1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

জিএসকে ব্যবসা গুটানোর পর ভ্যাকসিন সংকট বাজারে

ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার পর থেকে দেশের বাজারে বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে। দিন দিন তীব্র হচ্ছে এ সংকট। দেশে অন্য প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন না হওয়ায় কোনো কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ একেবারে নেই বললেই চলে।

সম্প্রতি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের একজন চিকিৎসক তার শিশুসন্তানের জন্য বিভিন্ন দোকানে জিএসকের তৈরি এনজেরিক্স-বি (হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন) খোঁজ করছিলেন। কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক দোকানে এটি পাননি তিনি। পরে এক দোকান থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় তা সংগ্রহ করেন। অথচ একই ভ্যাকসিন দেশী ইনসেপ্টা ফার্মা মাত্র ৪০০ টাকায় বিক্রি করছে।

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। জিএসকে সারভারিক্স নামে ভ্যাকসিন তৈরি করত। এছাড়া শিশুদের রোটাভাইরাস প্রতিরোধে রোটারিক্স নামে ভ্যাকসিন তৈরি করত জিএসকে। কিন্তু তারা বাংলাদেশে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে বাজারে ভ্যাকসিন দুটির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বিকল্প কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো ভ্যাকসিন দুটি তৈরি করছে না। এ সুযোগে কেউ কেউ বিদেশ থেকে চোরাই পথে এ ভ্যাকসিন আমদানি করে তা চড়া দামে বিক্রি করছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিনেরও সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে ইনজেকশন দুটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন ইনসেপ্টা তৈরি করলেও বাজারে বিদেশী ভ্যাকসিনের চাহিদাই বেশি।

রাজধানীর পুরান ঢাকার আলিফ লাম মিম ফার্মার বিক্রয় প্রতিনিধি সদানন্দ সাহা জানান, সরবরাহ সংকটে ১ হাজার ৭০০ টাকার নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন এখন ২ হাজার ৫০০ ও ১ হাজার ৬০০ টাকার ভেক্সিগ্রিপ ইনজেকশন ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিনের চাহিদা অনেকটা বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় দামও অস্বাভাবিক বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভ্যাকসিন তৈরির সময় প্রায় ২০০টি প্যারামিটার পরীক্ষা করতে হয়। কোনো কোনো ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ১৫০টি প্যারামিটার পরীক্ষায় পাস করার পর হঠাৎ একটিতে ফেল করলে পুরো ভ্যাকসিন বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়া ভ্যাকসিনের চাহিদা মেটানোর মতো সামর্থ্য দেশের কোম্পানিগুলোর এখনো তৈরি হয়নি। অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানির ভ্যাকসিন সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেকেই দেশীয় কোম্পানির ভ্যাকসিন ব্যবহারে আস্থা পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, জিএসকের পাশাপাশি সানোফি এতদিন অ্যাভেনটিস ভ্যাকসিন আমদানি করলেও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অসহযোগিতার কারণে তারা এখন আমদানিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভ্যাকসিন আমদানির ক্ষেত্রে ব্লকলিস্ট অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এ অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এমনও দেখা গেছে, কোনো কোম্পানির একটি ভ্যাকসিনের চাহিদা বছরে এক লাখ পিস। অথচ ঔষধ প্রশাসন থেকে তাদের মাত্র ৫-১০ হাজার পিস ভ্যাকসিন আমদানির অনুমোদন দেয়া হতো। এভাবেই মূলত বাজারে ভ্যাকসিনের সংকট তৈরি হয়েছে।

জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রুহুল আমিন বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের ভ্যাকসিন জিএসকে ছাড়া কেউ তৈরি করত না। এছাড়া যেসব আমদানি করা হয়, সেগুলো আনার জন্য সানোফিকে অনুরোধ করা হয়েছে। আর দেশীয় কোম্পানির যেসব ভ্যাকসিন সংকট রয়েছে, তা তৈরির জন্যও সংশ্লিষ্টদের বলা হবে। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা

More News Of This Category