খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে

ঋণখেলাপিদের জন্য বড় সুবিধা আসছে, এমন ঘোষণায় তিন মাসেই দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এর ফলে প্রথমবারের মতো অবলোপনের হিসাব বাদে খেলাপি ঋণ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতসব ব্যাংকমালিকের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেছিলেন, ‘আজ থেকে খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না।’ আর জানুয়ারি-মার্চ এ তিন মাসেই খেলাপি ঋণ এত বাড়ল। গত মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সাল শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বরের চূড়ান্ত হিসাব তৈরির আগে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিভিন্ন নিয়মে ছাড় দিয়ে ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও অনেকে ঋণ পুনঃ তফসিল করেছিলেন। ওই সময়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত করা হয়। এসব ঋণ এখন নতুন করে খেলাপি হয়ে পড়েছে। যে কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে।

সূত্র জানায়, মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ২০০৯ সালের শুরুতে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। আর এখন তা বেড়ে হলো প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ বছর ৩ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪ গুণ।

এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক তথ্য। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারাই বলছেন, প্রকৃত খেলাপি ঋণ আরও অনেক বেশি। অনেক ব্যাংক বড় অঙ্কের ঋণ আদায় করতে পারছে না, আবার তা খেলাপি হিসেবেও চিহ্নিত করছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকও এতে নজর দিচ্ছে না। এ ছাড়া শেয়ারবাজারের অজুহাতে প্রতিবছরই ব্যাংকগুলো নানা ছাড় নিচ্ছে। এতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্যও বেরিয়ে আসছে না। পাওয়া যাচ্ছে না ব্যাংকগুলোর প্রকৃত চিত্র।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘আমি মনে করি, ঘোষিত খেলাপি ঋণের চেয়ে অঘোষিত বেনামি ঋণ বেশি ভয়ংকর। খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনগত কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে।’ তথ্যসূত্র: প্রথমআলো।

SHARE