1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :
সফলতার গল্প :

পথের বাধা থেকেই আসবে নতুন পথের সন্ধান!

নতুন স্বাভাবিকতায় কত কিছুই তো বদলে যাচ্ছে। ক্লাস, পরীক্ষা, সমাবর্তন, সমাবর্তনের বক্তৃতা। তবে বদলায়নি আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের সাফল্যের মূলমন্ত্র, এগিয়ে যাওয়ার নীতি। চলতি বছর সমাবর্তন পাওয়া তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গত ১৮ মে স্ন্যাপচ্যাটের হয়ে একটি বক্তৃতা দিয়েছেন এই হলিউড অভিনেতা। বলেছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও নিজের লক্ষ্যে অটুট রাখার কথা।

অভিনন্দন জানাই ২০২০ সালে সমাবর্তন পাওয়া সবাইকে। আজ এখানে দাঁড়িয়ে আমি বলব না যে, তোমরা একটা দারুণ সময়ে সমাবর্তন পাচ্ছো। এই তো সেদিন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে আমার ছেলে ক্রিস্টোফার সমাবর্তন পেল। আমিও ছিলাম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে, সেটা হলো জুমে! তাই আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি, তোমরা কেউই হয়তো এমন ভার্চুয়াল সমাবর্তন অনুষ্ঠান চাওনি।

কিন্তু পুরো পৃথিবী এখন এক বিরাট সংকটে। করোনাভাইরাস বিষয়টাই অবিশ্বাস্য, অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে করোনাভাইরাস বিশ্বের যত যা-ই বদলে দিক না কেন, একটা কথা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। এই ভাইরাস তোমাদের সাফল্যকে দমাতে পারবে না। কোনোভাবেই না। হ্যাঁ, ইনস্টাগ্রামের পাতার চেয়েও এখন জীবনটা অনেক বেশি এলোমেলো। এটা ঠিক।

আমি তোমাদের বাজি ধরে বলতে পারি, এই ভাইরাসই তোমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আর একমাত্র প্রতিবন্ধকতা নয়। বরং এই সংকট তোমাকে পরবর্তীতে এর চেয়েও বড় বাধা পেরোনোর জন্য প্রস্তুত করছে। এভাবে বাধার পরে বাধা পেরিয়ে যাওয়াই হলো জীবন।

প্রতিবন্ধকতার গল্প: সারা জীবনই তোমাদের সামনে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা আসবে। এই তো যেমন দুই বছর আগে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলাম। সেই গল্পটা তোমাদের বলি।

‘টার্মিনেটর ৬: ডার্ক ফেট’ ছবির শুটিং শুরুর ঠিক ৪ মাস আগের ঘটনা। আমার একটা শারিরীক সমস্যা দেখা দিল। পরামর্শ নিতে চিকিৎসকের কাছে গেলাম। যেকোনো ছবির শুটিং শুরুর আগে আমরা সবসময় এমনটা করি। চিকিৎসক বললেন, ‘আপনার স্বাস্থ্য খুবই ভালো আছে। তবে আমি পরামর্শ দেব, আপনি আপনার হার্টের ভাল্ভটা প্রতিস্থাপন করিয়ে নিন। সেখানে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

আমি বললাম, ‘এই মুহূর্তে আমি ওপেন হার্ট সার্জারি করাতে পারব না। চার মাসের মধ্যে টার্মিনেটর ছবির শুটিং। পাগল নাকি?’ সেই সময় আমি কঠোর ডায়েট আর হেভিওয়েট ব্যায়ামের মধ্যে ছিলাম। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চলছিল। আমার ব্যায়াম, শুটিংয়ের প্রস্তুতি, মহড়া – সব সময় ধরে ধরে হচ্ছিল। এসবের মধ্যে হুট করে ওপেন হার্ট সার্জারি আমি করাতেই পারব না।’

