ক্যারিয়ারে এমবিএ ডিগ্রি কতটুকু দরকার?

১৮১৯ সালের দিকে মানুষ চিন্তা করত ব্যবসায়িক সমস্যাকে কীভাবে মুনাফায় রূপান্তর করে সমাধান করা যায়। সে সময় থেকে ব্যবসায়িক চিন্তা ও ধরনে পরিবর্তন আসে। ওই সময়ে ব্যবসাগুলো দিন দিন বড় হচ্ছিল, নতুন নতুন সমস্যার আবির্ভাব হচ্ছিল। তখন ব্যবসায়ীরা ভাবলেন কী করে ভালোভাবে ব্যবসা করা যায়।

এমন চিন্তা থেকে বিজনেস স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। কারণ সাধারণ পড়ালেখা দিয়ে ব্যবসায়িক সমস্যাগুলোর সমাধান করা যাচ্ছিল না। প্রথম দিকে পৃথিবীতে শুধু এমবিএ ছিল, যেখানে যোগ্য ও উচ্চপদস্থ একজন ব্যক্তি একপর্যায়ে গিয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো দেখল এমবিএ খুব ব্যয়বহুল একটি ডিগ্রি। তাই তারা জোর দিল বিবিএর ওপর।

বিবিএতে কিছু বেসিক জিনিস শেখানো হয়, যা দিয়ে মোটামুটি স্বাভাবিক কাজগুলো হয়ে যায়। আগে বেশি টাকা খরচ করে একটি প্রতিষ্ঠান এমবিএ ডিগ্রিধারী ব্যক্তিদের নিত, কিন্তু এখন বিবিএ শেষ করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিচ্ছে। সোজা কথায় বলতে গেলে, বিবিএতে প্রাথমিক জ্ঞান থাকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের, আর এমবিএ বিশদ তথ্য ও জ্ঞানের শাখা।

এমবিএ একটি প্রফেশনাল ডিগ্রি। বিশ্বের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দুই থেকে তিন বছরের প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা ছাড়া এমবিএ করার সুযোগ দেয় না। একজন ব্যক্তি একটা প্রফেশনে কয়েক বছর কাজ করার পর যখন বুঝতে পারবেন যে আরো বেশি জ্ঞান অর্জন করা দরকার বা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে, তখন তিনি একটি এমবিএ ডিগ্রি নিতে পারেন।

তবে যারা কোনো চাকরির অভিজ্ঞতা ছাড়া এমবিএ করে যাচ্ছেন তাদের বিষয়টা হলো, বিবিএ দিয়ে চাকরি পাচ্ছেন না, তাই এমবিএ করে তারপর ফ্রেশার হিসেবে চাকরিতে ঢুকছেন। আর যিনি বিবিএ করে চাকরি করে এরপর এমবিএ ডিগ্রি নিচ্ছেন, তিনি খুব দ্রুত ক্যারিয়ারের উপরে উঠে যান।

এমবিএ ডিগ্রিধারী সিএ বা আইসিএমএ ডিগ্রিধারী থেকে আলাদা। যারা সিএ বা আইসিএমএ ডিগ্রি নিচ্ছেন, তারা অ্যাকাউন্টস বা অডিট সেক্টরে থাকছেন। তাদের কিন্তু ব্যবসা পরিচালনায় আসার কথা নয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, সিএ করা ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানের লিডিং পর্যায়ে রয়েছেন। এ সংখ্যাটা কম।

এমবিএ হোল্ডাররা অ্যাকাউন্টস পরিচালনা করেন না, কিন্তু অ্যাকাউন্টস হোল্ডারকে কাজের দিকনির্দেশনা দেন। আর কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি কেউ ডিরেক্টর বা সিইও হতে চান, সেক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং বা এইচআরএমের ওপর এমবিএ ডিগ্রি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুল নিয়ে আমি খুশি।

কারণ এখানকার অধিকাংশ ফ্যাকাল্টি মেম্বার খুবই দক্ষ। তাদের সবার টিচিং অভিজ্ঞতা রয়েছে। সবচেয়ে বড় দিক হলো, বিদেশী ডিগ্রিধারী কোনো শিক্ষক ছাড়া আমরা কাউকে এমবিএ ক্লাস দিই না। এখানকার শিক্ষকরা আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ অর্জন করেছেন এবং করপোরেট জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের; যা বাংলাদেশের একটি বা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এখানকার এমবিএ ফ্যাকাল্টি অনেক বেশি দক্ষ ও যোগ্য। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ স্কলারশিপ দেয়া হয়।

চাকরির থেকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি যোগ্য এমবিএ হোল্ডার তৈরির ওপর। কারণ আমরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চাকরির জন্য এক লাখ সিভি পাই, কিন্তু ১ লাখ টাকার চাকরির জন্য সিভি পাই না। তো এ চিত্র থেকে বোঝা যায়, আমরা যোগ্য এমবিএ হোল্ডার তৈরি করতে পারছি না।

তাই আমরা শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছি। এছাড়া আমাদের ১৫ থেকে ২০ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউ চুক্তি করা আছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নি করতে পারবেন এবং চাকরির ক্ষেত্রে বিশাল সুযোগ পাবেন বলে আমি মনে করি।

মোটাদাগে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট বলা যায় এ বিষয়ে। দ্রুত চাকরির সুযোগ করে দেয় এমবিএ ডিগ্রি। শুধু তা-ই নয়, অন্যদের তুলনায় বেশি বেতনের চাকরি পেতে সহায়তা করে। যারা আগে থেকে নিজেই নিজের বস হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের স্বপ্ন আরো প্রখর করে তোলে এমবিএ। উদ্যোক্তা বা বস হওয়ার এটাই উত্তম উপায়।

করপোরেট দুনিয়ায় সবচেয়ে ভালো ক্যারিয়ারের সুযোগ দেয় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো। নামিদামি বিশ্বসেরা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এমবিএ মানেই হলো এক ধাপ এগিয়ে থাকলেন আপনি। আর এমবিএ সারা বিশ্বের স্বীকৃত একটি ডিগ্রি। প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে এ প্রফেশনাল ডিগ্রিতে। লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, বিজনেস স্কুল, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। তথ্যসূত্র: বনিকবার্তা।

SHARE