1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

দামী জিনিস কিনতে চাওয়া দোষের নয় তবে সাধ্যের বাইরে কেনা বোকামী

ইদানিং “লাইফস্টাইল মেইনটেন” কথাটা খুব জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। দামী মোবাইল থাকা, উইকএন্ডে দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়া, বিদেশে ট্যুর দেয়া এইসব না করলে আজকাল ‘প্রেস্টিজ’ রাখাটাই সমস্যা হয়ে গেছে। বিশেষ করে কর্পোরেট চাকরিজীবিদের মধ্যে এই প্রবণতা মহামারী আকার ধারণ করেছে।

এসব আপনি অবশ্যই করতে পারেন, কিন্তু সেটা হতে হবে এক্সট্রা টাকা দিয়ে। আপনার যখন টাকা উপচে পড়ছে, তখন আপনি এগুলো করতে পারেন কিন্তু শুধুমাত্র প্রেস্টিজ রাখার জন্য নিজের বেতনের টাকা খরচ করে, বা এমনকি ক্রেডিট কার্ড এর ধার করা টাকা দিয়ে এগুলো করলে আপনার ভবিষ্য‌ৎ অন্ধকার।

এই অভ্যাস বজায়ে থাকলে কর্মজীবন শেষে আপনি দারুন বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। এই বড়লোকি দেখাতে গিয়ে সত্যিকার বড়লোক হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। লাখ টাকার ওপরে বেতন পেয়েও অনেকে মাসের শেষে ক্রেডিট কার্ড ভাঙিয়ে চলছে। অথচ তারা ইচ্ছা করলেই ৫০-৬০ হাজার টাকায় চলতে পারে, এবং বাকি টাকাটা বিনিয়োগ করে এক সময়ে নিজেই একটি ভালো ব্যবসার মালিক হতে পারে।

আপনার মাঝেও যদি এই ধরনের অভ্যাস থাকে, তবে আজই বাদ দিন। কোনওকিছু কিনতে না পারাটা কোনও লজ্জার বিষয় নয়। আপনার কলিগ বা বন্ধু লাখ টাকার আইফোন চালায় বলে আপনি হাজার টাকার এ্যান্ড্রয়েড চালাতে পারবেন না এটা বোকার মত কথা। একটু বুদ্ধি খাটান আর হিসাব করুন, একটি আইফোন না কিনে আপনি ভবিষ্যতে কয়টা আইফোনের টাকা আয় করতে পারবেন?

যে জিনিসটা প্রয়োজন, এবং যা আপনি আপনার সাধ্যের মাঝে কিনতে পারবেন – শুধু সেটাই কিনুন। পকেটে ২ হাজার টাকা থাকলে ১৫০০ টাকার জামার বদলে ৫০০ টাকার জামা কিনুন। পারলে আরও কমে কেনার চেষ্টা করুন। এটাই ভবিষ্যতে সত্যিকার ধনী হওয়ার লক্ষণ।

দামী জিনিস কিনতে চাওয়া দোষের কিছু নয়। কিন্তু সাধ্যের বাইরে কেনাটা বোকামী। বরং টার্গেট সেট করুন যে, এই জিনিস আপনি যথেষ্ঠ টাকা হওয়ার পর কিনবেন। দেখবেন এই টার্গেটই আপনাকে নিজের আর্থিক অবস্থা পরিবর্তন করার জন্য কাজ করতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। তথ্যসূত্র: লড়াকু ডটকম।

More News Of This Category