চিকিৎসক তখন বললেন, ‘না না। প্রযুক্তি বদলে গেছে। এখন আর হৃদযন্ত্রের ভেতরে গিয়ে কাটাছেঁড়া (ওপেন হার্ট সার্জারি) করা লাগে না। এখন এটা একটা ননইনভেসিভ সার্জারি, যেটায় ধমনীর ভেতর দিয়ে হৃদযন্ত্র পর্যন্ত গিয়ে ভাল্ভ প্রতিস্থাপন করা হয়, এবং এই সার্জারির একদিন পরেই রোগী বাড়ি ফিরতে পারে। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই ফিরতে পারে স্বাভাবিক জীবনে। আপনিও এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করতে পারবেন।’

আমার মনে পড়ল, আমার বন্ধু, ৯০ বছর বয়সী এক প্রযোজকের কথা। তিনি কিছুদিন আগে এমনই একটা সার্জারি করিয়েছিলেন। এর দুই দিন পর তিনি হলিউডের একটা স্টুডিওতে আমার সঙ্গে দিব্যি মিটিং করলেন। কী দারুণ ফুরফুরে দেখাচ্ছিল তাঁকে! এসব মনে করেই আমি বলে দিলাম, ‘ঠিক আছে, আমি সার্জারি করাব।’

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও লক্ষ্যে অটুট: সার্জারি হলো। আমার জ্ঞান ফিরলো ১৬ ঘণ্টা পর; যেখানে ৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমার জ্ঞান ফেরার কথা ছিল। দেখলাম আমার মুখের ভেতর দিয়ে নল ঢোকানো। জ্ঞান ফিরেছে জেনে চিকিৎসক এলেন। এসেই মুখ দিয়ে ঢোকানো নলটা টেনে গলা থেকে বের করে আনলেন।

আমি মারাত্মকভাবে কাশতে শুরু করলাম। চিকিৎসক বললেন, ‘কাশতে থাকুন। কাশি থামলে আপনাকে বলব, কী ঘটেছিল আপনার সঙ্গে।’ এরপর তিনি বলতে শুরু করলেন – ননইনভেসিভ প্রক্রিয়া শুরু করার পর নাকি আমার শরীরে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। তখন তাঁরা দ্রুত জরুরি সার্জারি করেন। জানতে পারি, আমার হৃদযন্ত্রের দেয়াল চিড়ে ভেতরে ঢুকতে হয়েছিল তাঁদের।

কারণ আমার হৃদযন্ত্রের ভেতর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাঁরা যদি ওই মুহূর্তে আমার বক্ষাস্থি খুলে ওপেন হার্ট সার্জারি না করতেন, যদি রক্তক্ষরণ না থামাতেন, আমি মারা যেতাম। একবার ভেবে দেখো, হাসপাতালে ভর্তির একদিন আগেও আমি টার্মিনেটর ৬-এর জন্য রাত-দিন খেটে কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আর এই একদিনের ব্যবধানেই ডাক্তার বলছেন আমাকে বাঁচানোর জন্য তাঁদের কতটা সংগ্রাম করা লেগেছে।

আমার চিকিৎসক এরপর আরও বলতে থাকলেন, ‘এখনো আপনার ঝুঁকি কাটেনি। আরও একটা বিপদ আছে। আমাদের এখানে সফল ওপেন হার্ট সার্জারির পরও অনেক রোগী মারা যায়। এটা অস্ত্রপচারের কারণে না, ফুসফুসের কারণে। অনেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। আপনিও নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে আছেন।’

তিনি বললেন, ‘আপনার কাছে একটাই মাত্র উপায় আছে নিজেকে সুস্থ করে তোলার, সেটা হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম। এই নিন প্লাস্টিকের টিউব। এটা দিয়ে সারাদিন নিশ্বাশ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এরপর ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করবেন। প্রথম প্রথম উঠে ওয়াকার দিয়ে হাঁটার চেষ্টা করতে হবে।’

কী অদ্ভুত দেখো। হঠাৎ করে আমার জীবনে বিছানা থেকে ওঠাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠলো। হাঁটার জন্য আমাকে নিতে হচ্ছে ওয়াকারের সাহায্য! প্রথম ১০ কদম আমি একদম থুরথুরে বুড়ো মানুষের মতো হাঁটলাম। আমার সেরে ওঠায় সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে আমার রোজকার নীতি আর মূল্যবোধ।

