1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :
সফলতার গল্প :

চাকরী ছেড়ে ব্যবসায় ইস্পাত দৃঢ় ৬ ভাই!

সাধারণ সৈনিক পরিবারে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে ঢোকেন মামার প্রতিষ্ঠান মোল্লা ঢেউটিনে। তখন ঢেউটিন আমদানি করে সারা দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করত মোল্লা ঢেউটিন। চাকরির দুই বছরের মধ্যেই ঢেউটিন নিতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়তে থাকে তার।

পরে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ট্রেডিং; ডিলারশিপ নিয়ে বিক্রি করতে থাকেন ঢেউটিন, রড, সিমেন্ট। এরই মধ্যে ১৯৮২ সালে বাবা ইদ্রিস আলী মারা গেলে ছোট পাঁচ ভাইকে বড় করাসহ পড়াশোনার দায়িত্বও একাই কাঁধে বইতে থাকেন তিনি। পিতৃহীন হওয়ার চার বছরের মাথায় অল্প পুঁজিতে উদ্যোক্তা হিসেবে হাঁটা শুরু করা জাহাঙ্গীর আলমকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ব্যবসার গতি। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ভাইদের আর কাঁধ থেকে নামাননি জাহাঙ্গীর আলম। এখন জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তিনি, পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন অন্য পাঁচ ভাই। জিপিএইচ ইস্পাত ছাড়াও ক্রাউন গ্রুপ ও প্রিমিয়ার সিমেন্টের মালিকানাতেও রয়েছেন তারা।

কত টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন, তা সঠিক মনে নেই ভাইদের কারও। তবে জাহাঙ্গীর আলমের মূল পুঁজি যে টাকা ছিল না, তা খোলাসা করেছেন স্পষ্টভাবে। ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষার নীতি’ই শুরু থেকে অদ্যাবধি তার বড় পুঁজি বলে দেশ রূপান্তরকে জানালেন তিনিসহ তার ছোট ভাই ও জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ আলমাস শিমুল।

পারস্পরিক স্বার্থদ্বন্দ্বে পারিবারিক সম্পর্ক যখন ভাঙছে, সেই সময়ে ছোট পাঁচ ভাইকে এক সুতোয় বেঁধে রাখতে পারার কৌশল কী? এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভাইদের সবার মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা আছে। সবাই চেষ্টা করে এমন কিছু না বলতে বা করতে, যাতে অন্য কেউ আঘাত পেতে পারে।

তিনি বলেন, মামার কোম্পানিতে চাকরি করার সময় দেখেছি, তিনি নীতির ব্যাপারে খুবই কঠোর ছিলেন। গুদামে যে পণ্য থাকত, তিনি তা-ই বিক্রি করতেন। আমদানি হওয়ার আগে কোনো পণ্য বিক্রি করতেন না। মামার প্রতিষ্ঠানে অনেক ব্যবসায়ী আসতেন, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হতে থাকে।

দু-একটা মন্ত্র দিয়ে সেদিনের চাকরিজীবী থেকে এত বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি, তবে আমার ব্যবসায়িক চিন্তা-চেতনা ছিল পুরোপুরি সৎ। মানুষকে তখনই কোনো কিছু বিশ্বাস করানো যায়, যখন সে মনে করে যে তার সঙ্গে কাজ করলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমি সব সময়ই সৎ থাকা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এ জন্য কখনো কখনো অনেক কষ্ট হলেও এটিই আমাদের ব্যবসা বড় হওয়ার মূল শক্তি।

মোহাম্মদ আলমাস শিমুল বলেন, মামার প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম ১৯৮৬ সালে ‘জাহাঙ্গীর অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামে ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করেন। তার আগেই বাবা মারা যান। বড় ভাই আমাদের অন্য পাঁচ ভাইকে পড়াশোনা করিয়েছেন, মানুষ করেছেন বাবার মতো করেই। পড়াশোনা শেষে সবাই ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছি। শুরুতে ঢেউটিন, রড, সিমেন্ট ডিলার ছিলাম। মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে সিমেন্ট এনেও বিক্রি করতাম।

পরে আমরা টিকে গ্রুপসহ অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্প খাতে প্রথম বিনিয়োগ করি প্রিমিয়ার সিমেন্ট কারখানায়। ওই সময় প্রচলিত পদ্ধতিতে রড উৎপাদনের একটি ছোট মিল ছিল আমাদের, যার নাম ইন্দো স্টিল মিল। সেটিকে অটোমেটিক মিল করতে গিয়ে বুঝতে পারি যে দাম যতই হোক, ভালো জিনিসের কদর আছে। তখন আমরা পণ্যের গুণগত মান বাড়ানোর কথা চিন্তা করি।

১৯৮৬ থেকে ২০১৯, দীর্ঘ ৩৫ বছরে ভাইদের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে শিমুল বলেন, ১৯৮২ সালে বাবা মারা যান। তখন থেকেই আমাদের সবার পুরো দায় বড় ভাই নেন। আমরা ওনাকে লিডার মেনেছি। বাবার নির্দেশনা ছিল, সবার মিলেমিশে থাকা। বড় ভাই ও আমরা চেষ্টা করি তা মেনে চলতে।

লিডার হিসেবে বড় ভাইয়ের মধ্যে নেতৃত্ব গুণ ও ত্যাগের মানসিকতা বিপুল। আমরা ভাইয়েরা চেষ্টা করি, সব সময় এক টেবিলে বসে খেতে। কারও কোনো কথা বা কাজে আরেকজনের মন খারাপ হলে তা নিয়ে আমরা খাবার টেবিলে খোলামেলা আলাপ করি। নিজেরা নিজেরা সমাধান করতে না পারলে বড় ভাই সব দায়িত্ব নিয়ে তা সমাধান করে দেন। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category