1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :
সফলতার গল্প :

পরিবহন ব্যবসায় নামার আগে জেনে নিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য!

কাজের ভিসায় সিঙ্গাপুরে গিয়ে আয়-রোজগার ভালোই করেছেন ওসমান। দেশে ফিরে ভাবেন, জমানো টাকা দিয়ে তো কিছু একটা করা যায়। পরিচিতদের মধ্যে কয়েকজন পরিবহন ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করেন—বাস কিনে পরিবহন ব্যবসা করবেন। হাতে যে টাকা আছে তা দিয়ে বড়জোর একটি গাড়ি কেনা যাবে।

কেউ কেউ পরামর্শ দেন—গাড়ির দামের অর্ধেক জমা দিয়ে বাকিটা মাসে মাসে কিস্তিতেও পরিশোধ করা যাবে। তাহলে এক গাড়ির টাকায় রাস্তায় দুই গাড়ি নামানো যাবে। তা না হয় হলো। কিন্তু গাড়ি নামালেই কি লাভ আসবে? মাসে যা হাতে আসবে সেই টাকায় কিস্তির টাকা উঠবে তো! এসব ভেবেই মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। তাঁর মতো অনেকের ভাবনা-দুশ্চিন্তা এমনই।

গাজীপুরের পরিবহন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আল-ইমরান জানান, পরিবহন ব্যবসায়ীদের মধ্যে একাধিক গাড়ি নিয়ে ব্যবসা শুরুর প্রবণতা আছে। এতে মেরামত বা অন্য কোনো কারণে একটা গাড়ি বন্ধ থাকলে আরেকটা দিয়ে আয় আসে। এভাবে একাধিক গাড়ি নামাতে গিয়েই ব্যবসায়ীরা ব্যাংক লোন ও কিস্তির দিকে ঝুঁকছে।

মোহাম্মদ আল-ইমরান আরো জানান, গাড়ি কেনার জন্য সাধারণত সব ব্যাংকই লোন দেয়। অনেক সময় গাড়ির শোরুমের লোকজনই গাড়ির লোন নেওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করেন। গাড়ির ‘ফার্স্ট পার্টি ইনস্যুরেন্স’ করা হলে কোনো রকম ক্ষয়ক্ষতি হলে ঘটনা তদন্ত করে মালিককে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

চালক দক্ষ-বিশ্বস্ত হলে, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম হলে, কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে গাড়ি থেকে লাভ আসবেই। গাড়ি নিয়মিত চললে মাসে খরচ বাদে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা মালিকের হাতে থাকে। দূরপাল্লার গাড়ি থেকে এই পরিমাণ আরো বেশি। ইমরান বলেন, ‘পরিবহন ব্যবসায় গাড়ি কিনে রাস্তায় নামিয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না।

নিজেও লেগে থাকতে হবে। গাড়ির যত্নআত্তির দিকে খেয়াল রাখেন না কর্মীরা। অনেক কর্মী সুযোগ পেলেই টাকা মেরে দেন। তাই গাড়ির মালিককেই সব ব্যাপারে খোঁজখবর রাখতে হবে। গাড়ির ইঞ্জিনে কোন ধরনের সমস্যা হতে পারে সে ব্যাপারে জানাশোনা থাকলে ভালো।’

পরিবহন ব্যবসার ধাপ: ধাপ ১: আগে ঠিক করুন—কোন ব্র্যান্ডের এবং কত সিটের গাড়ি কিনবেন। যে রুটে গাড়ি চলবে—সে রুটের পরিবহনগুলো সাধারণত কত সিটের, তাও বিবেচনায় রাখুন। যেমন—ঢাকা শহরের রুটগুলোতে ট্রাফিক জ্যামের কারণে যাত্রীবাহী ছোট (কম সিটের) গাড়িগুলো বেশি চলে। দূরপাল্লার রুটগুলোতে বড় গাড়ি (৪২ সিটের গাড়ি) বেশি চলে।

ধাপ ২: গাড়ির ইঞ্জিন/চেসিস কেমন হবে—তাও জরুরি। অনেকের আগ্রহ জাপানি ইঞ্জিনের গাড়ি। কেনার খরচটা তুলনামূলক বেশি হলেও সার্ভিসিং বা আনুষঙ্গিক খরচ কম। গাড়ি গ্যাসে চালাবেন নাকি তেলে চালাবেন—তাও মাথায় রাখতে হবে। গ্যাসে চালাতে হলে গাড়ি সিএনজি কনভারশন করাতে হবে।

ধাপ ৩: গাড়ি নগদে কিংবা কিস্তিতে কিনতে পারেন। কিস্তিতে কিনতে হলে লাগবে—ব্যাংকের খালি চেক (স্বাক্ষর করা অবস্থায়), এনআইডি, ছবি, স্ট্যাম্প/চুক্তিনামা, ফরম পূরণ ইত্যাদি।

ধাপ ৪: গাড়ি কেনার পর বিআরটিএ থেকে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, ফিটনেস সার্টিফেকেট, ইনস্যুরেন্স করতে হবে। এ ছাড়া সড়ক বিভাগ ও আন্ত জেলা পরিবহন মালিক সমিতির অনুমতিও দরকার পড়ে।

ধাপ ৫: গাড়ি কোনো পরিবহনের অধীনে দিতে চাইলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কোনো কোনো পরিবহনে নতুন গাড়ি যুক্ত করাতে হলে গাড়ির মালিককে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মতো টাকা দিতে হয়। অনুমতি থাকলে গাড়ি লোকাল হিসেবেও চালানো যাবে। অনেক গাড়ি একসঙ্গে নামানোর সামর্থ্য থাকলে নিজেই একটি পরিবহনের নামে অনুমোদন নিয়ে পরিবহন ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

ধাপ ৬: গাড়ি পরিবহনের অধীনে থাকলে সেই পরিবহনের নিয়ম অনুযায়ী গাড়ির মালিক টাকা পান। কোনো কোনো পরিবহনে গাড়ির মালিককে টিকিট বিক্রির আয়ের একটা অংশ প্রতি ১০ দিন পর দেওয়া হয়। আবার কোনোটাতে দিনে প্রতি সিঙ্গেলের হিসাবেও মালিককে টাকা দেওয়া হয়। পরিবহনের বাইরে গাড়ি চললে সরাসরি ভাড়া থেকে যে আয় হয়, তা থেকেই মালিক পান।

More News Of This Category