আমি ওই অবস্থানে থেকেও নিজেকে আগস্ট মাসের ১ তারিখে টার্মিনেটর ছবির শুটিং সেটে কল্পনা করছিলাম। আমি ঠিক করছিলাম যত যা-ই হোক, ১ আগস্ট টার্মিনেটরের সেটে আমাকে থাকতেই হবে, আমাকে শুটিং করতেই হবে। সেটাই আমার লক্ষ্য ছিল। আমি ঠিক করেছিলাম, মারপিটের দৃশ্য থেকে শুরু করে যা যা করা লাগে ছবির জন্য তা-ই করব, নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করব।

লক্ষ্যের দিকে ছোটা: এরপর থেকে আমি আমার ছোট ছোট অর্জনগুলোকে আমার বিজয় হিসেবে দেখতে শুরু করলাম। যখন ওয়াকার ধরে প্রথমবার ৫০০ কদম হাঁটলাম, সেটা ছিল একটা বিজয়ের মুহূর্ত। যখন আমি স্বাভাবিক খাবার খেতে শুরু করলাম, সেটা আরেকটা বিজয়ের মুহূর্ত। এভাবেই একটু একটু করে হাসপাতাল থেকে আমি বাড়ি ফিরলাম।

আর শেষ নাগাদ আমি আবার ব্যায়াম করা শুরু করলাম, তবে লাইট ওয়েটে হালকা ব্যায়াম। এত কিছুর মধ্যে একটা বিষয় কি জানো? আমার লক্ষ্য খুব পরিষ্কার ছিল। যেই ১ আগস্ট আমার টার্মিনেটরের শুটিংয়ে থাকার কথা, সেদিন আমাকে সেখানেই থাকতে হবে। গন্তব্য একেবারে স্পষ্ট। সেই গন্তব্যের দিকে চোখ রেখেই আমি সব করেছি। শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ওয়াকার দিয়ে হাঁটা, আবার ব্যায়ামে ফেরা – প্রত্যেকটা কাজ আমাকে আমার লক্ষ্যের আরও কাছে নিয়ে গেছে, আমার কল্পনাকে বাস্তবে বদলে দিতে অবদান রেখেছে।

‘আই অ্যাম জাস্ট ব্যাক’: দেখতে দেখতে ১ আগস্ট এসে পড়ল। আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম বুদাপেস্টে, টার্মিনেটর ৬-এর শুটিং সেটে। এই টার্মিনেটর আরও উন্নত, আরও পরিণত, এই টার্মিনেটর দুর্ধর্ষ সব লড়াই করতে পারে। আমিও তাই করলাম। মারপিট করলাম, ভাঙচুর করলাম, কতবার পড়ে গেলাম, গড়াগড়ি খেলাম, এরপর উঠে আবার নতুন করে শুরু করলাম।

তোমরা ভাবতেও পারবে না কতটা রোমাঞ্চে ভরপুর ছিল সেই মারপিটের দৃশ্যের পেছনের মুহূর্তগুলো। আমাদের পরিচালক টিম মিলার দুইদিন পর আমাকে এসে বললেন, ‘আর্নল্ড, তুমি একটা যন্ত্র (মেশিন)।’ আমি বললাম, ‘নো, আই অ্যাম জাস্ট ব্যাক (না, আমি কেবল ফিরে এসেছি)।’

তোমাদের এই গল্পটা বলার কারণ হলো, তুমি যত বড়ই হয়ে যাও না কেন, যত সফলই হও না কেন, জীবনে চলতে গেলে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা আসবে। যেমন আমার জীবনের একটা প্রতিবন্ধকতা ছিল এই হার্ট সার্জারি। আর তোমাদের এই মুহূর্তের প্রতিবন্ধকতা যেমন ঘরে বসে সমাবর্তন পাওয়া। কিন্তু তোমার লক্ষ্য স্পষ্ট হলে, তুমি কী করতে চাও, কে হতে চাও, এই প্রশ্নের জবাবগুলো নিয়ে নিজের কাছে পরিষ্কার থাকলে সব প্রতিবন্ধকতা উৎড়ে যেতে পারবে।

