1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

তিন বহুজাতিক কোম্পানীর কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিনিয়োগের আগ্রহ সবসময় বেশি থাকে বিদেশীদের। এ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রামের কেইপিজেড। এ ইপিজেডে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী দেশী-বিদেশী বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ। কর্ণফুলী ইপিজেডে মোট কারখানার সংখ্যা ৪৫টি। যেগুলোর মধ্যে মালিকানা পরিবর্তন, ব্যবসা থেকে প্রস্থানসহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ রয়েছে চারটি কারখানা।

বন্ধ থাকা এসব কারখানার মধ্যে তিনটিতে নতুন করে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে বহুজাতিক তিনটি কোম্পানি। চালু হতে যাওয়া এসব কারখানায় নতুন কর্মসংস্থান হবে ১০ হাজার মানুষের। এদিকে বন্ধ থাকা আরেকটি কারখানার জমির ইজারা চুক্তি বাতিল করে নতুন করে নিলামে তুলতে বেপজার কাছে প্রশাসনিক অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে কর্ণফুলী ইপিজেড কর্তৃপক্ষ।

কর্ণফুলী ইপিজেড (কেইপিজেড) সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী ইপিজেডে বর্তমানে ৪৫টি কারখানার মধ্যে বিদেশী কোম্পানি ৩২টি, দেশীয় কোম্পানি ১২টি এবং যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি আছে একটি। বর্তমানে চালু থাকা এসব কারখানায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কর্মরত ছিল প্রায় ৭২ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

বেপজা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ২০৯ দশমিক ৫০ একরের ইপিজেডটি চট্টগ্রামের দ্বিতীয় ইপিজেড। বর্তমানে এ ইপিজেডে ৪৫টি কারখানার মধ্যে ৪১টি উৎপাদনে আছে। এসব কারখানায় ৭৫ হাজার নিয়মিত শ্রমিক কাজ করলেও সবমিলিয়ে এ ইপিজেডে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশী শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে শুধু এ ইপিজেড থেকে রফতানি হয়েছে ৪৭৬ কোটি ডলারের বেশি পণ্য। সর্বশেষ চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে রফতানি হয়েছে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৩০ লাখ টাকারও বেশি মূল্যমানের পণ্য।

নতুন বিনিয়োগে আসে বাংলাদেশী মালিকানাধীন শতভাগ রফতানিমুখী পোশাক খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ফিটনেস অ্যাপারেল লিমিটেড (সেক্টর ২ এবং প্লট নং ১০৩ ও ১০৪)। ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটি ইপিজেডে প্রায় ৪ দশমিক ৩৩২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তাদের কারখানার অবকাঠামো নির্মাণকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মার্চে অপারেশনে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ হাজার ২৪৫ জনের কর্মসংস্থান হবে।

সোস আউটফিটারস লিমিটেড হংকং ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানাধীন পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানটি ইপিজেডে ২ নং সেক্টরে অবস্থিত এবং ৩৩ নং প্লটে জুনের মধ্যেই উৎপাদনে যাবে। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এ ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছে ৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি। কারখানাটি চালু হলে এখানে দুই হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

এদিকে ব্যাগ প্রস্তুতকারী শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার পার্ক বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানটি কর্ণফুলী ইপিজেডের ১ নং সেক্টরে ৭, ৮ ও ১০ তিনটি প্লটে তাদের কার্যক্রম চালু রেখেছে। বর্তমানে পোশাক খাতে আরেকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করতে যাচ্ছে তারা। জানুয়ারি পর্যন্ত এ ইপিজেডে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। নতুন এ ইউনিট এপ্রিলে চালু হলে এখানে কর্মসংস্থান হবে চার হাজার মানুষের।

পার্ক বাংলাদেশ লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আমিন বলেন, কর্ণফুলী ইপিজেডে আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আগে থেকেই ছিল। নতুন করে বন্ধ থাকা একটি কারখানা নিলামের মাধ্যমে আমরা প্লট ইজারা নিয়ে পোশাক খাতের নতুন একটি ইউনিট চালু করতে যাচ্ছি। যেহেতু এ ইপিজেডটি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ইপিজেডে, তাই আমরা এখানে প্লট নিয়েছি।

এদিকে ভেনটেক্স ইন্টারন্যাশনাল বিডি নামে ইংল্যান্ডের একটি মোজা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের জমির ইজারা বাতিল করেছে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ। ২০০৮ সাল থেকে এখানে ব্যবসা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আর ব্যবসা করতে পারবে না বলে জানালে তাদের দুটি প্লট নিলামে তোলার জন্য বেপজার প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেইপিজেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইপিজেড কর্ণফুলী ইপিজেড। এ ইপিজেড চট্টগ্রাম বন্দরের নিকট হওয়ায় এখানে প্লট পাওয়া অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। নতুন করে তিনটি এবং নিলামে থাকা কারখানা চালু হলে এখানে কোনো প্লট আর খালি থাকবে না।

এ কারখানাগুলো চালু হলে এ ইপিজেডে সব মিলিয়ে ১২-১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তাছাড়া এখানে বিদেশী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বেশি থাকার কারণে অন্যান্য ইপিজেড থেকে এ ইপিজেডে রফতানির পরিমাণ বেশি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সমুদ্রবন্দরের নিকটে হওয়ায় কর্ণফুলী ইপিজেডে দেশী-বিদেশী অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে এলেও তাদের অনেকেই প্লট না পেয়ে ফিরে গেছে। দেশের অর্থনীতিতে কর্ণফুলী ইপিজেডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাছাড়া মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পজোনে বিদেশী অনেক শিল্প গ্রুপ বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা

More News Of This Category