1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

কোথায় কেমন কার লোন

গাড়ি কেনা এখন কেবল স্বপ্নে নয়, বাস্তবে দেখা মিলবে। গাড়িপ্রেমীদের জন্য রয়েছে সুখবর। আমাদের দেশের প্রায় অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংক সহজ শর্তে গাড়ি কেনার জন্য ঋণ দিচ্ছে। এমনি কয়েকটি ব্যাংকের গাড়ির লোনের তথ্য নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

সিটি ব্যাংকঃ
সিটি ব্যাংক ১০.৫ শতাংশ ইন্টারেস্টে কার লোন দিচ্ছে। লোন পেতে চাকরিজীবী/ব্যবসায়ীদের মাসিক আয় কমপক্ষে ৩০০০০ টাকা হলেই গাড়ির লোনের জন্য আবেদন করতে পারবে। চাকরিজীবীদের জন্য এক বছরের স্যালারি সার্টিফিকেট এবং ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজন হবে এক বছরের কো¤পানির আয়ের হিসাব।

এসব ঠিক থাকলে আপনাকে ৩ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, অফিস আইডি কপি, টিন সার্টিফিকেট, ভিজিটিং কার্ড, বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি, কমপক্ষে ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে। একজন গ্যারান্টার প্রয়োজন হবে এবং তার ছবি, ন্যাশনাল আইডি কার্ড এবং ঠিকানা দিতে হবে। এসব যাচাই-বাছাইয়ের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গাড়ির মোট মূল্যের ৫০ শতাংশ টাকা লোন সুবিধা দিয়ে থাকে। সিটি ব্যাংক ৩ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা লোন দিয়ে থাকে।

পরিশোধের সময় ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর। কোনো ইনস্টলমেন্ট নির্দিষ্ট সময়ে দিতে ব্যর্থ হলে পরের মাসে ইনস্টলমেন্টের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ শতাংশ (পারশিয়াল ফি) টাকা যোগ হবে। কার লোন নিতে প্রসেসিং ফি’র জন্য আপনাকে পুরো টাকার এক শতাংশ এবং এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত করতে হবে।

কাস্টমার অফিসার বলেন, সিটি ব্যাংক সম্প্রতি র‌্যাংগস লিমিটেডের সঙ্গে এক্সক্লুসিভ অটো লোন পার্টনার হিসেবে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় সিটি ব্যাংকের অটো লোন গ্রাহকরা র‌্যাংগসের গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ইন্টারেস্ট রেট ও প্রসেসিং ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

এছাড়া, সিটি ব্যাংকের অটো লোন গ্রাহকরা র‌্যাংগস লিমিটেডের কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা নগদ ছাড়ও পাবেন। সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস গোল্ড ও প্লাটিনাম কার্ড মেম্বাররাও এই নগদ ছাড়ের সুবিধা ভোগ করবেন। সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন ও র‌্যাংগস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।

ইস্টার্ন ব্যাংকঃ
কার লোন পেতে চাকরিজীবীদের মাসিক আয় কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, আর্কিটেক্ট, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং যৌথ আবেদনকারীর জন্য ৪০ হাজার টাকা হলে গাড়ির লোনের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে বয়স হতে হবে ২২ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। আবেদনের জন্য প্রথমে আপনাকে ১০০০ টাকা ফি দিতে হবে।

চাকরিজীবীদের জন্য এক বছরের স্যালারি সার্টিফিকেট এবং ব্যবসায়ীদের জন্য দিতে হবে এক বছরের আয়ের হিসাব। তবে উভয় পেশার জন্য ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আরও প্রয়োজন হবে ৩ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, অফিস আইডি কপি, টিন সার্টিফিকেট, ভিজিটিং কার্ড, বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি, কমপক্ষে ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে।

এখানে লোনের জন্য গ্যারান্টার প্রয়োজন নেই। ইস্টার্ন ব্যাংক গাড়ির মোট মূল্যের ৫০ শতাংশ টাকা লোন দিয়ে থাকে। ন্যূনতম ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন দিয়ে থাকে। পরিশোধের সময় ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর। কোনো ইনস্টলমেন্ট নির্দিষ্ট সময়ে দিতে না পারলে পরের মাসে ২ শতাংশ (পারশিয়াল ফি) যোগ হবে।

