কৃষকদের ঋণ দিতে টাকা নিয়ে বসে আছি

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। পেশাগত জীবন শুরু শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। মিরপুর বাংলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের দায়িত্বও পালন করেছেন একসময়। শিক্ষকতা ছেড়ে ১৯৭৭ সালে বিসিএস প্রশাসনে যোগদান করেন তিনি।

২০০৩ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক ও ২০০৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। আমদানি ও রফতানি অধিদপ্তরের প্রধান নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব ছাড়াও জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রারের দায়িত্বও পালন করেছেন একসময়। কৃষক ও কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ, বিকেবির ঋণ বিতরণ নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে আমাদের প্রতিবেদকের সাথে।

কৃষকের ঋণ প্রদানে বিকেবির ভূমিকা সম্পর্কে বলুন
বিকেবি একটি শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক। ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতি আদেশ নং-২৭ বলে প্রতিষ্ঠিত বিকেবি বাংলাদেশের কৃষির মতো প্রকৃতিনির্ভর অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ খাতে অর্থায়নের জন্য দেশের বৃহত্তম বিশেষায়িত ব্যাংক। আমানত, ঋণ, বৈদেশিক বাণিজ্যসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিকেবি।

১ হাজার ৩১টি শাখার মধ্যে ২৪৬টি অনলাইন ও ৪৬১টি অটোমেটেড শাখার মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ব্যাংকটি। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমেই এ দেশের কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব। সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান হিসেবে খাতটিতে বিনিয়োগের দায়িত্ব কৃষি ব্যাংকই নিয়েছে।

এ দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রিয় প্রতিষ্ঠান বিকেবি। ঐতিহ্যগতভাবেই এ ব্যাংকের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যেক গ্রাহকের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। সর্বোত্কৃষ্ট গ্রাহকসেবার মাধ্যমে দেশের জনগণের মন জয় করতে পেরেছে এ ব্যাংক।

বিশেষ করে গ্রামবাংলার মেহনতী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিকেবি তার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য, কর্মময় গতিশীলতা ও ঋণসহায়তা প্রদানের মাধ্যমে নবতর দ্বার উন্মোচন করে চলেছে দুর্বার গতিতে। এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে এবং সহজ শর্তে প্রকাশ্যে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কৃষকের হাতে ঋণের টাকা পৌঁছে দিচ্ছে।

কৃষির নানা বিভাগে কাজ করেছেন, কৃষির অগ্রযাত্রার অবদানগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
সার্বিক কৃষির উন্নয়নে এককভাবে কারো অবদান নেই। বিশেষ করে এখানে কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ব্রি, বিনা, বারি, বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ১৯৭০ সালে আমাদের কৃষির উৎপাদন ছিল ৯০ লাখ টন। সেখান থেকে বেড়ে বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টনে। অর্থাৎ ৪৫ বছরে প্রায় চার গুণ উৎপাদন বেড়েছে।

এ সময় উৎপাদন যেমন চার গুণ বেড়েছে, তেমনি জনসংখ্যাও বেড়েছে দ্বিগুণ। আগে মানুষ খেতে পেত না, এখন মানুষ বেশি করে খায়। সারপ্লাস খাদ্য আছে, খাদ্যের ডাইভারসেশন হয়েছে। আগে মানুষ শুধু ভাত খেত, বর্তমানে ভাতের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফলমূলও খাচ্ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের গড় ভাত খাওয়ার পরিমাণ প্রায় ৮০ গ্রাম কমেছে। এ ৮০ গ্রাম ভাতের পরিবর্তে মানুষ সবজি ও ফলমূল খাচ্ছে।

ময়নসসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করেছে এবং এখনো করছে। এসব গ্র্যাজুয়েট এখন দেশের নানা বিভাগে কাজ করছেন। সরকারি বিভাগগুলো কাজ করার পর যখন মানুষের অর্থের প্রয়োজন হয়, ঠিক সে জায়গায় এসে হাজির হয় বিকেবি। সুতরাং এ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কৃষি খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।

