1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

চাকরি ছেড়ে সফল মাল্টা চাষী

চাকরি ছেড়ে মাল্টা চাষে সফলতা পেয়েছেন শেরপুরের আনোয়ার হোসেন। শেরপুরের নকলা উপজেলায় ধান চাষের উপযোগী সমতল জমিতে সম্ভাবনাময় ফল মাল্টার চাষ করে সফলতা পেয়েছেন উপজেলার টালকী ইউনিয়নের ফুলপুর এলাকার অনোয়ার হোসেন। আনোয়ার ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

পরিবারিক প্রয়োজনে তিনি চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে এসে মাল্টার বাগান করার পরিকল্পনা করেন। শুরুতে লোকসানের ভয়ে বিষয়টিকে পরিবারের কেউই ভালোভাবে না নিলেও, এখন তার সফলতা দেখে সবাই তাকে সহযোগিতা করছেন। ২০১৭ সালে ১০ শতক জমিতে ৫০টি গাছ দিয়ে তিনি মাল্টার বাগান শুরু করেন। ওই বছরই প্রতিটি গাছে পাঁচ-সাতটি করে মাল্টা ধরে। এরপর মাত্র তিন বছরেই তিনি আজ সফল মাল্টা চাষির পরিচিতি পেয়েছেন।

আনোয়ারের বাগানের আশপাশের বাতাসে যেন টক-মিষ্টির গন্ধ। গাছের পাতার চেয়ে মাল্টা বেশি ধরেছে। পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে মাল্টা। কম্পোস্ট, কেঁচো বা ভার্মিকম্পোস্ট, খৈল ও গোবরসহ বিভিন্ন জৈবসার ব্যবহারে বেড়ে ওঠা বাগানের ওইসব গাছে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে ছোট-বড় হাজারো মাল্টা। ফলের ভারে পুরো বাগানের গাছগুলো যেন নুয়ে পড়েছে।

এ দৃশ্য ও আনোয়ারের সফলতা দেখে যে কেউ বিমোহিত হবেন। কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালের শুরুতে একটি প্রিন্ট পত্রিকা ও একটি বেসরকারি টেলিভিশনে মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার একটি প্রতিবেদন দেখে তিনি এ বিদেশি ফল চাষে আগ্রহী হন।

তার পিতা আবদুর রহমান জানান, বিদেশি মাল্টার চেয়ে তার ছেলের বাগানের মাল্টা বড়, রসালো ও বেশ সুস্বাদু। তাই এ বাগানের অধিকাংশ মাল্টা বিভিন্ন এলাকার রোগীরা পথ্য হিসেবে খেয়ে থাকেন। দূরের বিভিন্ন এলাকার রোগীরা এ বাগান থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে যান। ২০১৮ সালে তার বাগানের প্রতিটি গাছে ১৫ থেকে ২৫ কেজি করে মাল্টা ধরে।

ওই বছর নিজেরা খাওয়ার পর অবশিষ্ট মাল্টা স্থানীয় বাজারে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করেন। ২০১৯ সালে প্রতিটি গাছে ২০ কেজি থেকে ৪০ কেজি করে ফলন হয়। এসব মাল্টা স্থানীয় পাইকাররা বেশি দামে কিনে নিলেও, প্রচুর চাহিদা থাকায় পাইকারদের লাভ বেশি হয়।

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, মাল্টা বছরে একবার ফলন হওয়ার কথা শোনা গেলেও, প্রকৃতপক্ষে আমার বাগানে সারা বছরই মাল্টা ধরছে। এতে করে দামও পাচ্ছি ভালো। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করলে, যে কেউ স্বাবলম্বী হবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই বলে দাবি এ চাষির।

উপজেলা কৃষি অফিসার পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, নকলার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের উপযোগী। আনোয়ার হোসেন মাল্টার বাগান করে সুফল পেয়ে লাভবান হয়েছেন। আমাদের দিক থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

More News Of This Category