন্ন দোকানে হাত ব্যাগ, চামড়ার জ্যাকেট, ছেলেদের বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়।

এসপ্ল্যানেড — গ্র্যান্ড হোটেলের নিচে থেকে মেট্রো সিনেমা পর্যন্ত রাস্তার উভয়দিকে রয়েছে বিভিন্ন ছোটখাটো হকার স্টল। চৌকির উপরে ডেনিমের বিভিন্ন জামাকাপড় এবং টি শার্ট, ট্র্যাকপ্যান্ট থেকে শুরু করে ঘড়ি, জুতো, বিভিন্ন বিদেশী আধুনিক ছোটখাটো জিনিসপত্র এখানে পাওয়া যায়। তবে অতি অবশ্যই আপনাকে দরাদরি করতে হবে। এখানে ব্র্যান্ডেড জামা কাপড় পাওয়া না গেলেও যথেষ্ট ফ্যাশনেবল জামাকাপড় পাওয়া যায়।

হাতিবাগান — উত্তর কলকাতার হাতিবাগানের মত একটি জনবহুল এবং বিশালকায় বাজার আর কোথাও নেই। বিভিন্ন শাড়ির দোকানগুলিতে বাংলার তাঁত, সিল্ক, ওড়িশার সম্বলপুরী, কটকি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার শাড়ি পাওয়া যায়। রাস্তার উভয় দিকে হকারদের নির্মিত স্টলগুলিতে বিভিন্ন সাজগোজের জিনিসপত্র থেকে শুরু করে ব্যাগ,ঘর সাজাবার উপকরণ, জামাকাপড় সব কিছুই পাওয়া যায়। এখানকার street food ও যথেষ্ট বিখ্যাত। হাতিবাগানে রয়েছে নামকরা বহু রেস্তোরাঁর ফ্রাঞ্চাইজি যারা আপনাকে আহারে বাহারে সন্তুষ্ট করবেই।

রবীন্দ্র সরণি— এই জায়গায় কলকাতার অন্যতম প্রাচীন বাজারটি অবস্থিত যেখানকার জনসংখ্যার একটা বড় অংশই হলো মুসলিম। সরু রাস্তা এবং তার ওপর দিয়ে ট্রাম লাইন গেছে। এর দুইদিকে বিভিন্ন দোকানে শেরওয়ানি, পাজামা কুর্তা, বিয়ের জামা কাপড়, আলিগড় কুর্তা পাওয়া যায়। এখানে বিভিন্ন দোকানে ছোট ছোট আতরের বোতল পাওয়া যায়।

চোরবাজার– শিয়ালদহ: সুরেন্দ্রনাথ কলেজের নিকটবর্তী চোরবাজারে পাবেন না এমন কিছু নেই। সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিসের অফুরান সম্ভার এই বাজার। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র থেকে শুরু করে চামড়া এবং সমস্ত ধরনের জিনিসপত্রের বিরাট বাজার এটি।

বউবাজার — বিয়ের মরসুমে আসবাবপত্রের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। ঘর সাজাবার থেকে শুরু করে খাট বিছানা, আলমারি প্রভৃতির জন্য এখানে অবশ্যই আসতে হবে। এখানে রয়েছে প্রচুর গয়নার দোকান। বিয়ের সময় কেনাকাটার জন্য বিভিন্ন ধরনের গহনা প্রস্তুতকারী দোকানগুলির একত্রিত সমাবেশ এই বউবাজার।

এখানে গয়নার মজুরিও অপেক্ষাকৃত অন্যান্য জায়গার তুলনায় কম। বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানির শোরুম ছাড়াও অন্যান্য দোকান রয়েছে এখানে। বউবাজারের ছানাপট্টি অত্যন্ত বিখ্যাত। এখানকার পনীর,ছানা, ক্ষীর প্রভৃতি দুগ্ধজাত দ্রব্য কলকাতা শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে একচেটিয়াভাবে সরবরাহ করা হয়।

লালবাজার– উচ্চ গুণমানের চা পেতে হলে চলে আসুন লালবাজারের বিপরীতে। এখানে চায়ের দোকানগুলিতে বিভিন্ন দাম ও গুণের চা পেয়ে যাবেন। চশমার ফ্রেম, লেনস্ বা চশমার বিভিন্ন উপকরণের জন্য আসতেই হবে এখানে। লালবাজার সংলগ্ন রাস্তার দুই ফুটপাতে রয়েছে অসংখ্য চশমার দোকান। নামীদামী ব্র্যান্ডেড কোম্পানির শোরুম ছাড়াও ছোটখাটো অজস্র দোকান আছে এখানে। পছন্দমত এবং বাজেটমত চশমা পেতে চলে আসুন এখানে।