অন্য ব্যাংকের সঙ্গে বিকেবির ঋণ বিতরণের পার্থক্য কোথায়?
সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো অন্যান্য ব্যাংক যেসব কৃষককে ঋণ দিতে পারে না, আমরা তাদের ঋণ দিতে পারি। প্রাইভেট ব্যাংকের শাখা কম থাকায় আমরা সব ক্ষেত্রেই কৃষকের কাছে পৌঁছতে পারি। বিকেবি ও রাকাব তো একই ব্যাংক, বিকেবির একটি অংশ রাকাব। কৃষি ব্যাংকের পর যদি কোনো ব্যাংক থাকে, তাহলে সেটি হলো সোনালী ব্যাংক। কারণ তাদেরও অনেক ব্রাঞ্চ আছে।

ফলে সোনালী ব্যাংক কিছু ঋণ দিতে পারে। কিন্তু তাদেরও ওই ধরনের কোনো এক্সপার্টিজ নেই। অতএব কৃষিসংক্রান্ত যাবতীয় ঋণ কৃষি ব্যাংক ও রাকাব দিয়ে থাকে। কোনো ব্যাংকই বাইরে থেকে অর্থ নিয়ে আসে না। সব ব্যাংকই তাদের ডিপোজিটের অর্থ ঋণ দেয়। আমরা আগে কৃষকদের গরু পালনের জন্য ঋণ দিতাম। কিন্তু এখন আর গরু পালনের জন্য খুব বেশি ঋণ দেয়া লাগে না। তাই আমরা এখন কলের লাঙলের জন্য ঋণ দিয়ে থাকি।

যান্ত্রিকীকরণের জন্য আমরা এখন ঋণ দিতে শুরু করেছি। কৃষিতে যেসব জায়গায় ডাইভারসেশন হয়েছে, কৃষি ব্যাংক তার প্রতিটি জায়গায় ঋণ দিয়েছে। কৃষি ব্যাংকের সহযোগিতায় তারা সাফল্য আনতে সক্ষম হয়েছে। তাই এককভাবে কেউ কৃষির উন্নয়ন ঘটায়নি বলে আমি মনে করি।

ঋণ বিতরণে বহুমুখিতা কীভাবে আনছেন?
আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন শুধু শিল্প দিয়ে হবে না। কারণ আমাদের ১৬ কোটি লোক এবং এর বেশির ভাগই গ্রামীণ অঞ্চলের। সুতরাং তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সত্যিকার অর্থে মানুষের খেয়েপরে বাঁচতে হলে তার অর্থনৈতিক উন্নয়ক দরকার। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অর্থ হচ্ছে, তার অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য আমরা কৃষি ব্যাংক অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছি। অন্যান্য খাতে ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য আমাদের বরাদ্দ আছে। দারিদ্র্য বিমোচনে আমাদের ১০০ কোটি টাকা আছে।

যেমন দীর্ঘ কয়েক বছর ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আমিও এ ঋণ প্রক্রিয়াটা দেখা ও বোঝার জন্য এক বছর সময় নিয়েছি। গত বছর আমরা ৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছি। চলতি বছর আমরা ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আগামী বছর ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়ার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করব।

শষ্য উৎপাদনেও অনেক পরিবর্তন এসেছে, যেমন কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করার জন্য কৃষদের আরো ঋণ দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু আমরা দিতে পারি না। এবং কৃষকরাও সেভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করার জন্য ঋণ নিতে আসে না। আমরা কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ঋণ বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছি। যোগ্য কৃষক পেলে যান্ত্রিকীরণে ঋণ দেয়ার জন্য টাকা নিয়ে বসে আছে বিকেবি।

কৃষির যান্ত্রিকীকরণকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছেন?
কৃষির যান্ত্রিকীকরণ হলে কিছু কর্মসংস্থান হবে। আগে সবাই গরু দিয়ে হাল চাষ করত। কিন্তু এখন গরুর বদলে দুইটি পাওয়ার টিলার যথেষ্ট। সেখানে কেউ যদি পাওয়ার টিলার ক্রয় করার জন্য ঋণ নিতে চায়, তাহলে নিতে পারে। আবার কেউ নিজে নিজেও কিনতে পারে। আবার বেকার ছেলেরা যদি এতে আগ্রহী হয়, তাহলে এসএমই ঋণ নিতে পারে। এবং আমরাও এটা ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা করছি। কৃষি ব্যাংক এসএমই ঋণের জন্য অনেক অর্থ রেখেছে।

