1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

চাকরি ছেড়ে সফল সমন্বিত কৃষি উদ্যোক্তা

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের রূপগ্রামের নিন্মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে সোহেল রানা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার পাট চুকানোর পর কিছুদিন সংবাদপত্রে চাকরি করেন। পরে সেই চাকরি চেড়ে দিয়ে গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। তাঁর খামারের নাম ‘রূপগ্রাম অ্যাগ্রো ফার্ম’।

সোহেল রানার সমন্বিত কৃষি খামার এখন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অবস্থায় একটি দৈনিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন সোহেল রানা। পড়াশোনা শেষে ওই পত্রিকার ফিচার বিভাগে চাকরি নেন। এছাড়া আরও কয়েকটি ম্যাগাজিনেও কাজ করেছেন তিনি।

পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে দায়িত্বও ছিল বেশি। তাই পড়াশোনা শেষে চাকরি করা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ ছিল না। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই যে ফলের বাগান করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সে স্বপ্ন তাঁকে তাঁড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। নানা জাতের গাছ থাকবে তার বাগানে, আর বিচিত্র সব ফলে ভরে উঠবে বাগানটি।

সোহেল রানা জানান, ঢাকায় থাকা অবস্থায় পত্র-পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন স্থানের সফল খামারিদের গল্প আগ্রহ নিয়ে পড়তেন এবং সুযোগ পেলেই সেইসব খামার পরিদর্শনে যেতেন। এক সময় সাহস করে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে এসে স্বজনদের নিজের স্বপ্নের কথা জানান। শুরুতে বেশিরভাগ আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী নিরুৎসাহিত করলেও একপ্রকার স্রোতের বিপরীতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলার কাজে হাত দেন।

সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন ৩৫ বছরের এই উদ্যোক্তা। তিনি এখন সফল খামারি। তাঁর বাগান দেখে এখন অনেকেই মিশ্র ফলের বাগান করছেন। রূপগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক ফলের বাগান। এসব বাগানে আম, পেয়ারা, লেবু, স্ট্রবেরি ও কুল গাছই বেশি।

এই তরুণ উদ্যোক্তা জানান, ছাত্র অবস্থাতেই বাবার অনুমতি নিয়ে বাড়ির পাশে ৬ বিঘা জমিতে আমের বাগান গড়ে তোলেন। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে। ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসে ছোট ভাই আব্দুল বারীকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার।

সমন্বিত এই কৃষি খামারে রয়েছে আম, লিচু, ড্রাগন ফল, মাল্টা, খাটো জাতের নারিকেল, লেবুসহ ৫০ প্রজাতির ফলের গাছ। খামারে আরও আছে বাসক, তুলসী, নিম, নীল অপরাজিতা, সাদা লজ্জাবতীসহ নানা প্রজাতির ঔষুধি গাছ। আছে বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ। এছাড়া তিনটি পুকুরে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগী ও ছাগল পালন করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

সোহেল আরও জানান, সফল খামারি হওয়ার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, আরডিএ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএমডিএ থেকে কৃষির ওপর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। রূপগ্রামের পাশের গ্রাম নিশ্চিন্তপুরের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সোহেলের খামার দেখে উৎসাহিত হয়ে ১০ বিঘা জমিতে আম ও থাই পেয়ারার বাগান করেছি।

এছাড়া দুটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছি। বাগান ও মাছ চাষ করার ব্যাপারে সোহেল রানা বিভিন্ন সময় চারা ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন।’ করমজাই গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, সোহেলের সাফল্য দেখে উৎসাহিত হয়ে চার একর জমিতে গত বছর আম ও পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছেন। আশা করছি, সফল হবো।

নিজের স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘এই এলাকায় অ্যাগ্রো ট্যুরিজম গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে আমার। যেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফল থাকবে। এছাড়া বিলীন হতে বসা বিভিন্ন দেশি গাছের (জার্ম প্লাজম) সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তার। এই লক্ষ্যে সাপাহারে আরও ১৫ একর জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলছেন।’

পত্নীতলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘উচ্চশিক্ষত হয়ে শুধু চাকরি করতে হবে এই কথা ঠিক না। বরং লেখাপড়া জানা মানুষদেরই কৃষি পেশায় আশা উচিত। চাকরি করে শুধু নিজের পরিবার চালানো সম্ভব। কিন্তু একজন ভালো উদ্যোক্তা কিংবা সফল খামারি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

তিনি বলেন, সোহেল সেটিরই উজ্জ্বল উদাহারণ। কৃষি বিভাগ তাঁর খামারকে সফল করার জন্য চারা দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে। তিনি একজন মডেল খামারি।

More News Of This Category