কাজকে টাকা আয়ের উৎসের চেয়ে বেশী কিছু ভাবুন।

কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার গুণাবলি অর্জন করার উপায় খুব কঠিন কিছু নয়। আমরা সবাই নিজ নিজ ক্যারিয়ারে সফল হতে চাই। কর্মক্ষেত্রে সফল মানে সর্বোচ্চ প্রোডাক্টিভিটির সাথে নিজের কাজ করতে পারা, এবং সেই কাজ দিয়ে নিজের আর্থিক, সামাজিক ও অন্যান্য সবকিছুকে ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

আপনি যে ক্ষেত্রেই কাজ করেন না কেন, কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার গুণাবলি আপনার মাঝে থাকলে আপনি সেই ক্ষেত্রের সেরাদের একজন হয়ে উঠবেন। এর ফলে, আর্থিক অবস্থার সাথে বাকি সবকিছুরই উন্নতি হবে। আপনি সন্তুষ্ট সুখী জীবন যাপন করবেন।

যে কোনও কর্মক্ষেত্রেই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে। বিশেষ করে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করলে চ্যালেঞ্জগুলোকে অনেক সময়েই বেশ কঠিন মনে হয়। কিন্তু কিছু বিশেষ গুণাবলি নিজের মাঝে আনতে পারলে আর কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারলে – এই চ্যালেঞ্জগুলো পার করে কর্মক্ষেত্রে দারুন সফল হওয়া যায়। চলুন এক নজরে কাজের ক্ষেত্রে সফল হওয়ার প্রধান গুণগুলো দেখে নেয়া যাক।

কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার গুণাবলি: সঠিক ভাবে নিজের কাজ বুঝে নেয়া, গুছিয়ে কাজ করা, দক্ষতা অর্জন ও সব সময়ে তাকে উন্নত করা, কাজের প্রতি আন্তরিকতা, সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক, যোগাযোগ দক্ষতা, নিজের যোগ্যতা তুলে ধরার ক্ষমতা, রেষারেষি বা বিবাদ এড়িয়ে চলার ক্ষমতা, কোটার বদলে নিজের ক্ষমতার পুরোটা দিয়ে কাজ করা, কথা ও কাজে মিল রাখা। আজ আপনাকে যে কয়েকটি উপায় বলব, সেগুলোর সবগুলোই আপনাকে কাজের ক্ষেত্রে সফল হওয়ার গুণাবলি অর্জন করতে সাহায্য করবে।

কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার উপায়: কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার গুণাবলি অর্জন করার উপায় গুলো চর্চা করলে, উপরে বলা গুণগুলো ধীরে ধীরে আপনার মাঝে প্রকাশ পেতে থাকবে। আর গুণগুলো প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে আপনার অবদান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এর ফলে আপনি দিন দিন সফল থেকে আরও সফল হবেন।

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার গুণাবলি কিভাবে অর্জন করবেন:
০১. কাজের প্রতিটি বিষয়ে গভীর মনোযোগ দিন: আপনি যে কাজই করেন না কেন, কাজের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ দিন। কিভাবে কাজ হচ্ছে, আপনার কাজের ফলে কোথায় কি পরিবর্তন হচ্ছে – সব বিষয় গভীর ভাবে খেয়াল করুন। এতেকরে, কাজের বিষয়ে সবকিছু আপনার নজরে আসবে। যতক্ষণ কাজ করবেন – কাজে পূর্ণ মনোযোগ বা ফোকাস রাখুন। এর ফলে কাজটিকে আপনি খুব ভালোমত বুঝতে পারবেন।

আপনার কাজ যদি হয় সাধারণ ডাটা এন্ট্রি করা, তাহলে ডাটা গুলো কোথা থেকে আসছে, কি কাজে লাগছে, সেগুলো কিভাবে ব্যবহার হচ্ছে – এগুলো গভীর মনোযোগের সাথে বোঝার চেষ্টা করুন। কি কাজ করছেন – এই বিষয়ে ফোকাস করার পাশাপাশি, কেন কাজটি করছেন – সেই বিষয়েও খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে সিনিয়রদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করে কাজের ব্যাপারে সবকিছু জেনে নিন।

আপনার কাছ থেকে কি চাওয়া হচ্ছে এটা খুব ভালো ভাবে বোঝার চেষ্টা করুন,এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করুন। এতেকরে কাজের প্রতি আপনার আগ্রহ বাড়বে, এবং আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন। সঠিক ভাবে নিজের কাজ বুঝে নেয়ার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি এটি।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানের কালচার এবং নিয়মগুলোকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং কি কারণে এগুলো জারি করা হয়েছে – তা বোঝার চেষ্টা করুন। তাহলে নিয়ম মেনে চলা আপনার জন্য সহজ হবে। কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য যথাযথ ভাবে নিজের কাজ বুঝে নেয়া, এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মগুলো সুন্দর ভাবে মানার কোনও বিকল্প নেই।

