নামে নয় চায়ের মান নির্ধারণ হয় গ্রেডে, জেনে নিন চায়ের গ্রেড

সিলেটের চায়ের সুনাম দেশজুড়ে। নামের দিক থেকে বাজারে অনেক চা পাওয়া গেলেও গ্রেডের ওপর নির্ভর করে চায়ের গুণাগুণ। সেই মান বিবেচনা করেই চায়ের দাম নির্ধারণ করেন ব্যবসায়ীরা। এই চা বিভিন্ন নামে যায় গ্রাহকের হাতে। বাংলাদেশের একমাত্র চা গবেষণাগার শ্রীমঙ্গলে। প্রতিনিয়তই উদ্ভাবন হয় নতুন নতুন জাতের চা।

চা বাগান থাকলেও মূলত চায়ের গুণাগুণ বিবেচ্য হয় ব্যবসায়ীদের কাছে। সব বাগানের চা নিলামে কিনে নেওয়ার পর নিজস্ব নামে বাজারজাত করা হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, সবুজ বর্ণের চা পাতার প্রক্রিয়াজাত করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে। সেখান থেকে চা পাতা অনেক বাগান মালিক নিজেরাই কিনে নেন।

সেরকম খাঁটি চা পাতা কিনতে পাওয়া যায় সিলেট ও শ্রীমঙ্গলের বাজারে। চায়ের তীর্থস্থানে এসে চা পাতা না নিয়ে ফেরত যেতে চান না অনেকে। আর সেই চা পাতা যদি না হয় খাঁটি, তবে সব কিছু বিফল, সব আকাঙ্ক্ষাই মাটি। তাই সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে আসা পর্যটকরা খোঁজেন ভালো মানের চা পাতা।

পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে ‘বছর জুড়ে দেশ ঘুরে’ কার্যক্রমে সম্প্রতি ‘সিলেটে পর্যটন’ অনুষ্ঠানের কল্যাণে পরামর্শ নেওয়া হয় বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের জেনারেল ম্যানেজার খোন্দকার শাহজাহানের। তার পরামর্শে শহরের স্টেশন রোডে অবস্থিত পরিচিত নাম ‘গুপ্ত টি হাউসে’ গিয়ে চায়ের গুণাগুণ সম্পর্কে জানা যায়।

গুপ্ত টি হাউসের স্বত্ত্বাধিকারী পিযুষ কান্তি দাস গুপ্ত জানালেন, হরেক রকমের চা আছে। নামের দিক থেকে নয়, গ্রেড দিয়ে চা পাতার গুণাগুণ বিবেচনা করেন তারা। তবে এক নম্বর গ্রেডের পাতায় তৈরি গোল্ড চা বা টি-গোল্ড এখনও সেরা চা পাতা। আর আটটি বাগানের পাতা ক্লোন করে তৈরি হয় তাদের নিজস্ব উৎপাদিত ‘গুপ্ত চা’। টি-গোল্ড ৬শ’ টাকা এবং গুপ্ত চা তিনশ’ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, চা পাতার গ্রেডের মধ্যে রয়েছে ‘ফ্লেভার অরেঞ্জ ব্রোকেন ফেকো’, ‘গোল্ডেন ব্রোকেন অরেঞ্জ ফেকো’ (জিওএফ), ‘ব্রোকেন অরেঞ্জ ফেকো’ (বিওএফ), ‘অরেঞ্জ ফেনিং’ (ওএফ), ‘পেকো ফ্লেভারি’ (পিএফ), ‘ফ্লেভার অরেঞ্জ ফেনিং’ (এফওএফ), ‘পেকো ডাক’ (পিডি), ‘রাউন্ড ডাক’ (আরডি), ‘ক্রাবিং ডাস্ট’ (সিডি), ‘গুঁড়া চা’ (ডাস্ট টি)।

তার মতে, মানের দিক থেকে ফ্লেভার অরেঞ্জ ব্রোকেন ফেকো সবার উপরে। এই চা পাতাই বিভিন্ন নামে বাজারজাত হয়ে থাকে। আর সর্বনিম্ন গুঁড়া চা (ডাস্ট টি)। চায়ের গ্রেড পদ্ধতির সঙ্গে একমত পোষণ করে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের জেনারেল ম্যানেজার খোন্দকার শাহজাহান বাংলানিউজকে বলেন, সম্প্রতি তিনি আরও দু’ধরণের চা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে নতুন চমক সাতকড়া চা ও সিলভার চা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ৭টি জেলায় ১৬৪টি চা বাগানে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৩০ একর জমিতে চায়ের চাষ হয়। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে ৯৩টি, সিলেটে ২০টি, হবিগঞ্জ ২৩টি, চট্টগ্রামে ২১টি, রাঙ্গামাটিতে ১টি, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ১টি, পঞ্চগড়ে ৮টি বাগান রয়েছে। আর ১১৪ প্রসেসিং প্লান্টে উত্পাদিত হচ্ছে চা পাতা। তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ।

SHARE