1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

পাওনা টাকা কীভাবে আদায় করবেন?

কারও কাছে টাকা পাওনা রয়েছে? টাকা ধার দেওয়ার সময় তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন যে নির্দিষ্ট একটি তারিখের মধ্যেই পরিশোধ করে দেবেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দেওয়ায় আপনার পাওনা টাকা ফেরত দিতে তাঁকে অনুরোধ করেন। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে আপনার টাকা আর ফেরত দেননি। আপনি ভাবছেন কীভাবে আদায় করবেন পাওনা টাকা। আপনি কি আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন? পারলেও কীভাবে?

টাকা ধার দেওয়ার সময় যা করবেন
প্রয়োজনে যদি টাকা ধার দিতেই হয়, তাহলে যতই আপনজন হোক না কেন, তাঁর সঙ্গে আপনি একটি লিখিত চুক্তি করে নিন। ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি করে নিন এবং এই চুক্তিতে কী কারণে কত টাকা ধার দিলেন, তা স্পস্ট করে উল্লেখ করতে হবে। কবে অপর পক্ষ টাকা ফেরত দেবে এবং পুরোটা একসঙ্গে না কিস্তিতে পরিশোধ করবে, তা উল্লেখ করতে হবে।

যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকবে—বিষয়টা স্ট্যাম্প কাগজে উল্লেখ করা দরকার। মনে রাখতে হবে, চুক্তিপত্রটি যেন আইন অনুযায়ী সম্পাদিত হয়। এ ছাড়া চুক্তিটি নোটারি বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সত্যায়িত করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র সম্পাদনের সময় সাক্ষী হিসেবে রাখুন কয়েকজনকে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়, তাহলেও চুক্তিপত্র করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র ছাড়া আইনের অশ্রয় গ্রহণ করা অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

কীভাবে আইনের আশ্রয়
পাওনা টাকা ফেরত না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানি আদালতের অশ্রয় নিতে হলে মানি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে দাবি করা টাকার অনুপাতে কোর্ট ফি দাখিল করতে হয়। ফৌজদারি আদালতে আশ্রয় নিতে হলে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে সিআর (নালিশি) মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া থানায় এজাহার হিসেবেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে।

আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করলে আদালত জবানবন্দি নিয়ে সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আমলে না নিয়ে পুলিশ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলতে পারে। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আমল গ্রহণ করে আদেশ দেন। ফৌজদারি আদালতে মামলা হলে দায়ী ব্যক্তি জামিন না-ও পেতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, দেনাদার টাকা পরিশোধ করার সময় চেকে প্রদান করে থাকেন কিন্তু চেকটি ব্যাংকে নগদায়নের জন্য জমা দিলে চেকটি ডিজঅনার হয়। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মামলা দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।

কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি টাকা পাওনা থাকে
কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের টাকা পাওনা থাকে, সে ক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারে। ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে কোনো সম্পত্তি বন্ধক নিয়ে থাকলে তা নিলামের নোটিশ দিয়ে যদি কোনো ক্রেতা না পায়, সেÿক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে থাকে। পরবর্তী সময় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধের ডিক্রি দিয়ে থাকেন আদালত। টাকা আদায় না হলে পরে ডিক্রি জারি মামলা দায়ের করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সে টাকা আদায় করতে পারে কিংবা বন্ধকী সম্পত্তির মালিকানার সনদ নিতে পারে এবং দখলেও যেতে পারে।

কোনো কর্মচারী বেতনের টাকা পাওনা হলে
কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যদি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান হতে কোনো মজুরি বা অন্যান্য আইনসম্মত টাকা পাওনা থাকেন কিংবা তাঁকে পরিশোধ করা না হয়, তিনি যদি শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের অওতাভুক্ত হন, তাহলে শ্রম আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। আর যদি শ্রমিক না হন, তাহলে দেওয়ানি আদালতে পাওনা টাকা আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। যেকোনো মামলা হলে মামলার যেকোনো স্তরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, তথ্যসূত্র: প্রথমআলো ডটকম।

More News Of This Category