1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

জার্মানিতে বিপুল রপ্তানি তারপরও বাংলাদেশের হিস্যা মাত্র দশমিক ১০ শতাংশ।

দীর্ঘদিন ধরেই পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় শীর্ষ বাজার জার্মানি। গত তিন অর্থবছরের ব্যবধানে বাজারটিতে ১২০ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানিও বেড়েছে। তাতে পণ্য রপ্তানিতে শীর্ষ বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির রপ্তানি ব্যবধানও কমে আসছে। তারপরও জার্মানির বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা মাত্র দশমিক ১০ শতাংশ।

জার্মানিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর ৫৮৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। তার আগের অর্থবছর রপ্তানি হয়েছিল ৫৪৭ কোটি ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির ৯৪ শতাংশই হচ্ছে তৈরি পোশাক। তার বাইরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, প্লাস্টিক পণ্য, কার্পেট, সিরামিক পণ্য, বাইসাইকেল ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি হয় অল্প পরিমাণে।

রপ্তানিকারকেরা বলছেন, পণ্য রপ্তানির জন্য জার্মানির বাজারটি বিরাট। ফলে বাজারটিতে পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়ানোর সুযোগ আছে। সে জন্য ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যথাযথ উদ্যোগ দরকার।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ–জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাহী পরিচালক এম এ মতিন বলেন, জার্মানিতে তৈরি পোশাকই সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হচ্ছে। তা ছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি রপ্তানি হচ্ছে। একসময় হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হলেও সেটি বন্ধ আছে। দেশটিতে পণ্য রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী ও সরকারি পর্যায়ে কাজ করার দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জার্মানির বাজারটি কত বড় সে বিষয়ে ধারণা পেতে ইউরোপিয়ান কমিশনের ট্রেড হেল্প ডেস্কের সহায়তা নিয়ে জানা গেল, ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে সাড়ে তিন লাখ কোটি ইউরোর (১ ইউরোতে ৯৫ টাকা) পণ্য আমদানি করেছে।

তার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গেছে মাত্র ৩৭৮ কোটি ইউরোর পণ্য, যা ইইউর বাইরের দেশ থেকে জার্মানির মোট আমদানির দশমিক ১০ শতাংশ। সে বছর চীন থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ২৩৬ কোটি ইউরো, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪ হাজার ৫৯৫ কোটি ইউরো, সুইজারল্যান্ড থেকে ৪ হাজার ২৯৯ কোটি ইউরো এবং রাশিয়া থেকে ২ হাজার ৮৫৮ কোটি ইউরোর পণ্য আমদানি করেছিল জার্মানি।

রপ্তানি পাশাপাশি জার্মানি থেকে পোশাক ও বস্ত্র খাতের যন্ত্রপাতি, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। তবে রপ্তানির তুলনায় আমদানি এখনো নগণ্য। ২০১৭ সালে ৩৭৮ কোটি ইউরোর পণ্য রপ্তানির বিপরীতে আমদানি হয় মাত্র ৭২ কোটি ইউরোর পণ্য। তার আগের বছর আমদানি হয়েছিল ৬৯ কোটি ইউরোর পণ্য।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছর মোট ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে জার্মানিতে গেছে ৫৮৯ কোটি ডলারের পণ্য।

এই আয় তার আগের অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি। জার্মানিতে পণ্য রপ্তানির ৯৪ শতাংশই পোশাক খাতের দখলে। আবার বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে গেছে জার্মানি। গত অর্থবছর জার্মানিতে ৫৫৭ কোটি ডলারের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা জানান, জার্মানির অ্যাডিডাস, পুমা, র মডার্ন, এস অলিভার, চিবো, স্পিরিট, লিডল, অলডি নর্থ ও সাউথ, বেলোটেক্স, ডেলটেক্স, জলো ফ্যাশন, মেট্রো গ্রুপ, চিক্যা, আরনস্টিংস ফ্যামিলি, ব্র্যান্ডস ফ্যাশন, জুরি ট্রেক্স, হরিজোনটিসহ অনেক বিখ্যাত ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কারখানা থেকে পোশাক কিনে থাকে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিমবলেন, ‘রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আমরা সব সময়ই নতুন বাজার খোঁজার কথা বলে থাকি। অথচ যেসব দেশে রপ্তানি করছি, সেসব দেশে রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে জার্মানি উপযুক্ত উদাহরণ হতে পারে।’

এদিকে জার্মানিতে গত অর্থবছর ৬ কোটি ৩১ লাখ ডলারের হিমায়িত মাছ ও অন্যান্য, ১ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের প্রকৌশল পণ্য, ৭৫ লাখ ডলারের প্লাস্টিক পণ্য, ৯৪ হাজার ডলারের ওষুধ ইত্যাদি রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

জার্মানিতে বর্তমানে ওষুধ রপ্তানি করছে বেক্সিমকো। এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানির জন্য গত বছরের শুরুর দিকে কারখানার গুণগত মানের নিরীক্ষায় উন্নীত হয়েছে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির কারখানাকে মানগত অনুমোদন দিয়েছে জার্মানি। বর্তমানে অন্যান্য প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইনসেপ্টার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির প্রথম আলোকে বলেন, ‘জার্মানির ওষুধের বাজার বেশ বড় ও সম্ভাবনাময়। আশা করছি, আগামী বছর থেকে আমরা জার্মানিতে ওষুধ রপ্তানি করতে পারব।’ তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

More News Of This Category