রাধাবাজার– হাতঘড়ি হোক বা দেওয়াল ঘড়ি, সময়কে বেঁধে ফেলার উপায় হিসাবে বিভিন্ন ধরণের বড় ও মাঝারি ঘড়ির শোরুম এখানে রয়েছে। পুরানো আমলের বিরাটকায় দেওয়াল ঘড়ি থেকে শুরু করে হাল আমলের কেতাদুরস্ত ঘড়ি,সব পাবেন এখানে।

এজরা ষ্ট্রীট — বিভিন্ন ধরণের ঘর সাজাবার ও আলোকিত করার জন্য এখানাকার একচেটিয়া বাজারে অবশ্যই আসতে হবে। আলোকসজ্জার শ্রেষ্ঠ উপকরণ এখানে পাবেন আপনি। ক্যানিং ষ্ট্রীট– প্লাস্টিকের রকমারি জিনিসপত্র যা চাইবেন, সব পাওয়া যায় এখানে। বালতি, গামলা থেকে শুরু করে বোতল বা ক্লিপ — বড় ছোট সব ধরণের প্লাস্টিকের উপকরণ এখানে পাওয়া যায় অত্যন্ত সস্তায় ও সুলভে।

মেহতা বিল্ডিং — নিকটবর্তী ওষুধের দোকানে যদি প্রয়োজনীয় ওষুধ অমিল হয় বা দাম বেশি মনে হয়, তাহলে ওষুধের পাইকারি বাজারে সমস্ত রকম ওষুধ আপনি পেয়ে যাবেন। ওল্ড চিনা বাজার— বিভিন্ন ধরণের বাসনপত্র বিশেষত বোন চায়নার তৈরী বিভিন্ন ধরণের বাসনপত্র যেমন বাটি,থালা থেকে শুরু করে মরিচদানী সব কিছুই এখানে পেয়ে যাবেন।

বড়বাজার— বড়বাজারের নাম জানা নেই, এরকম ক্রেতা সত্যি অমিল। নামের সাথে তাল মিলিয়ে এই বাজারের পরিধিও যেমন ব্যাপক, তেমনি, এখানে দ্রব্যের প্রাচুর্য ও বিভিন্নতা তাক লাগানোর মত। সুবিশাল জামাকাপড়ের একচেটিয়া বাজার এটি। সালোয়ারকামিজ, কুর্তা, শাড়ী থেকে শুরু করে জানালা দরজার পর্দা, আবার বিভিন্ন মশলার দোকান, বাসনপত্র, গয়না, প্লাস্টিকের সরঞ্জাম, বাথরুমের বিভিন্ন ফিটিংস, সাজগোজের উপকরণ, সমস্ত কিছুই পাইকারী দরে এখানে পাওয়া যায়।

চাঁদনী মার্কেট — ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যের সুবিশাল বাজার হল চাঁদনী। এখানে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য কেনার পাশাপাশি আপনি ইলেকট্রনিক্স কোন কিছু সারাইয়ের জন্যেও পেয়ে যাবেন প্রচুর দোকান। এছাড়া ঘর-বাড়ির নানান ফিটিংস থেকে আরম্ভ করে বিছানা-বালিশ সব কিছুই পাইকারি দামে মেলে এখানে।

বেন্টিঙ্ক ষ্ট্রীট– জুতো ও মিউজিকাল বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্ট যদি একই জায়গায় পেতে হয় তাহলে অবশ্যই আসতে হবে বেন্টিঙ্ক ষ্ট্রীটে। বিভিন্ন মাপের ও দামের, ঘরোয়া বা ফ্যাশনেবল্ জুতোর জন্য এবং দেশী বিদেশী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র পেতে হলে বেন্টিঙ্ক ষ্ট্রীট হল একমাত্র ঠিকানা।

হাওড়ার ফুলের বাজার— বিয়ের কেনাকাটার জন্য ফুলের অর্ডার অবশ্যই দিতে হবে হাওড়া ফুল বাজারে। একচেটিয়া ফুলবাজার বলতে বোঝানো হয় এই বাজারকে। বিয়ে বাড়ি সাজানোর জন্য, বরের মালাবদলের মালা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অন্যান্য মরসুমি ফুলের সম্ভার অবস্থিত এই হাট। রজনীগন্ধা, গাঁদা,বেল, জুঁই প্রভৃতি ফুলের বারোমাসি হাটে এখানে সারাবছর ফুলের বিকিকিনি চলে। তথ্যসূত্র-ইন্টারনেট।

SHARE