যাদের নিয়ে চিন্তা : বার বার তোমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট করার কথা বলছি, এর পেছনে একটা কারণ আছে। একবার আমি এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলাম। পর দিন সমাবর্তন পাওয়া তরুণদের সঙ্গে আমি ওদের গ্র্যাজুয়েশন উদ্‌যাপন করতে যাই। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে প্রশ্ন করলাম, ‘এখন তোমরা কী করতে চাও? তোমাদের এখন একটা ডিগ্রি আছে।

এই ডিগ্রি দিয়ে তোমরা কী করবে বলে ভাবছ?’ ওরা বলল, ‘ভাগ্য ভালো থাকলে, হয়তো একটা চাকরি পেয়ে যাব, ওটাই করব।’ সবাই কমবেশি এই কথাটাই বলল। কেউ কোনো স্পষ্ট লক্ষ্যের কথা বলল না। এক তরুণ তো আমার প্রশ্ন শুনে চোখ এমন বড় করে তাকাল, যেন হরিণের মাথায় কেউ হেডলাইট বসিয়ে দিয়েছে। ছটফট করতে করতে কিছুই বলতে পারল না সে। লক্ষ্যের কথা তো দূরে থাক, সে জীবনে কী করতে চায় সেটাই জানে না।

যে তরুণেরা জীবনের লক্ষ্য এখনো ঠিক করতে পারেনি, তাদের জন্য আমার চিন্তা হয়। এটা বর্তমান সময়ের একটা বিরাট সমস্যা। আমদের এখানে, মানে যুক্তরাষ্ট্রে, একটা জরিপ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের কর্মজীবন নিয়ে সুখি নন। অথচ এই কাজের জন্য তাঁরা তাঁদের রাত-দিন সঁপে দিচ্ছেন।

সেটা নিয়েই এতগুলো মানুষ অসুখি। জরিপের কী ভয়াবহ ফলাফল! আমি চাই না তোমরাও এই ৭০ শতাংশ মানুষের দলে চলে যাও। আর এজন্যই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করা খুব জরুরি। তুমি যদি তোমার লক্ষ্যের ব্যাপারে দৃঢ় থাকো, তাহলে কাজ করাটা দারুণ আনন্দের হয়ে উঠবে। তখন আর জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিদিনের এই কাজ তোমার কাছে চাপ মনে হবে না।

পথের বাধাই পথ দেখাবে: লোকে প্রায়ই জানতে চায়, ‘আর্নল্ড, আমরা দেখি তুমি হাত দিয়ে লোহাকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলছো, একই সময় আবার হাসছো। কিন্তু অন্য কেউ এসব করতে গেলে চেহারা কী রাশভারি করে ফেলে, কী সিরিয়াস হয়ে যায়!’ আমি তাদের বলি, ‘এর কারণ হলো আমি এটা করে আনন্দ পাই।

আমি হাসি কারণ আমার প্রতি ৫০০ পাউন্ডের স্কোয়াট, প্রতি ৭০০ পাউন্ডের ডেডলিফট, প্রতিটা বুকডন, প্রতিটা চিন আপ, প্রতিটা কার্ল, প্রতিটা ধাপ আমাকে আমার লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যায়।’ তুমি যদি আজকের এই সব কথা থেকে একটা কথা মনে রাখতে চাও, তাহলে সেটা হবে – তোমাকে অবশ্যই একটা স্পষ্ট লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করো, তুমি কে হতে চাও? ‘কী’ না, জিজ্ঞেস করো ‘কে?’

