1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

চাকরী ছেড়ে ব্যবসা করতে চাইলে পর্যাপ্ত টাকা হাতে রাখুন

একটি ব্যবসার শুরু হয় একটি বিজনেস আইডিয়া থেকে। অতঃপর সেই বিজনেস আইডিয়া নিয়ে গবেষণা এবং সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। সব মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয় সেই ব্যবসাটিকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তারা ব্যবসা শুরুর আগে কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত থাকে। আর সেখান থেকেই তারা তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটায় এবং একসময় চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসায় মনোনিবেশ করে।

কিন্তু চাকুরী ছাড়ার আগে একজন উদ্যোক্তাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। চাকরি ছাড়ার কিছুদিন আগে থেকেই নিজের ব্যবসা সংক্রান্ত কিছু ব্যাপারে নিতে হয় পূর্ব প্রস্তুতি। এর মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে কাজ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। এমনই কিছু বিষয় তুলে ধরা হল ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তাদের জন্য:

১. নিজের কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ হওয়া: কাজ করতে করতে কাজ শেখা যায়। আর আপনি যদি আপনার উদ্যোগে সফল হতে চান, তাহলে যখন যে কাজটি করবেন, সেটিই ভালোমত রপ্ত করার চেষ্টা করুন। কারণ আপনার নিজের ব্যবসায় কোন না কোন সময় এটি অবশ্যই কাজে লাগবে।

২. পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা হাতে রাখা: চাকুরী ছাড়ার আগে একজন উদ্যোক্তাকে মাথায় রাখতে হবে যে সফল হতে কিছু সময়ের প্রয়োজন। আর তাই চাকুরী ছাড়তে চাইলে মাথায় রাখতে হবে যে এই সময়টাতে নিজের এবং পরিবারের আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা থাকতে হবে।

৩. কমপক্ষে তিন মাসের খরচ হাতে রাখা: আপনার ব্যবসা যখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে, তখন টাকা পয়সা নিয়ে আপনাকে একদমই চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু বাস্তবতা হল, এই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য বা লাভজনক অবস্থায় পৌঁছাতে একটি লম্বা সময় প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো খুব কম সময়ের মধ্যে সফলতা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। কিন্তু সম্ভাব্য সবকিছু মাথায় রেখেই সামনে এগোতে হবে।

৪. নিজের উদ্যোগকে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত করা: আপনি যা-ই করতে চান না কেন, সেটি যেন বৈধভাবে হয়। এজন্য দরকার হলে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ এবং অনুমতি নিয়ে রাখতে হবে। নিজের কোন পণ্য কিংবা ব্র্যান্ড প্যাটেন্ট কিংবা ট্রেডমার্ক করতে হলে সেটিও করে নেওয়া উচিৎ।

৫. নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা: উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলা শুরু করার পর আশেপাশের মানুষদের নিয়ে কিংবা এসকল খাতে যাদের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা উচিৎ। এর মাধ্যমে নিজের ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দরকারি নানা পরামর্শ পাওয়া যাবে। আর উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলার পুরো সময়টাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে অন্যকে যেমন সাহায্য করা যাবে, তেমনি নিজেও উপকৃত হওয়া যাবে।

৬. পরামর্শ এবং মতামত: চাকুরীরত থাকা অবস্থাতেই অন্যান্য উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতে হবে। সফলদের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে কিভাবে সফল হওয়া যায়। এছাড়া আপনি কি করতে চাইছেন, সে ব্যাপারে তাদেরকে জানাতে হবে এবং তাদের মতামত নিতে হবে।

৭. একটি শক্তিশালী ওয়েবসাইট তৈরি করা: ইন্টারনেটের এই যুগে এসে ওয়েবসাইট ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তাই করা যায়না। দ্রুত সময়ের মধ্যে অনেক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর জন্য একটি ওয়েবসাইটের কোন বিকল্প নেই। তবে এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটটিও হতে হবে আকর্ষণীয় এবং তথ্যবহুল। সেখানে থাকতে হবে পেশাদারিত্বের ছাপ। আর এক্ষেত্রে একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডেভেলপারের সাহায্য নেওয়াই শ্রেয়।

৮. ব্র্যান্ডিং এবং টার্গেট গ্রুপ ঠিক করা: আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার আগেই ব্র্যান্ডিং শুরু করলে সফলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ব্র্যান্ডিং কিন্তু শুধুমাত্র একটি লোগোর মধ্যেই সীমিত থাকে না। আপনার কাজ এবং দক্ষতা সম্পর্কে যারা জানে, তাঁরাই আপনার সম্ভাব্য গ্রাহক। তাদের কাছে আপনার পরিকল্পনার নিজের উদ্যোগের কথা তুলে ধরুন। আপনার কাছ থেকে তারা ভবিষ্যতে কি প্রত্যাশা করে, সেটিও জেনে রাখুন।

৯. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগানো: বর্তমান সময়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর একটি অন্যতম কার্যকরী উপায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। নিয়মিত ফেসবুক কিংবা টুইটারে আপনার ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে আগে থেকেই আপনার ব্যবসার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তুলতে হবে।

১০. নির্দিষ্ট বিষয়ে মনস্থির করা: ব্যবসা শুরু করার পর অনেক কিছু সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে আপনাকে এমন অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হবে যা নিয়ে আপনার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। এসকল ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়কে আলাদা ভাগে ভাগ করে সেসব ব্যাপারে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সামনে এগোতে হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম ওয়েবসাইট অবলম্বনে

More News Of This Category