1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রয়োজন নেই তবুও ব্যয়!

তৈলাক্ত ও কঠিন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বে-ক্লিনার-১ ও বে-ক্লিনার-২ নামের দুটি জাহাজ কেনার প্রকল্প নেয়া হয় ২০১০ সালে। দীর্ঘ সময় পেরোলেও জাহাজ দুটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে বন্দরের জলসীমায়। এর ফলে বিনিয়োগের বিপরীতে বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়ের খাতে এখন পর্যন্ত একটি টাকাও যোগ হয়নি। উল্টো বন্দরের ব্যয় বাড়ছে নিষ্ফলা বিনিয়োগের জেরে।

জাহাজ দুটির পরিচালন ব্যয়, জনবলের জন্য অধিকাল ভাতা, অবচয়, ফোম কেমিক্যাল ক্রয়, জ্বালানি ক্রয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ দেখিয়ে প্রতি বছর ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা ব্যয় করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই না করে চাহিদাবহির্ভূত খাতে এ ধরনের বিনিয়োগ বন্দরের আর্থিক ভিতকে দুর্বল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বন্দরে অলাভজনক (নন-রেভিনিউ জেনারেটিং) খাতে বিনিয়োগ ব্যয়ের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে খোদ বন্দর কর্তৃপক্ষের গঠিত একটি কমিটির প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নন-রেভিনিউ জেনারেটিং খাতে বিপুল পরিমাণ ব্যয়ের কারণে দীর্ঘমেয়াদে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান আর্থিক বুনিয়াদের ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চিটাগং পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জাহাজ হতে পোড়া তেল সংগ্রহের জন্য সংগ্রহ করা ভেসেলের কোনো কার্যক্রম নেই। কারণ বাংলাদেশের পোর্টগুলোয় জাহাজ হতে পোড়া তেল সংগ্রহ একটি লাভজনক ব্যবসা।

ব্যবসায়ীরা এ তেল সংগ্রহের পর তা পরিশোধন করে বাজারে বিক্রয় করেন। চট্টগ্রাম বন্দরে আসা বিদেশী জাহাজের পোড়া তেল ও মবিল এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্য কেনার জন্য এক প্রকার প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। তাই এ ভেসেল না ক্রয় করে এর অর্থ দ্বারা বন্দরের উন্নয়নের জন্য অন্য কাজ করা যেত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বন্দরের জন্য জাহাজ দুটি ক্রয়ে টাকা ব্যয় হলেও মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মূল্যায়নে বিষয়টি উঠে এসেছে। এখানে অর্থই অপচয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আইএসপিএস বিধিমালা এবং ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) নীতিমালা অনুযায়ী পৃথিবীর অন্যান্য বন্দরে এ ধরনের দূষণরোধক বিশেষায়িত জাহাজ থাকার বিধান রয়েছে। পরিবেশ দূষণ হয় এমন কোনো দুর্ঘটনায় এসব জাহাজ কার্যকর।’

বন্দরের তথ্যমতে, প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজ থেকে পোড়া তেল ও মবিলসহ অন্যান্য কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধন করা হবে। এজন্য তৈলাক্ত ও কঠিন বর্জ্য অপসারণের জন্য দুটি জাহাজ কেনার পাশাপাশি একটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

বন্দর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় তেলবর্জ্য দূষণরোধে নেয়া প্রকল্পে বে-ক্লিনার-১-এর কাজ হচ্ছে, বন্দরের জলসীমায় পানিতে ভাসমান বস্তু তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে জমা করা। আর বে-ক্লিনার-২-এর কাজ হলো নদ-নদীতে ছড়িয়ে পড়া বা জাহাজের ভেতর থেকে পড়ে যাওয়া পোড়া তেল সংগ্রহ করে দূষণ রোধ করা। জাহাজে থাকা এক ধরনের ফোম দিয়ে বে-ক্লিনার-২ নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়া রোধ করে তা নির্ধারিত স্থান থেকে তুলে নিতে সক্ষম।

চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যয়ের খাত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত চার বছরে কর্তৃপক্ষের ব্যয় ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যয় ছিল ৮১৫ কোটি টাকা। এরপর যথাক্রমে ২০১৪-১৫-তে ৮৫০ কোটি, ২০১৫-১৬-তে ১ হাজার ৬০ কোটি, ২০১৬-১৭-তে ১ হাজার ৩৫০ কোটি ও সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (প্রবেশনাল) বন্দরের ব্যয় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তথ্যসূত্র: বনিকবার্তা।

More News Of This Category