০২. পরিকল্পনা করে কাজ করুন: গুছিয়ে কাজ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ছকে বাঁধা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কোন দিন কোন কাজ করবেন – কতটুকু কাজ করবেন, এগুলো রুটিন করে নিন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটা রুটিন দেয়া হবে, আর সেই রুটিন ফলো করার জন্য আপনার নিজেরও একটি রুটিন থাকতে হবে। নিজের একটি খাতা/বোর্ড অথবা কম্পিউটারের ফাইলে করণীয় কাজগুলো গুছিয়ে রাখুন।

আগের দিন অফিস থেকে বের হওয়ার সময়েই পরের দিন কি করবেন – তা ঠিক করে রাখুন। এতে পরদিন অফিসে এসে কি কাজ করবেন – এ নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। কাজে এসেই আপনি নিজের কাজ শুরু করে দিতে পারবেন। মাঝে মাঝে হয়তো আপনার নিজের শিডিউলের বাইরেও কাজ এসে পড়বে – তাতে কোনও অসুবিধা নেই। সেগুলোও নিজের শিডিউলের মধ্যে রেখে দেবেন।

এভাবে গুছিয়ে কাজ করতে পারলে অনেক বেশি প্রোডাক্টিভিটির সাথে কাজ করতে পারবেন – যা কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার পথ অনেক সহজ করবে। অগোছালো ভাবে কাজ করলে কখনওই আপনি নিজের মেধা ও দক্ষতার পুরোটা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবেন না। কাজেই, যতটা সম্ভব পরিকল্পনামাফিক গুছিয়ে কাজ করার চেষ্টা করুন।

০৩. সব সময়ে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন: আপনি যে ধরনের কাজেই করেন না কেন, সেই বিষয়ে সবকিছু জাানা সম্ভব নয়। প্রতিটি বিষয়ই দিন দিন আপডেট হচ্ছে। সময়ের সাথে আপনিও যদি নিজেকে আপডেট করতে পারেন, তবে কর্মক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে যাবেন। আপনি যদি একজন মার্কেটার হন, তবে প্রতিদিন মার্কেটিং বিষয়ে কিছু না কিছু পড়ার চেষ্টা করুন। এ্যাকাউন্টেন্ট, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ইঞ্জিনিয়ার – যেটাই হোন না কেন – চাইলেই নতুন নতুন বিষয় শিখতে পারবেন।

ম্যাগাজিন, বই, টিউটোরিয়াল, রিসার্চ পেপার গুলোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা আসছে। এখন ইন্টারনেটের কল্যানে যে কোনও বিষয়েই আপডেট থাকা অনেক সহজ হয়ে গেছে। শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছা। এর বাইরে সময় পেলে নতুন নতুন কোর্স করুন, সিনিয়রদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করুন।

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা সেলস ও সেলফ ডেভেলপমেন্ট কোচ ব্রায়ান ট্রেসির মতে, যদি কেউ তার ইনকাম এর ৩% নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য খরচ করে – তবে সে অচিরেই তার সেক্টরের সেরাদের একজন হয়ে উঠবে। আপনি যদি সব সময়ে আপনার কাজের বিষয়ে দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়ান, তবে তা আপনার কাজেও প্রতিফলিত হবে। দিনে দিনে আপনি কাজে আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন।

০৪. কাজকে শুধু টাকা বানানোর উৎসের চেয়ে বেশিকিছু ভাবুন: যেসব মানুষ ক্যারিয়ারে সফল হতে পারে না, তাদের বেশিরভাগই কাজকে শুধু টাকা রোজগারের হাতিয়ার মনে করে। দক্ষতা থাকলেও এসব মানুষ ক্যারিয়ারে বেশিদূর যেতে পারে না। ১৯৭০ দশকে আর্ল নাইটেঙ্গেলকে বলা হত সেলফ ডেভেলপমেন্টের বিশ্বগুরু। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি গুলোর একটি হল, “আপনার কাজ যেটাই হোক, সেটা আপনাকে আকাশে তুলে দিতে পারে – যদি আপনি কাজের প্রতি আন্তরিক হন”

কাজকে শুধুই টাকার মেশিন বানালে আপনি কোনওদিন কাজ করে সত্যিকার আনন্দ পাবেন না। ফলে কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেয়া বা নতুন কিছু শেখার আগ্রহও আপনার মাঝে আসবে না। এর ফলে আপনি ক্যারিয়ারে যেখানে আছেন, সেখানেই থেকে যাবেন। অন্যদিকে, যদি কাজের প্রতি সত্যিকার আন্তরিক থাকেন, অর্থাৎ কাজকে যদি ভালোবাসেন, এবং নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন – তবে কাজও আপনাকে তেমন প্রতিদানই দেবে।

