জমি কেনাবেচা ও বিদ্যুৎ সংযোগে লাগবে টিআইএন

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ছাড় দিয়েছেন, আবার কর আদায়ে বাড়তি কিছু উদ্যোগও নিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিলের রসিদ লাগবে: প্রস্তাব: সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও পৌরসভা এলাকায় বাণিজ্যিক সংযোগের পাশাপাশি অন্য সব ধরনর বিদ্যুৎ-সংযোগ গ্রহণ ও অব্যাহত রাখতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রভাব: এর ফলে ওই সব এলাকায় সব বিদ্যুৎ গ্রাহক করের আওতায় চলে আসবেন। এ জন্য বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার সময় টিআইএনের অনুলিপি জমা দিতে হতে পারে। এতে টিআইএনধারীর সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে।

টিআইএন ছাড়া জমি বেচাকেনা নয়: প্রস্তাব: সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও জেলা সদরে ১ লাখ টাকার বেশি জমিসহ স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা বা হস্তান্তরের সময় টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দলিলে ক্রেতা-বিক্রেতার টিআইএনের উল্লেখ থাকতে হবে। প্রভাব: করের আওতা বাড়বে, করদাতার সংখ্যা বাড়বে। টিআইএন ছাড়া জমি কেনাবেচা করা যাবে না।

আয় আড়াই লাখ টাকা হলেই কর: প্রস্তাব: ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই করমুক্ত সীমা বাড়ানো হয়নি।

প্রভাব: আপনি যদি এক বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় করেন, তাহলে আপনাকে কর দিতেই হবে। এবার আপনি হিসাব করুন, গত জুলাই থেকে চলতি জুন মাস পর্যন্ত কত আয় করলেন। আড়াই লাখ টাকার বেশি হলে কর দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিন। কয়েক বছর ধরেই এই করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে বহু লোক করজালে চলে আসবেন।

বিশেষ করে গতবার যাঁদের আয় আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি গিয়ে করজালের বাইরে ছিলেন। এবার একটু আয় বাড়লেই ভুগতে হবে তাঁদের, করজালে আটকে যাবেন তাঁরা। করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির দাবি থাকলেও তা করা হয়নি। করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ানোর বিষয়টি আসলে অর্থমন্ত্রীর একটি ফাঁদ। বাজেট বক্তৃতায় তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছেন, করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করলে অনেকেই করের আওতার বাইরে চলে যাবেন। বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা মাথাপিছু আয়ের দ্বিগুণ।

সহজ হলো বিনিয়োগ রেয়াত: প্রস্তাব: আয়ের একটি অংশ বিনিয়োগ করলে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ এবং ১৫ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রভাব: বর্তমানে আয়ের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়। আগে ১০, ১২ ও ১৫ শতাংশ হারে কর রেয়াত পাওয়া যেত। এখন দুটি হারে কর রেয়াত পাওয়া যাবে। এতে বিনিয়োগকারী করদাতার হিসাব রাখা আগের চেয়ে সহজ হবে।

কম্পিউটার-ল্যাপটপ কিনলে রেয়াত নয়: প্রস্তাব: কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কিনলে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে রেয়াত পাওয়ার বিধান রহিত করা হয়েছে। প্রভাব: কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেনা কমে যেতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে বাধা হতে পারে। এত দিন বার্ষিক আয়কর বিবরণীতে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেনার টাকা আয় থেকে বাদ দেওয়া হতো। অবশ্য এর অপব্যবহারও হয়েছে। রসিদ দেখিয়ে অনেকে কর রেয়াত নিয়ে যেত।

কম দামে শেয়ার কেনা নয়: প্রস্তাব: ন্যায্য বাজারমূল্যের চেয়ে শেয়ারের কম মূল্য প্রদর্শন করলে কম প্রদর্শিত টাকার অংশ ক্রেতার আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রভাব: এর ফলে বেশি দামে শেয়ার কেনার প্রবণতা বাড়বে। বার্ষিক আয়কর বিবরণীতে বেশি মূল্য প্রদর্শিত হবে। করের পরিমাণ বাড়বে।

অনাবাসীদের রিটার্ন বাধ্যতামূলক: প্রস্তাব: এ দেশে স্থায়ীভাবে ব্যবসা করলে অনাবাসীদের রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রভাব: বিদেশিরাও করের আওতায় আসবেন। করের জাল আরও বিস্তৃত হবে।

ডেডলাইন ৩০ নভেম্বর: প্রস্তাব: আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমার সময় ডেডলাইন ৩০ নভেম্বর। আইনের অংশ হওয়ায় এটি ভবিষ্যতে বহাল থাকছে। প্রভাব: সময় আর বাড়বে না। প্রস্তুতি নিন। তথ্যসূত্র: প্রথমআলো।

SHARE