1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

খুব সহজে ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন পাবেন যেভাবে!

অধিকাংশ লোকজন ইসলামী ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানেন না। বিশেষকরে ইসলামী ব্যাংক লোন নেওয়ার পদ্ধতি অন্যান্য ব্যাংকের চাইতে কিছুটা ভিন্ন হওয়ার কারনে ইসলামি ব্যাংক থেকে লোন নিতে সমস্যা পড়তে হয়। তাছাড়া ইসলামি ব্যাংকের সুদের (মুনাফা) বিষয়টি নিয়ে সকলের মাঝে ভিন্ন মতবাদ থাকার কারনে লোন নিতে আরো ঝামেলা পোহাতে হয়। এই সকল বিষয় নিয়ে আজ আলোচনা করব।

ইসলামিক ব্যাংক লোন বা ইসলামিক ব্যাংক থেকে লোন, সেটা হতে পারে ইসলামিক ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড কিংবা হতে পারে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক অথবা অন্যান্য যে সকল ৮ টি ইসলামিক ব্যাংক আছে। সে ক্ষেত্রে অনেকের কমপ্লেন হচ্ছে যে, আপনারা ইসলামিক ব্যাংকের লোনের জন্য গিয়েছেন কিন্তু তারা লোন দেয়নি। ইসলামী ব্যাংক সুদ খায়, ইসলামী ব্যাংক সবচেয়ে বড় প্রতারক। ইসলামিক ব্যাংক সম্পর্কে এই ধরনের নানা কমপ্লেন লোক মুখে শুনা যায়।

আজকের এই লেখাটি শুধু মাত্র তাদের জন্য যারা আসলে ইসলামিক ব্যাংকের বেসিক জিনিসটি এখনো ক্লিয়ার হতে পারেননি। আপনি সর্বপ্রথম একটি জিনিস মনে রাখবেন যে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হচ্ছে সুদযুক্ত এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ইন্টারেস্ট নেয়। তাই বাংলাদেশের অন্য যে কোন ব্যাংক হউক না কেন সেটা শতভাগ সুদ মুক্ত না। বর্তমান বিশ্বে এমন কোথাও এমন কোন ব্যাংক নাই যেটি ১০০% সুদ মুক্ত।

বাংলাদেশে যে সমস্ত ইসলামী ব্যাংক আছে তারা তাদের নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করছে সুদ মুক্ত থাকার জন্য কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সেটি সম্ভব না। তবে সকল ইসলামি ব্যাংক গুলো সুদ মুক্ত হওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের সকল ইসলামি ব্যাংক গুলোর কিছু দুর্বলতা আছে তারাও অন্যান্য ব্যাংকের মত ল্যাভ্যাংশ নেয় এবং তারাও অন্যান্য ব্যাংকের মত জরিমানা করে, এ ধরনের নানা অভিযোগ আছে। তবে আজকে আমরা সেই সকল বিষয় বা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করব না। আমরা এখানে শুধুমাত্র ইসলামিক ব্যাংকের লোন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

ইসলামি ব্যাংকের সংখ্যা: বাংলাদেশের মোট ৮ টি ইসলামিক ব্যাংক রয়েছে। যথা— ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। শাহ্জালাল ইসলামি ব্যাংক। আল আরাফাহ্ ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড। সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড। আইসিবি (ICB) ইসলামিক ব্যাংক। ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড। এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড। সোনালি ব্যাংক লিমিটেড।

ইসলামী ব্যাংক লোন পদ্ধতি: বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের যে সমস্ত লোন সার্ভিস আছে সেটা ব্যাংক কর্তৃক্ষ লোন বলতে রাজি নয়। তারা এটাকে ইনভেস্টমেন্ট বলে থাকে। ইসলামি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে কত পর্যন্ত লভ্যাংশ দিতে হবে এবং ইন্টারেস্ট ফি বা ইন্টারেস্টের পরিমাণ কত সেটাও এখানে বলে দেওয়া হবে।

আপনি কোন ক্ষেত্রে এ লোনটি পেয়ে থাকবেন এবং লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কি কন্ডিশন মানতে হবে এবং কি জন্য আপনি লোন পাবেন না সবকিছুই কিন্তু আজকের পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করব। এ ছাড়াও ইসলামি ব্যাংক লোন সর্বোচ্চ কত দিনের জন্য পাবেন এবং কি কি কাজে লোনটি পেয়ে থাকবেন সে সম্পর্কে জানানো হবে।

ইসলামী ব্যাংক লোন নেওয়ার পদ্ধতি: ইসলামী ব্যাংক মূলত ছয় ভাবে ঋণ প্রদান করে থাকে। প্রথমে যেটা রয়েছে সেটা হচ্ছে নতুন বাড়ি ক্রয়ের জন্য, তার পরবর্তী রয়েছে নতুন ফ্যাট ক্রয় কিংবা পুরাতন বাড়ি ক্রয় করতে আপনি ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন (ইনভেস্ট) নিতে পারেন। তাছাড়া ইসলামী ব্যাংক আরো তিন ভাবে ঋণ প্রদান করে থাকে।

নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে আপনি লোন নিতে পারবেন, ফ্ল্যাট নির্মানের ক্ষেত্রে ঋণ নিতে পারবেন এবং বাড়ি সংস্কার ও বর্ধিত করনের জন্যও ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়াও ইসলামী শরীয়াহ্ অনুমোদন করে, এমন সকল খাতেই বাংকের ইসলামী ব্যাংকিং বিভাগ বিনিয়োগ (লোন) করে। যেমন, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, রিয়াল এস্টেট ইত্যাদি। তবে আজকের পোস্টে আমরা শুধুমাত্র ইসলামি ব্যাংকের হোম লোন নিয়ে আলোচনা করব।

ইসলামি ব্যাংক হোম লোন: ইসলামী ব্যাংক থেকে যদি আপনি ঋণ নেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে বাড়ি তৈরীর জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ এবং সর্বনিম্ন ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আপনার পিছনে ইনভেস্ট করবে। আর ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সবচেয়ে ভালো সুবিধা হচ্ছে এটাই যে, আপনি যে সকল জিনিসপত্র কিনবেন, যেমন-রড সিমেন্ট বালি বালি, এ ক্ষেত্রে মূলত তারা সকল মালামাল নিজে কিনে দিবে, আপনাকে কিনতে দিবে না, কেন না সবসময় তারা এটাকে ইনভেসমেন্ট বলে থাকে।

এছাড়া আপনার যে বাড়ি আছে সেই বাড়ি সংস্কারনের করে বর্ধিতকরণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে ইসলামি ব্যাংক আপনাকে সর্বনিম্ন ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনভেস্ট করে থাকবে। প্রথমে যেহেতু বলেছি তারা এটাকে সবসময় ইনভেস্ট বলে থাকে কিন্তু ঋণ বলতে রাজি নয়।

ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার শর্ত: সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এক বছর চাকরির অভীজ্ঞতা থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনার চাকরির অভীজ্ঞতা এক বছর হলে আপনি ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাড়ি ওয়ালাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাড়ি ভাড়ার আয়ের প্রমান পত্র দেখাতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি চাকরিজীবী যাদের ব্যাংক একাউন্টে বেতন হয় তাদের সর্বশেষ ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর দরকার হবে। তবে যাদের বেতন ক্যাশে হয়, তাদের আলাদা করে ভেরিফাই করা হবে।

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, আর্কিটেকের জন্য সর্বনিম্ন এক বছর একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে অর্থাৎ দেখা গেল ছয় মাস এই প্রতিষ্ঠান আরো ছয় মাস আরেক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেন, এই জিনিসটা হবে না। যে কোন একটা প্রতিষ্ঠানে একটানা মিনিমাম এক বছর কর্মরত থাকতে হবে।

ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসার বয়স সর্বনিম্ন এক বছর হতে হবে, যদি আপনি এই কাজটা করে থাকেন তাহলে আপনি ইসলামী ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনি যদি একজন ব্যবাসায়ি হয়ে থাকেন তাহলে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বশেষ ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর দরকার হবে। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে সকল ডকুমেন্ট নেওয়া হবে সেগুলো হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট।

গ্যারান্টর কে হবেন? ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনার ২ জন গ্যারান্টর থাকতে হবে। বাবা-মা ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজন বা কাছের মানুষকে আপনি গ্যারান্টর করতে পারবেন। এটা সম্পূর্ণ আপনার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তবে অবশ্যই যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল তাদেরকে গ্যারান্টর করতে হবে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট: ইসলামী ব্যাংক থেকে হোম লোন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার নিজস্ব ব্যক্তিমালিকানার একটা জমি থাকতে হবে কিংবা আপনার পিতার নামে যে কোন একটা জমি থাকলে হবে। এছাড়াও এখানে দরকার হবে জমির মূল দলিল, এখানে সার্টিফাইড কপি গ্রহনযোগ্য হবে না। বিস্তারিত নিচে দেখুন—

প্রাইভেট প্লেটের ক্ষেত্রে: জমির মূল মালিকানা দলিল, বায়া দলিল। সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস খতিয়ানের জাবেদা নকল। ডিসিআর, খাজনা রশিদ ও নামজারী খতিয়ান। জেলা/সাব রেজিষ্ট্রি অফিস কর্তৃক ইস্যুকৃত ১২ (বার) বছরের নির্দায় সনদ (এনইসি)। সরকারী প্লটের ক্ষেত্রে প্লটের বরাদ্দ পত্র। দখল হস্তান্তর পত্র। মূল লীজ দলিল ও বায়া দলিল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)। লীজ দাতা প্রতিষ্ঠান হতে বন্ধক অনুমতি পত্র। হস্তান্তর মূলে মালিক হলে হস্তান্তর অনুমতিপ্রত ও নামজারী, ডিসিআর ও খাজনা রশিদ।

ইসলামি ব্যাংকের লোনের ইন্টারেস্ট: সাধারণত ইসলামিক ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে ১৬% ইন্টারেন্স (মুনাফা) নিয়ে থাকে। এ ছাড়াও লোনের ধরণ, মেয়াদ ও লোনের এমাউন্টেবেদে ইন্টারেস্ট এর পরিমান সামান্য কম হতে পারে।

শেষ কথা: আশাকরি আপনি ইসলামী ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা পেয়েছেন। এ ছাড়াও ইসলামি ব্যাংকের অন্যান্য যে সমস্ত লোন (ইনভেস্টমেন্ট) রয়েছে সেই সকল ইসলামী ব্যাংক লোন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। তথ্যসূত্র: ব্লগার বাংলাদেশ।

More News Of This Category