ভারতীয় বিলিওনেয়ার এবং উপমহাদেশের ব্যবসা জগতের লিজেন্ড রতন টাটা একজন সাধারণ নিন্মশ্রেণীর কর্মী হিসেবে টাটা গ্রুপে যাত্রা শুরু করেছিলেন, কিন্তু কাজের প্রতি আন্তরিকতা দিয়ে তিনি এক সময়ে সেই কোম্পানীরই প্রধান হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

টাটার মত এমন অসংখ্য উদাহরণ আমাদের আশপাশেই রয়েছে। বহু মানুষ খুব সাধারণ ভাবে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করে নিজের যোগ্যতাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন – যার ফলে তাঁরা সেই প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পেয়েছেন।

শুধুমাত্র টাকার জন্য কাজ না করে, প্রতিষ্ঠানকে সেবা করার জন্য কাজ করুন – এতে করে কাজের প্রতি সত্যিকার আন্তরিকতা আসবে। তাহলে দেখবেন কাজ করে আনন্দ পাচ্ছেন, কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে তুলে ধরতে পারছেন – ফলে অবধারিত ভাবেই দিন দিন আপনি কর্মক্ষেত্রে সফল হতে থাকবেন।

০৫. সহকর্মীদের সাথে সব সময়ে ভালো আচরণ করুন: কর্মক্ষেত্রে সফল হতে চাইলে সহকর্মীর সাথে সুসম্পর্কের কোনও বিকল্প নেই। সত্যি কথা বলতে, এটা অন্যতম জরুরী বিষয়। সহকর্মী বলতে এখানে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান-সিইও থেকে শুরু করে ঝাড়ুদার পর্যন্ত সবাইকেই বোঝানো হচ্ছে। সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য খুব সহজ কয়েকটি বিষয় মেনে চলুন, তাহলেই হবে।

  • হাসিখুশি থাকুন: সহকর্মীদের সাথে অহেতুক গম্ভীর হয়ে থাকবেন না। সব সময়ে গম্ভীর হয়ে থাকা মানুষের সঙ্গ কেউ উপভোগ করে না। সব সময়ে গম্ভীর হয়ে থাকলে অন্যরা আপনার কাছে ঘেঁষতে চাইবে না। এর ফলে সহকর্মীদের সাথে আপনার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠতে সমস্যা হবে। সব সময়ে হাসখুশি থাকুন। সবাই যেন বুঝতে পারে আপনি তাদের সঙ্গ উপভোগ করছেন। তাহলে তাঁরাও আপনার সঙ্গ উপভোগ করবেন।

  • অহেতুক কারও সময় নষ্ট করবেন না: সবার সাথে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি এটাও খেয়াল রাখবেন – যেন আপনার কারণে কারও কাজের সময় নষ্ট না হয়। এতে সহকর্মীরা বিরক্ত হবে এবং আপনাকে এড়িয়ে চলতে চাইবে। এছাড়া আপনাকে গায়ে পড়া এবং ব্যক্তিত্বহীন মানুষ বলে মনে করবে।

আপনাকে আন্তরিকতা ও অন্যের গায়ে না পড়া – এ দুইটি বিষয় ব্যালেন্স করে চলতে হবে। যদি কাউকে জরুরী কাজ করতে দেখেন – তবে তার সাথে গল্প জুড়ে দেবেন না। প্রয়োজনীয় কাজের কথা থাকলে কথা সেরে চলে আসুন। সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য লাঞ্চ বা অফিস শেষের সময়ের মত ফ্রি-টাইম বেছে নিন।

  • ভালো একজন টিম মেম্বার হয়ে উঠুন: একজন ভালো টিম মেম্বার নিজের স্বার্থের আগে টিমের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এক একটি টিম। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি মানুষেরই সেটিকে সঠিক ভাবে চালানোর পেছনে অবদান আছে। টিম ওয়ার্ক ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। আর যেসব কর্মী নিজেকে যোগ্য টিম মেম্বার হিসেবে প্রমাণ করতে পারে, তাদের ক্যারিয়ারই সবচেয়ে সফল হয়।

ভালো টিম মেম্বার হতে সব সময়ে নিজের স্বার্থের আগে টিমের বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ দেখতে হবে। এবং অন্যদের যথাসাধ্য সাহায্য করতে হবে। অন্যদের কাছ থেকে যেমন আপনি শিখবেন, তেমনি আপনি যা জানেন – সেটাও অন্যদের শেখান। এতে টিমের সদস্যদের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে, এবং আপনার সত্যিকার দক্ষতা ও জ্ঞানকে আপনি প্রকাশ করতে পারবেন।

