1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

কেউ ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার কেউ বা শেফ, এখন কৃষক!

দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কেন্টে একটি কৃষি খামারের পরিচালক নিক অটওয়েল। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকেই তিনি তার খামারের জন্য পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিকের অভাবে ভুগছেন। তার মতে, কৃষিকাজ এমনিতেই একটি জটিল প্রক্রিয়া। তার ওপর ভাইরাসের সংক্রমণ ও শ্রমিক সংকট পুরো প্রক্রিয়াকে জটিলতর করে তুলেছে।

অটওয়েল তার খামারে উৎপাদিত লেটুস মূলত ম্যাকডোনাল্ড’সের মতো কোম্পানিকে সরবরাহ করেন। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারীর প্রেক্ষাপটে কৃষিপণ্যটির চাহিদা ও বিক্রি একেবারেই কমে গেছে। এদিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে তার খামারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফসল আইসবার্গ লেটুস ঘরে তুলতে হবে। কিন্তু এজন্য প্রয়োজনের তুলনায় শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে অন্তত ৪৫ জন। এ অবস্থায় খামারটি টিকিয়ে রাখা নিয়েই তিনি দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।

তবে আশার কথা, কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন ছাড়াই তার কাছে কাজের খোঁজে এসেছেন অন্তত ৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা। আশ্চর্জজনকভাবে এদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছেন, যারা মূলত পেশায় প্রকৌশলী, শেফ কিংবা ওয়েট্রেস। এমনই একজন ৩২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল মার্টিন জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ব্রিটিশ নির্মাণ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারীর প্রেক্ষাপটে তাকে তার চাকরি থেকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় বেকার বসে না থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অটওয়েলের খামারে কাজ করবেন।

এদিকে মার্চের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের সরকার লকডাউন কার্যকর করলে চাকরি হারান হেস্টিংসের একটি রেস্তোরাঁর ওয়েট্রেস স্যালি পেনফোল্ড। ৪৫ বছর বয়সী এ নারীও বর্তমানে নিক অটওয়েলের খামারে কাজের জন্য এসেছেন। স্যালি বলেন, আমি ঘরে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গিয়েছি। আমার উপার্জনও বন্ধ হয়ে গেছে। আমি শুধু বাইরে গিয়ে কোনো একটা কাজ করতে চাইছিলাম। তাছাড়া আমার মনে হয়, দেশের জন্য খাদ্য উৎপাদনে যুক্ত থাকা অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।

একইভাবে লকডাউনের মধ্যে নিজের চাকরি হারান ৩২ বছর বয়সী টমাস ট্যানসওয়েল। একটি রেস্তোরাঁয় তিনি শেফ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। টমাস বলেন, আমি মূলত পুনরায় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চাইছিলাম। ফলে ঘরের বাইরে উন্মুক্ত স্থানের প্রতি ভালোবাসা ও কিছু একটা করার তাগিদ আমাকে এ কৃষি খামারে নিয়ে এসেছে। সত্যি বলতে, আমার এখানে দারুণ লাগছে, বিশেষ করে বছরের এই সময়ে। হয়তো আমি ভবিষ্যতেও কৃষিকাজের সঙ্গেই যুক্ত থাকব। কারণ এখানকার পরিবেশ খুবই চমত্কার।

অন্য পেশা থেকে কৃষিতে আসা এসব মানুষের মধ্যে সত্যিকারের আগ্রহ থাকলেও অটওয়েলের দুশ্চিন্তা ঠিক কাটছে না। কারণ তার ধারণা, নতুন নিয়োগকৃত এসব শ্রমিক হয়তো বেশিদিন এখানে টিকবেন না। কারণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো তারা ফের তাদের পুরনো পেশায় ফিরে যাবেন। আর এমন হলে মৌসুমের মাঝ সময়ে অটওয়েলের খামারে বিপর্যয় নেমে আসবে।

এদিকে দি অ্যালায়েন্স অব এথিক্যাল লেবর প্রোভাইডারস জানিয়েছে, প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ কৃষি খামারে কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত এর মধ্যে খামারে যোগ দিয়েছেন মাত্র দেড়শ জনের মতো। অটয়েলও চাইছেন তার খামারে মানুষ কৃষি শ্রমিক হিসেবে যোগ দিক। কিন্তু সত্যি বলতে, তিনি এ বিষয়ে খুব একটা আশান্বিত হতে পারছেন না।

তিনি বলেন, আমি এ খাতে জীবনের পুরো সময় ব্যয় করেছি। এ খামারের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছি ২৫ বছর। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, খুব সহজে এ সংকট দূর হবে না। কারণ কৃষি বহুলাংশেই মৌসুমি কাজ। আর ব্রিটিশ নাগরিকরা কোনো এক কারণে মৌসুমি কাজ করতে খুব একটা আগ্রহ দেখান না।

ফলে কয়েক দশক ধরেই আমাদের মূলত অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস ও লকডাউন বর্তমানে তাদের এখানে আসতে দিচ্ছে না। এ অবস্থায় আপনি চাইলে খামারে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে আপনি এখানে পুরো মৌসুম কাজ করবেন। সিএনএন বিজনেস অবলম্বনে তথ্যসূত্র: বণিকবার্তা।

More News Of This Category