এসএমইর জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা রেখেছি। কিন্তু এখানে ঋণ নেয়ার মতো কোনো লোক পাই না। লোক পাওয়া যায় এক জায়গায়তেই, সেটা কৃষিতে। তাও আবার শস্য উৎপাদনের জন্য। অন্যান্য জায়গায় সঠিক ঋণগ্রহীতা খুঁজলে লোক পাওয়া যায় না। আবার অনেকে ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে আসতে চায় না।

এক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলো যদি গ্যারান্টার হতে পারে, তাহলে আমাদের ঋণ দিতে তো কোনো সমস্যা নাই। কারণ তাদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ফলে আমরা ঋণ দেয়ার জন্য অর্থ নিয়ে বসে আছি। আপনারা এ মেসেজটা তাদের দিতে পারেন যে, আপনারা যদি গ্যারান্টার হন এবং ঋণগ্রহীতাদের অপারেট করতে পারেন; তাহলে ঋণ দেয়ার জন্য কৃষি ব্যাংকের কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমরা পরিষ্কার মনে করি, যান্ত্রিকীকরণ হলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং তার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে।

কৃষি ব্যাংক কেন মুনাফা করতে পারছে না?
আমি কৃষি খাতে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেয়ার পরিকল্পনা করেছি। এ ঋণ দিতে পারলে সুদ আদায় করতে পারব ৯ শতাংশ। কিন্তু আমার পরিচালন খরচ হয় ১০ শতাংশ। ফলে ঋণ বিতরণ করতে গেলে আমাকে এক শতাংশ ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই কৃষি ব্যাংকের সবসময় ক্ষতি হয়। এ ক্ষতি কমিয়ে আনতে শিল্প ঋণ বিতরণের অনুমতি নেয়া হয়েছে। বেশি সুদ পাওয়া যাবে, ফলে একটা ঋণের একটা ভারসাম্য হবে। আর আমরা সার্বিকভাবে কুঋণ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।

এখন ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মতো কুঋণ আছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সেখান থেকে আমরা ৫০০ কোটি টাকা কমিয়ে এনেছি। আমরাই একমাত্র ব্যাংক, যারা আগের তুলনায় অনেক ভালো পরিমাণে কুঋণ কমাতে পেরেছে। আমরা আগামী বছর আরো কমাতে পারব। গত বছর তো কৃষি ব্যাংক অনেক বেশি ঋণ আদায় করতে পেরেছে।

চলতি বছর আরো বেশি পরিমাণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য মাঠপর্যায়ে আরো বেশি কর্মদক্ষতা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ এখন সব ব্যাংকের জন্যই উদ্বেগের কারণ। বড় ঋণের পাশাপাশি কৃষি খাতের ঋণেও খেলাপি বাড়ছে। কৃষি ঋণে খেলাপির দিক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোই শীর্ষে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অন্যতম। সোনালী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকও অন্যতম। তবে সেটির উন্নয়ন ঘটছে। আমরাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা গত বছরের তুলনায় খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে পেরেছি।

ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে কৃষকের হয়রানির শিকার হওয়াকে কীভাবে প্রতিরোধ করছেন?
কৃষকের ঋণ কীভাবে আরো সহজতর করা যায়, সে বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে, যারা অল্প সময়ে কী করে ঋণ নেয়া যায় সেটিও দেখবে। এছাড়া দালালমুক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে। আমরা গ্রাহকদের বলছি সরাসরি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ব্যাংকের শাখাগুলোকে সুসজ্জিত ও পরিপাটি করে রাখার পরামর্শ দিয়েছি।

আমাদের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ ও সেনাবাহিনীর বেতন দেয়ার কাজ করতে হয়। এর জন্য আমরা কোনো পারিতোষিক পাই না। আমাদের বেনিফিট কিছু নেই, কিন্তু এরাই ব্যাংকটাকে আটকে রাখে। রাষ্ট্রের কাজ করতে গিয়ে আমাদের মূল কাজটাই বাধাগ্রস্ত হয়। কৃষি ব্যাংক যে শুধু কৃষিঋণ নিয়ে কাজ করে তা কিন্তু নয়, এর বাইরেও অনেক কাজ করে।