  • অফিস পলিটিক্স ও বিবাদ এড়িয়ে চলুন: অফিস পলিটিক্স যারা করে, তারা কখনওই দীর্ঘ মেয়াদে কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারে না। আর এটা তারাই করে যারা সত্যিকার কাজে দক্ষ নয়, তাই অন্যভাবে সফল হতে চায় – যেটা আদতে সম্ভব নয়। কোনও সহকর্মীর কাছে অন্যের নামে দুর্নাম তো করবেনই না – কেউ যদি অন্য কারও নামে আপনার কাছে দুর্নাম করে – তাতেও যোগ দেবেন না। নেগেটিভ কথার বদলে সব সময়ে পজিটিভ কথা বলুন।

কর্মক্ষেত্রে দ্বিমত থাকবেই, কিন্তু একে কখনও বিবাদে পরিনত হতে দেবেন না। রাগারাগি, গোলমাল সব সময়ে এড়িয়ে চলুন। কর্মক্ষেত্রে শত্রু তৈরী হয়ে গেলে সেখানে সাফল্য পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। কাজের বিষয়ে দ্বিমত হলেও সেটা যেন ব্যক্তিগত পর্যায়ে না যায় – সেই ব্যাপারে সচেতন থাকুন। কর্মক্ষেত্রে ভালো সম্পর্ক রাখার আরও পরামর্শ পেতে আমাদের ”সহকর্মীর সাথে সুসম্পর্ক কিভাবে গড়বেন” লেখাটি পড়ুন।

০৬. একটু বেশি কাজ করুন: আপনার জব ডেসক্রিপশনে হয়তো দেয়া আছে দিনে ৮ ঘন্টা ডিউটি। বেশিরভাগ কর্মীই ঘড়ি ধরে কাজ করেন, এবং সময় পার হয়ে গেলে আর কাজ করতে চান না। কিন্তু আপনি যদি কর্মক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য চান – তবে এই কোটার বাইরে বের হয়ে আসুন।

অসাধারণ সফল কর্মীরা কোটার বদলে নিজের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে কাজ করেন। তাঁদের কোটা যদি হয় ৮ ঘন্টা , এবং এনার্জি থাকে ১০ ঘন্টা কাজ করার – তবে তাঁরা অন্তত ৩০ মিনিট বেশি কাজ করেন। তাঁরা তাঁদের কোটা পূর্ণ করার চেয়ে নিজের ক্ষমতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। তাঁরা সব সময়ে নিজের সেরা পারফর্মেন্স দেয়ার চেষ্টা করেন।

এতে তাঁদের নিজের কাজ করতে পারার লিমিটও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। অর্থাৎ কাজ করার এনার্জি ও দক্ষতা বেড়ে যায়। এবং এক সময়ে না এক সময়ে এটা অন্যদের চোখে পড়ে। যেটা তাঁদের একটির পর একটি সাফল্যের সিঁড়ি টপকে যেতে সাহায্য করে।

পরিশিষ্ট: কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়াটা জীবনে সফল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনি যদি আপনার কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করতে পারেন, তবে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সফল হওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে, এবং সব সময়ে নিজেকে আরও দক্ষ ও উন্নত করার চেষ্টা করলে – কর্মক্ষেত্রে সফলতা সহজেই আপনার হাতের মুঠোয় ধরা দেবে। তবে অনেক সময়ে নিজের সবটা দিয়ে চেষ্টা করার পরও কাঙ্খিত সাফল্য আসে না। এই সময়ে অবশ্যই ধৈর্য ধরে কাজ করে যেতে হবে। একবারের জন্যও ভাববেন না যে এভাবে কাজ করে লাভ নেই।

সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে আপনি কর্মী হিসেবে দক্ষ হয়ে উঠবেন। অনেক সময়ে হয়তো এখন যে প্রতিষ্ঠানে আছেন – সেই প্রতিষ্ঠানে কাঙ্খিত সাফল্য পাবেন না। কিন্তু সঠিক ভাবে কাজ করলে ও নিজেকে প্রস্তুত করলে সঠিক প্রতিষ্ঠানই আপনাকে খুঁজে নেবে – অথবা নিজেই এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে যাবেন। কোনও কষ্ঠই আসলে বৃথা যায় না। অন্যান্য ক্ষেত্রের মত কর্মক্ষেত্রে সাফল্য পেতে হলেও আপনাকে নিষ্ঠা, সততা, ও ধের্যের সাথে কাজ করতে হবে। তাহলেই একদিন কর্মক্ষেত্রে কাঙ্খিত সাফল্য পাবেন। তথ্যসূত্র: লড়াকু।

SHARE