1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

চ্যালেঞ্জকে বিশাল সম্ভাবনাময় সুযোগে পরিণত করে উদ্যোক্তা!

ব্যবসায় প্রশাসনে পড়ালেখা শেষ করলাম, সব সময় ইচ্ছে ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে একদিন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাবো। তবে সংসার, চাকরি, পড়ালেখা সবকিছু সামলে সেভাবে ব্যবসায় ঢোকা সম্ভব হচ্ছিল না। এরইমধ্যে স্বামীর চাকরিসূত্রে চাঁদপুর চলে গেলাম ২০১৮ সালে। চাঁদপুরের ইলিশ কিংবা পদ্মার ইলিশের কথা সারাজীবন শুনে এসেছি।

ইলিশ খেয়েছি কিন্তু চাঁদপুরে এসেই চর্মচক্ষে এই ব্যাপারটি প্রত্যক্ষ করলাম! বিশাল পদ্মা-মেঘনায় হাজার হাজার জেলে লাখ লাখ টন ইলিশ আহরণ করছে। রাতভর জেলেরা মাছ ধরে সেগুলো মাছঘাটে নিয়ে আসছে, আড়ত গুলোতে নিলাম হচ্ছে, অসংখ্য ট্রাকে চেপে সেই মাছ সারাদেশে বিভিন্ন বাজারে চলে যাচ্ছে এই এক মহাযজ্ঞ! পুরো ব্যাপারটি প্রত্যক্ষ করে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত হলাম!

এখান থেকেই ধীরে ধীরে মাছ নিয়ে কাজ করার একটি আগ্রহ তৈরি হলো আমার। আরো কিছুদিন যাওয়ার পরে বুঝতে পারলাম অনেক সেক্টরেই নারী উদ্যোক্তারা বেশ সফলতার সাথে কাজ করলেও কেন যেন মাছ নিয়ে কোন নারী উদ্যোক্তাকে সেভাবে কাজ করতে দেখিনি! কারণটা সম্ভবত অত্যধিক পচনশীল এবং ঝামেলাপূর্ণ ডেলিভারি সিস্টেমের কারণে।

এই চ্যালেঞ্জটাকে আমি বিশাল একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে দেখলাম। যেহেতু কোনো নারী উদ্যোক্তা এই সেক্টরে নেই, সেহেতু আমিই প্রথম সেই শুন্য স্থানকে পূরণ করার জন্য এগিয়ে আসবো বলে ঠিক করলাম। তার উপর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমার নজরে এলো। আমাদের দেশে অনেক পণ্যের ব্র্যান্ডিং হয়েছে। এমনকি লবণ পর্যন্ত আমাদের এখন ব্র্যান্ডিং হয়েছে। এখনো যে পণ্যটির সেভাবে ব্র্যান্ডিং হয়নি সেটি হচ্ছে মাছ! এটি একটি বিশাল সম্ভাবনা বলে মনে হলো আমার কাছে।

এভাবেই ১ লা জুন ২০২০, আমার অনলাইন শপের যাত্রা শুরু হলো! ‘মাছের হাট বাজার’ নাম দিয়ে ফেইসবুক একটি পেজ খুলে ফেললাম। বেশকয়েকজন জেলের সাথে চুক্তি করলাম, আড়তদারদের সাথে কথা বললাম, কর্মচারী নিয়োগ করলাম, নিজস্ব ডেলিভারি ম্যান এবং ট্রান্সপোর্ট এর ব্যবস্থা করলাম। সর্বশেষ নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেড লাইসেন্সও নিলাম।

সময়টা ছিল করোনা মহামারীর মধ্যে। লোকজন বাজার ঘাট কিংবা কাঁচাবাজারে যাওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছিল এবং সরকারিভাবেও এগুলো এড়িয়ে চলার জন্য বারবার অনুরোধ করা হচ্ছিল। মহামারীর এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়টাও আমার ব্যবসার জন্য একটি বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দেয়! অনলাইন অর্ডার কিংবা হোম ডেলিভারি আগে থেকে জনপ্রিয় ছিল।

তবে করোনা মহামারীর সময় লোকজন আরো বেশি হোম ডেলিভারি এবং অনলাইন অর্ডারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে আমি আমার ফেসবুক পেইজ ‘মাছের হাট বাজার’ কে হাজারো গ্রাহকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পেরেছি। নদীর টাটকা তাজা মাছ দিনে দিনে চাঁদপুর থেকে বাংলাদেশের সকল জেলা শহরে ডেলিভারি হচ্ছে!

এটি অসংখ্য গ্রাহকের কাছে ছিল একেবারেই অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার! এর চেয়েও বড় অবাক করা ব্যাপার ছিল আস্ত মাছ হোম ডেলিভারি হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মতো বড় শহরগুলোতে! এরকম বেশ কিছু নতুনত্ব এবং অভাবনীয় ব্যাপার যেগুলো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল সেগুলো কে আমি ম্যানেজ করেছি অত্যন্ত সফলতার সাথে এবং পেশাদারিত্বের সাথে। তথ্যসূত্র: একুশে টিভি।

More News Of This Category