কোন বিদেশী কোম্পানী এদেশে এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে না

বিদেশি কোনও কোম্পানি এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, ওভার অ্যান্ড আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। মানি লন্ডারিং ও টেরোরিস্ট ফাইন্যান্সিং বিষয়ে আইন সংস্কার করা হবে।সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মানি লন্ডারিং সম্পর্কিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ট্রান্সফার প্রাইসিং হোক আর যা-ই হোক, এ দেশে বিদেশি বেশকিছু কোম্পানি কাজ করে। এ দেশে বিদেশি কোনও কোম্পানি এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে না। কারণ, এককভাবে বিদেশি কোম্পানি কাজ করলে আমরা রাজস্ব পাই না। তাই বিদেশি কোনও কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করতে চাইলে তাদের বাংলাদেশের কোনও কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। অন্তত আমরা যেন অর্ধেক রাজস্ব পাই।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থপাচার মূলত ব্যাংক ও এনবিআর এই দুই জায়গার মাধ্যমে হয়। এর বাইরে বড় আকারে মানি লন্ডারিংয়ের ব্যবস্থা নেই। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি-রফতানির মাধ্যমে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি (ঋণপত্র) খোলার মধ্য দিয়ে অর্থপাচার হয়। আমদানি-রফতানির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধে আমরা শতভাগ স্ক্যানারের ব্যবস্থা করছি।’

ওভার বা আন্ডার প্রাইসিং সহ্য করা হবে না: মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এছাড়া ওভার প্রাইসিং আর আন্ডার প্রাইসিং রোধে পিএসআই’র আদলে এনবিআরে একটি সেল খোলা হবে। তারা নেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার নেটওয়ার্কে ঢুকে পণ্যের দাম জানবে। তারপর তারা রিপোর্ট করবে। ওই দামের চেয়ে ঊনিশ-বিশ হলে সমস্যা থাকবে না। তবে বেশি পার্থক্য থাকলে সেসব পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হবে।’

অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এখানেই শেষ নয়, যারা এর সঙ্গে জড়িত থাকবে এখন তাদের শুধু জরিমানা করা হয়। আগামীতে জরিমানার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে। মামলার রায় অনুযায়ী তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ব্যাংক ব্যবস্থা এবং আমদানি-রফতানির আড়ালেই অর্থপাচার হয়। অর্থপাচার ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। অর্থপাচার রোধে সব আমদানি-রফতানি করা পণ্য যথাযথভাবে স্ক্যানিং করা হবে। পাশাপাশি আমদানি-রফতানিতে যারা ওভার অ্যান্ড আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের জরিমানার পাশাপাশি মামালা করা হবে। মামলার রায় অনুযায়ী তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

‘দুর্নীতির অর্থই সন্ত্রাসে অর্থায়ন হয়’: অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন— এ দুটোই রোধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, ‘আমরা আর দুর্নীতি চাই না।’ মানি লন্ডারিংও একটা দুর্নীতি। আর দুর্নীতির অর্থই সন্ত্রাসে অর্থায়ন হয়। সুতরাং এ দুই ক্ষেত্রকেই ‘না’ করতে হবে। এটা বাস্তবায়ন করার জন্য যেখানে মানি লন্ডারিংয়ের কিছু হয়— এমন তথ্য থাকলেই বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কারো বিরুদ্ধে নই। কিন্তু কেউ দেশের ক্ষতি করে, জনগণের ক্ষতি করে পার পেয়ে যাক— এটা আমরা চাই না। সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। তবে কাউকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন করতে দেওয়া হবে না। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’

SHARE