1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

চীনা দুই শিক্ষার্থীর আইফোন জালিয়াতিতে অ্যাপলের ক্ষতি প্রায় ৯ লাখ ডলার

আইফোন জালিয়াতির কারণে ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৮০০ ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছে অ্যাপল। খটকা লাগতে পারে এ জালিয়াতি হয়তো অ্যাপল নিজেই করেছে। কিন্তু না, ঘটনাটি ঘটিয়েছেন দুই চীনা শিক্ষার্থী। যারা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন। খবর ম্যাশেবল।

অভিযুক্ত দুই চীনা যুবকের মধ্যে ইয়াংইয়াং জোও যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল বিদ্যা এবং কুয়ান জিয়াং লিন বেন্টন কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী। তারা লেখাপড়ার পাশাপাশি হংকং থেকে স্মার্টফোন আমদানি করেন। একসময় ওই স্মার্টফোনকেই ভুয়া আইফোনে রূপান্তর করেন তারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে হংকং থেকে আমদানি করা চীনা ফোন তারা আইফোনের আদলে তৈরি করতেন। পরবর্তীতে এসব নকল আইফোন বিষয়ে তারা ইমেইলের মাধ্যমে অ্যাপলের কাছে অভিযোগ কিংবা কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ বা সচল হচ্ছে না উল্লেখ করে ফেরত পাঠাতেন।

তারপর অ্যাপল ওয়ারেন্টির প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের নতুন ব্র্যান্ডের আইফোন পাঠিয়ে দিত। তারপর অভিযুক্তরা ওই নতুন আইফোন বিদেশে মোটা অংকে বিক্রি করে দিতেন। ওই লাভের একটি অংশ জিয়াংয়ের মায়ের কাছে পৌঁছে দিলে তিনি সেগুলো জিয়াংয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে দিতেন।

২০১৭ সাল থেকে শুরু করা আইফোন জালিয়াতির কার্যক্রমে চীনা দুই শিক্ষার্থী ভালোভাবে সফল হয়েছেন। এর জন্য নতুন আইফোন দিতে গিয়ে অ্যাপলের ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৮০০ ডলার গুনতে হয়েছে। তবে অ্যাপলের কর্মকাণ্ডে এটা স্পষ্ট যে, তারা খুব সহজেই নকল আইফোনকে স্বীকৃতি দিয়ে সেগুলো পরিবর্তন করে দিয়েছে।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি আইফোনের ত্রুটি ও কেন সচল হচ্ছে না, সে অভিযোগ খতিয়ে দেখেনি। শুধু তা-ই নয়, ওয়ারেন্টি দাবি করার কারণে তারা ক্রয়ের প্রমাণও চায়নি। তাদের কর্মীরা কেবল নিয়মনীতি অনুসরণ করে গেছে। তারা এটাও মনে করেছে যে আসলেই গ্রাহকদের ত্রুটিপূর্ণ আইফোন সরবরাহ করা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীদের দাবির বিপরীতে ৩ হাজার ৬৯টি আইফোনের মধ্যে অ্যাপল মোট ১ হাজার ৪৯৩টি নতুন আইফোন দিয়েছে। তবে একসময় অ্যাপল যখন এ জালিয়াতি বুঝতে পারে, তখন তারা হ্যান্ডসেট দেয়া বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীরা যেখানে বসবাস করেন, সেখানে তারা নোটিস পাঠায়।

দুই চীনা শিক্ষার্থীই ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। যদিও তারা কারাগারের বাইরে আছেন। এর মধ্যে জিয়াংয়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও পণ্য পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। জোওয়ের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পণ্য রফতানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তারা দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে আইফোন ডিভাইস ব্যবসা নিয়ে খারাপ সময় পার করছে অ্যাপল। টানা কয়েক প্রান্তিক ধরেই আইফোন বিক্রি কমছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রান্তিক ভিত্তিক রাজস্বে। আইফোন বিক্রি কমার কারণে অ্যাপল তাদের হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বড় অংকের রাজস্ব হারিয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) রাজস্ব ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

টানা আইফোন বিক্রি কমার জন্য চীনের দুর্বল ও শ্লথগতির অর্থনীতিকে দায়ী করে আসছে অ্যাপল। চীন আইফোন ডিভাইসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধকেও আইফোন বিক্রি কমার জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

চীনে আইফোনের বিক্রি বাড়াতে অ্যাপলের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় প্রায় সবগুলো অনলাইন খুচরা বিক্রেতা এরই মধ্যে দুই ধাপে আইফোনের দাম কমিয়েছে। দেশটিতে আইফোন এক্সএস প্রকৃত দামের চেয়ে ১ হাজার ইউয়ান বা ১৪৮ দশমিক ৯৫ ডলার কমে বিক্রি করা হচ্ছে। গত জানুয়ারিতে প্রথম ধাপে ডিভাইসটির দাম কমানো হয়েছিল।

চীনে দামি পণ্যের অন্যতম ই-কমার্স সাইট পিনডুয়োডুয়ো ইনকরপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি আইফোন এক্সএসের ৬৪ গিগাবাইট রম সংস্করণ ৬ হাজার ৯৯৯ ইউয়ানে বিক্রি করছে, যা ডিভাইসটির প্রকৃত দামের চেয়ে ১ হাজার ইউয়ান কম।

চীনের অনলাইন খুচরা বিক্রেতা জায়ান্ট জেডি ডটকম একগুচ্ছ অ্যাপল পণ্য অফিশিয়াল দামের চেয়ে কমে বিক্রি করছে। এসব অ্যাপল পণ্যের তালিকায় রয়েছে আইফোন এক্সএস ও আইফোন এক্সএস ম্যাক্স। এর মধ্যে আইফোন এক্সএস ম্যাক্স ডিভাইসটি প্রকৃত দামের চেয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ইউয়ান ছাড়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

More News Of This Category