যৌথ আবেদনকারীর জন্য ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ৩ কপি ছবিতে উভয়ের স্বাক্ষর দিতে হবে। অফিস আইডি এবং ভিজিটিং কার্ডে নিজের সাইন দিতে হবে। এখানে ১০ শতাংশ সুদে গাড়ির লোন মিলছে, যা অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় কিছুটা কম।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকঃ
মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকা, ৬ মাসের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং বয়স যদি ২৩-৬৫ বছরের মধ্যে থাকে, তাহলে নতুন এবং রিকন্ডিশন গাড়ির জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। গাড়ির মোট টাকার ৫০ শতাংশ টাকা ব্যাংক লোন সহায়তা দিয়ে থাকে। সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা লোন সুবিধা পেতে পারেন। তবে এক শতাংশ প্রসেসিং ফি দিতে হবে।

পারশিয়াল ফি ২ শতাংশ। এখানে সুদের হার ১১ শতাংশ। তবে গ্রামীণ ফোন স্টার গ্রাহকদের জন্য সুদের হার ৯.৯০ শতাংশ এবং তাদের গাড়ির লোনের জন্য কোনো প্রসেসিং ফি প্রয়োজন নেই। ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে লোন পরিশোধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর ইনস্টলমেন্ট দিলে ২ শতাংশ টাকা মূল টাকার সঙ্গে যুক্ত হবে।

পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, অফিস আইডি কপি, টিন সার্টিফিকেট, ভিজিটিং কার্ড, বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি। কমপক্ষে ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি জমা দিতে হবে। এখানে কোনো গ্যারান্টারের প্রয়োজন নেই। তবে দু’জন পরিচয় দানকারীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানা দিতে হবে।

ব্র্যাক ব্যাংকঃ
ব্র্যাক ব্যাংকে সুদের হার ১০.২৫ শতাংশ। লোন পেতে ১ শতাংশ প্রসেসিং ফি দিতে হবে। পারশিয়াল ফি ২ শতাংশ। মোট টাকার ৫০ শতাংশ লোন সুবিধা পাওয়া যায়। এখানে ৩ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন সুবিধা পেতে পারেন, যা ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

তবে লোন পেতে হলে আপনার মাসিক আয় কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা হতে হবে। বয়স ২১ বছর থেকে ৬৫ বছর এবং এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই আপনি গাড়ির লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

লোন গ্রহীতার ৪ কপি ছবি, পাসপোর্ট/ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ১ বছরের স্যালারি সার্টিফিকেট, ১ বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে স্লিপ/ ক্যাশ ভাউচার, ভিজিটিং কার্ড, টিন সার্টিফিকেট, বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি ইত্যাদি দিতে হবে।

লংকা বাংলাঃ
লংকা বাংলায় সুদের হার ১১ শতাংশ। লোন পেতে ১ শতাংশ প্রসেসিং ফি দিতে হবে। পারশিয়াল ফি ২ শতাংশ। মোট টাকার ৮০ শতাংশ লোন সুবিধা পাওয়া যায়। ৩ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন দিয়ে থাকে, যা ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৬ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

তবে লোন পেতে হলে আপনার মাসিক আয় কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা হতে হবে। বয়স ২৫ বছর থেকে ৫৫ বছর এবং ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই আপনি গাড়ির লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

লোন গ্রহীতার ২ কপি ছবি, পাসপোর্ট/ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ১ বছরের স্যালারি সার্টিফিকেট, পে স্লিপ/ ক্যাশ ভাউচার, ভিজিটিং কার্ড, টিন সার্টিফিকেট, বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি, ১ বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি দিতে হবে। এখানে লোন পেতে হলে ২ জন গ্যারান্টার এবং তাদের তথ্য দিতে হবে। তথ্যসূত্র: কারিকা।

More News Of This Category