তাছাড়া এ ব্যাংকে ঋণ নিতে এলেও মানুষ আইন-কানুন মানার বিষয়ে সতর্ক হয় না। এনজিওগুলো ঋণ দিয়ে ২৫-২৭ শতাংশ হারে সুদ নিয়ে থাকে। এজন্য তারা কোনো কিছু দেখতে চায় না। তারা যে সুদ নেয়, এটা যে খুব একটা খারাপ তাও আমি বলি না। কারণ কৃষি ব্যাংক সুদ নেয় ৯ শতাংশ।

এনজিওরা আমাদের চেয়ে তিন গুণ বেশি নেয়, এর কারণ কর্মী রেখে কিস্তি সংগ্রহ করতে হয়। কর্মীদের প্রশিক্ষণও দিতে হয়। তাদের কিস্তি আদায়ে অনেক বেগ পোহাতে হয়। অন্যদিকে আমাদের এখান থেকে নিতে পারে না, কারণ তার কাগজপত্র প্রস্তুত নেই। কৃষকের কিন্তু উচিত তার নিজ স্বার্থে কাগজ ও জমির দলিলগুলো সঠিকভাবে প্রস্তুত করা।

ঋণ বিতরণে নতুন কী পরিকল্পনা করছেন?
শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি ব্যবধান কামানোর জন্য কৃষির যান্ত্রিকীকরণ খুবই প্রয়োজন। এর বিকল্প নেই। সামনের দিনে হয়তো আর কোনো ফ্রাগমেন্টেড জমি থাকবে না। হয়তো ৩০ জন মিলে একজনকে জমি দিয়ে দেবে। বলা হবে জমির কাগজপত্র যার যার কাছে থাকবে, তুমি জমির আইল সব ভেঙে ফেলো এবং চাষ করো।

ওইখানে আমার কী পরিমাণ জমি আছে এবং এখান থেকে আমি কী পরিমাণ লাভ পাব, তা আমার জানা আছে। সে পরিমাণ লাভ আমাকে দাও। এ সময়টার আর বেশিদিন বাকি নেই। যান্ত্রিকীকরণ হবে এবং হতেই হবে। কারণ যান্ত্রিকীকরণ ছাড়া কোনো পথ নেই ।

হাইব্রিড বীজের সম্পূর্ণটাই এখন বেসরকারি খাতে চলে এসেছে। সবজি চাষেও ৯৫ শতাংশ বীজ এখন বেসরকারি খাতই দিচ্ছে। ধানের ও চালের বিষয়টি বিএডিসি দেখে। তার পরও বেসরকারি খাত এখানে চলে এসেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কৃষকের হাতে ভালো বীজ দেয়া দরকার। ডিইএ কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে কৃষকের খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এসব খাতে ঋণ বিতরণ কীভাবে করা যায়। সেসব বিষয় নিয়েই কাজ করছে কৃষি ব্যাংক।

কৃষি ব্যাংক গরু পালনে গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ এতে দুধ ও মাংস— দুটোই পাওয়া যায়। আমি চাই কৃষকরা গরু পালন করুক এবং কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিক। গরু পালন করে মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা মুনাফা করা সম্ভব। গ্রামে এর চেয়ে বেশি মুনাফার প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রটা তৈরি করা গেলে ভ্যালু এডিশন হবে।

এর ফলে ৩০টা গরু ৩০টাই থেকে যাবে, আবার মাংসের উৎপাদনও নিয়মিত বাড়বে। আবার মানসম্পন্ন মাংসও উৎপাদন করা যাবে। তখন আর এজন্য ভারতের ওপর নির্ভর করতে হবে না। যদিও এখন নির্ভরতা কমে গেছে। যখন মাংস উৎপাদন বাড়বে, তখন আমরা দেশের বাইরেও মাংস রফতানি করতে পারব। তথ্যসূত্র: বনিকবার্তা।

SHARE