একটা দুর্যোগ তোমার অবস্থানকে নিমেষেই বদলে দিতে পারে। তোমার চাকরি ছিনিয়ে নিতে পারে, তোমার পরিচয়, পদ, পদবীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। কিন্তু তোমার সত্ত্বা কোনো প্রতিকূলতাতেই তোমাকে ছেড়ে যাবে না, তোমার সত্ত্বা তোমাকে আবার উঠে দাঁড়াবার শক্তি যোগাবে। মার্কাস অরেলিস, গ্ল্যাডিয়েটর ছবির প্রতাপশালী সেই সম্রাট, যিনি রোম শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বিচক্ষণ ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘পথের বাধা থেকেই বেরিয়ে আসবে নতুন পথ।’

এর মানে কী দাঁড়ালো? এর মানে হলো, জীবনে পদে পদেই তোমার সামনে বাধা আসবে। আর তখন সেই বাধা উৎড়ে যাওয়াই হলো জীবনের নিয়ম। এটাই পথ। তাই যখন তুমি তোমার লক্ষ্যের ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর থাকবে, প্রতিটা বাধা, প্রতিবন্ধকতা, সংগ্রাম, সংকট তখন তোমার ভেতর দানা বেধে তোমার ভেতরটাকে, তোমার সত্ত্বাকে আরো দৃঢ় করে তুলবে।

অর্জন নয়, মনে থাকবে অভিজ্ঞতা: আমাদের মন আমাদের শরীর থেকে আলাদা নয়। আমি খালি হাতে সারাদিন কার্ল (হাত ওঠা-নামা করানোর ব্যায়াম) করতে পারব। আমার কিচ্ছু হবে না, শরীরের কোথাও কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হবে না। কিন্তু যখনই হাতে একটা ওজনদার কিছু নিয়ে কার্ল করব, তখন কিন্তু আমার বাইসেপ সজাগ হবে, সাড়া দেবে, একটু একটু করে ফুলে ফেঁপে উঠবে।

ধীরে ধীরে বাইসেপ বড় হবে, এর আকার বদলাবে, আরো শক্ত হবে, দৃঢ় হবে। একই রকম ঘটে মনের বেলাতেও। তুমি জীবনে অনেক ওপরে ওঠো, কিন্তু সঙ্গে করে লক্ষ্যকেও নিয়ে ওঠো। তাহলে তুমি শুধু ওপরেই উঠবে না, তুমি বাড়বে, তুমি নিজেকে আরো দৃঢ় আর সবল করে গড়ে তুলতে পারবে।

এভারেস্টে উঠেছে এমন যেকোনো পর্বতারোহীকে জিজ্ঞেস করে দেখো। তাঁরাও বলবে, চূড়ায় পৌঁছে যাওয়ার চেয়ে পাহাড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাটা তাঁদের কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। চূড়ায় থাকার মুহূর্তের চেয়ে, পাহাড়ে ওঠার সফরটা তাঁদের কাছে বেশি স্মরণীয়। এবার তোমরা তোমাদের গত ৪ বছরের কথা ভেবে দেখো। একটা ডিগ্রি পাওয়ার জন্য যে পরিশ্রম করেছো, সেটা ভেবে দেখো।

পরীক্ষার আগের নির্ঘুম রাতগুলোর কথা মনে করো। দল বেঁধে যে গ্রুপ স্টাডি করতে, এক হয়ে পরিশ্রম করতে – মনে আছে না সব? এগুলোই মনে থেকে যাবে, শুধু এই ডিগ্রিটা না। তোমরা আজ তোমাদের এই ৪ বছরের সফরকে উদ্‌যাপন করছ। সত্যি বলতে, এই যে কাগজের টুকরোটা আজ হাতে পেলে, এটা তো দেয়ালে ঝুলে থাকবে। মনে থাকবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর পেছনের এই সফরটা, মনে থাকবে অভিজ্ঞতা।

ভালো কথা, এই উদ্‌যাপনের মানে কিন্তু তোমাদের সফরের শেষ নয়। একটা নির্দিষ্ট অধ্যায় শেষ হলো মাত্র। এখান থেকে শুরু হবে নতুন আরেকটা সফর। আজ আনন্দ করো, মুহূর্তটাকে উপভোগ করো। কিন্তু কাল যখন এই সব শেষ হবে, তখন থেকে শুরু হবে তোমার নতুন লক্ষ্যের দিকে যাত্রা। ধন্যবাদ আমার কথাগুলো শোনার জন্য। হাসতা লা ভিস্তা। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category