1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

চীনের চাকরী বাজারে সংকটে কর্মহীন ৮ কোটি মানুষ

চলতি বছরের শুরুতেই চীনের সামগ্রিক কার্যক্রমকে কার্যত স্থবির করে দেয় বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। লকডাউনসহ নেয়া নানা পদক্ষেপ মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ওপর। ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে থাকে বাণিজ্যের আকার।

বন্ধ হয়ে যায় কারখানা, একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাকরি হারাতে থাকে লাখ লাখ মানুষ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চীনের সংকটাপন্ন চাকরি বাজার থেকে এরই মধ্যে আট কোটি কর্মী ছিটকে পড়েছেন। আশঙ্কার কথা হলো, শিগগিরই চাকরি অন্বেষণে নামতে যাচ্ছেন দেশটির কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা আরো অন্তত ৯০ লাখ মানুষ। খবর সিএনএন বিজনেস।

চীনে বারবার নতুন করে চাকরি খোঁজার বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন ২৬ বছর বয়সী প্রযুক্তি খাতের কর্মী ওয়াং। গত বছর যখন তাকে এক সংস্থা থেকে অন্য সংস্থায় চাকরির জন্য ছুটতে হয়েছিল, তখনই তিনি দেশটির চাকরি বাজারের প্রতিযোগিতা আঁচ করতে পারছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে বেইজিংভিত্তিক একটি ইন্টারনেট কোম্পানি থেকে যখন তাকে ছাঁটাই করা হয়, তখন তিনি ভাবতেও পারেননি যে তার জন্য কতটা কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

ওয়াং বলেন, গত বছরই চাকরি জোটাতে তাকে অভাবনীয় কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। নভেল করোনাভাইরাস তার মতো কর্মীদের একেবারেই অসহায় করে ফেলেছে। টেলিফোনে এ বক্তব্য দেয়ার সময় ওয়াং তার পুরো পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।

কারণ তিনি চান না যে তার বর্তমান দুর্দশার কথা নিকটাত্মীয় বা বন্ধুরা জানুক। তাছাড়া পরিচয় প্রকাশ পেলে ভবিষ্যতে তাকে চাকরি পেতে আরো সমস্যাও হতে পারে। আর শুধু ওয়াংই নন, বর্তমানে একই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন চীনের কোটি কোটি নাগরিক।বিশ্লেষকদের মতে, সরকারিভাবে দেয়া উপাত্ত থেকে চীনের বেকারত্বের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ বেশ কঠিন কাজ। কারণ বেইজিং থেকে সরবরাহকৃত এ-সংক্রান্ত উপাত্তের সত্যতা নিয়ে বরাবরই সন্দেহ রয়েছে।

দাপ্তরিকভাবে বেকারত্বের যে হার প্রকাশ করা হয়, তা বহু বছর ধরেই ৪-৫ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। একই সঙ্গে এ হিসাব শুধুই শহরাঞ্চলভিত্তিক। তার পরও সেই সরকারি হিসাবেই গত মার্চে দেশটিতে বেকারত্বের হার প্রকাশ করা হয় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এর এক মাস আগে এ হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এর মানে হলো, সরকারি হিসাবেই ওই সময়ে চীনে চাকরি হারিয়েছেন ২ কোটি ২৭ লাখেরও বেশি মানুষ।

কিন্তু এ তো শুধু শহরাঞ্চলের হিসাব। এর সঙ্গে নির্মাণ ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতসহ অন্য নিম্ন মজুরির কাজে যুক্ত গ্রামাঞ্চলের ২৯ কোটি অভিবাসী শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদেরকে হিসাবের মধ্যে ধরা হলে মার্চ পর্যন্ত চীনে চাকরি হারানো মানুষের সংখ্যা আট কোটি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

আর গত মাসে এ হিসাবের যথার্থতা নিয়ে একটি প্রবন্ধে নিজের মত প্রকাশ করেছেন দ্য চাইনিজ একাডেমি অব সোস্যাল সায়েন্সেসের অর্থনীতিবিদ ঝ্যাং বিন। এছাড়া দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজের সংযুক্ত অধ্যাপক উইলি লাম বলেন, চীনের বেকারত্বের হার সত্যিই কম করে দেখানো হয়ে থাকতে পারে।

সরকার এ বিষয়ে প্রায়ই যে সংখ্যা হাজির করে, প্রকৃত অবস্থা তার থেকে অবশ্যই অনেক খারাপ। একই কথা জানান অন্য বিশেষজ্ঞরাও। তাদের মতে, চীনে আট কোটি কর্মহীন মানুষের হিসাব সত্য হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এর মানে হলো, চীনের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ, যাদের বর্তমানে চাকরি থাকার কথা, তারা এখন বেকার হয়ে পড়েছেন।

সোসিয়েতে জেনারেলের অর্থনীতিবিদ ওয়েই ইয়াও এবং মিশেল লাম গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে লেখেন, কভিড-১৯-এর সংক্রমণ চীনের চাকরি বাজারের ওপর নজিরবিহীন আঘাত হেনেছে। কিন্তু তাদের এ প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো মতামত দেয়া হয়নি। তবে গত মাসে চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, দেশটির শ্রমবাজার সত্যিই চাপের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু তার পরও তার মতে, দেশটির সামগ্রিক কর্মসংস্থান এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল।

More News Of This Category