1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

ঝুঁকির মধ্যেই খুলছে চট্টগ্রাম ইপিজেডের শতাধিক কারখানা

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকার মধ্যে চট্টগ্রামের তিনটি ইপিজেডের ১১০টি কারখানা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। ইপিজেড কর্তৃপক্ষগুলো বলছে, বিদেশি ক্রেতাদের কার্যাদেশ রয়েছে এবং রপ্তানি অব্যাহত রাখার জন্য কারখানাগুলো খোলার দিকে যাচ্ছে। ‘যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে’ সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করবে এসব কারখানা।

এতে শ্রমিক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংক্রমণ ঝুঁকি ‘তৈরি হবে না’ বলে তারা দাবি করলেও জেলা সিভিল সার্জন তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। যে কোনো ধরনের জমায়েতই নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করবে বলে সাবধান করেছেন তিনি। কারখানা চালু করতে হলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলেছেন এই চিকিৎসক।

চট্টগ্রামের তিন ইপিজেডের বাইরেও বিজিএমইএ’র আওতাধীন চট্টগ্রামের বেশ কিছু কারখানাও খুলতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেপজার অধীনে চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেড রয়েছে। এর বাইরে আনোয়ারায় রয়েছে ইয়ংওয়ান গ্রুপের মালিকানাধীন কোরিয়ান ইপিজেড।

চট্টগ্রাম ইপিজেডে তৈরি পোশাক, তাঁবু, ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, ফেব্রিক্স, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের কারখানা রয়েছে ১৫৮টি এবং এতে শ্রমিক সংখ্যা দুই লাখের মতো। কর্ণফুলী ইপিজেডে ৪১টি কারখানার শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার। অপরদিকে আনোয়ারার কোরিয়ান ইপিজেডে ২২টি কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা ২৫ হাজারের মতো।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকারি ছুটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ার পর চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেড দুটির ৬৯টি কারখানা লে অফের জন্য আবেদন করেছিল। চট্টগ্রাম ইপিজেডের জিএম খুরশিদ আলম বলেন, “বিভিন্ন কারখানা রোববার থেকে আংশিকভাবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। শ্রমিকদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনেই কারখানা পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।”

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ইপিজেডের ৭০টির মতো কারখানা সীমিত পরিসরে চালু হতে পারে। প্রতিটি কারখানা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে কাজ শুরু করবে। “কারখানাগুলো আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে। এখানকার দুই লাখ শ্রমিকের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজারের মতো আসতে পারে।”

চট্টগ্রাম ইপিজেডের আশপাশে বসবাসরত শ্রমিকদের কারখানা কর্তৃপক্ষ আসার জন্য উৎসাহিত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোর জন্য স্বাস্থ্যবিধি দিয়ে তা কঠিনভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ‘লে-অফ’র জন্য আবেদন করা কারখানাগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই আবার খোলার বিষয়ে যোগাযোগ করেছে বলে জানান চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক।

কারখানায় যেতে দুর্ভোগ, ফিরতেও : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডের জিএম মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ জানান, তাদের ইপিজেডের ২০টির মতো কারখানা রপ্তানি কার্যাদেশ থাকায় আংশিকভাবে খোলার জন্য যোগাযোগ করেছে। “পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গাইডলাইন তাদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কারখানা মালিকরা উদ্যোগ নিয়েছেন কি না তা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।”

অপরদিকে চট্টগ্রামের একমাত্র বেসরকারি ইপিজেড কোরিয়ান ইপিজেড পুরোপুরিভাবে খুলছে বলে জানান এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের সব কারখানা খুলছে। সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কারখানা পরিচালনা করা হবে।” করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শ্রমিকদের আসা-যাওয়া এবং কাজের ক্ষেত্র ঝুঁকি তৈরি করবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের কারখানাগুলোর ৯৩ শতাংশ শ্রমিকই আশপাশের এলাকার।

এখানে থার্মাল স্ক্যানার রয়েছে, শ্রমিকরা মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরে কাজ করবে।” কারখানায় শ্রমিকদের ‘ন্যূনতম দূরত্ব’ মানার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে মুশফিকুর রহমান জানান। এছাড়া তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র অন্তর্ভুক্ত অনেক কারখানা রোববার থেকে চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রথম সহ-সভাপতি এম এ সালাম।

বিজিএমইএ’র অধীন সাতশ’র মতো কারখানা থাকলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে সচল ছিল ৩২৬টি। এর মধ্যে কাজ থাকায় বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫টি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে জানিয়ে এম এ সালাম বলেন, “রোববার থেকে আরও কিছু কারখানা তাদের কার্যাদেশ টিকিয়ে রাখার জন্য খুলতে পারে বলে জেনেছি। তবে সব কারখানাকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধি-ব্যবস্থা মানার জন্য বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে কারখানা খুললে তা ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী। তিনি বলেন, “যত জমায়েত হবে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে যদি খোলা রাখতেই হয় তাহলে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই মানতে হবে। যাদের করোনাভাইরাসের মতো উপসর্গ থাকবে তারা কাজে যেতে পারবে না এবং ঘরে থাকতে হবে।” এছাড়া কারখানাগুলোতে নিয়মিত চেকআপের ব্যবস্থা রাখা উচিত বলে মত দেন সিভিল সার্জন। তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর।

More News Of This Category