1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

চলনবিলের কাদামাটিতে মরিয়াম খেজুর চাষে সাফল্য

মরুভূমির খেজুর চলনবিলের কাদামাটিতে ফলিয়েছেন আবদুল জলিল। এরই মধ্যে গাছগুলোতে ফল আসতে শুরু করেছে। যাকে বিস্ময়কর হিসেবে উল্লেখ করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসার। জলিল পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। তিনি মরিয়ম জাতের বীজ এনে খেজুরের আবাদ করেছেন।

বিশ্বাস, আবেগ আর ধৈর্যকে কাজে লাগিয়ে অসম্ভব কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি। প্রতিদিন খেজুর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছে তাঁর বাড়িতে। তিনি চাটমোহরসহ পুরো চলনবিল এলাকায় খেজুর চাষ ছড়িয়ে দিতে চান। সরেজমিনে আবদুল জলিলের বাড়ি গেলে তিনি জানান, ২০১২ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসরে যাওয়ার পর সৌদি আরবের মক্কা-মদিনায় পবিত্র হজ পালন করতে যান।

সেখানে বেশ কিছু খেজুরের বাগান ঘুরে বেড়ান। এ সময় তাঁর প্রবল ইচ্ছা হয় তিনিও গ্রামের বাড়িতে সৌদি খেজুরের বাগান করবেন। পরে সেখান থেকে মরিয়ম জাতের বেশ কিছু বীজ সংগ্রহ করেন এবং হজ শেষে দেশে ফিরে আসেন। বড় পরিসরে চিন্তা করার আগে তিনি বাড়ির সামনের আঙিনায় বীজ থেকে উৎপাদিত ৩৪টি চারা রোপণ করেন। কিন্তু সব গাছের চারা মারা যায়।

তবে এই বিপর্যয় তাঁকে দমাতে পারেনি। ২০১৩ সালে প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে দিয়ে আবারও সামান্য কিছু মরিয়ম জাতের বীজ এনে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১৬টি গাছ বেঁচে থাকে। গত ছয় বছর ধরে নিজেই পরিচর্যা করে গেছেন। আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে গাছগুলো। এবার সেই গাছগুলোতে খেজুর ধরেছে এবং এসেছে খেজুরের বাদা।

তাই এবার কৃষিজমিতে বড় পরিসরে বাগান করার চিন্তা করছেন। এ পর্যন্ত বীজ, সার-কীটনাশকসহ সব কিছু মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান রশীদ হোসাইনী বলেন, চলনবিল এলাকায় এই প্রথম কোনো ব্যক্তি সৌদি খেজুর চাষ করছেন। এরই মধ্যে গাছগুলোতে ফল আসতে শুরু করেছে, যা সত্যিই বিস্ময়কর। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাঁকে সব রকমের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

More News Of This Category