পাটি সেন্টার, কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা!

কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা একটি জমজমাট ব্যবসা ক্ষেত্র। বর্তমানে সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতে শুরু করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় সভা, জন্মদিন, কুলখানি, সেমিনার ইত্যাদি আয়োজনের এক অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্থান হিসেবে কাজ করছে কমিউনিটি সেন্টার। বিশেষ করে বিয়ে- শাদির অনুষ্ঠানগুলো সচরাচর কমিউনিটি সেন্টারেই হয়ে থাকে।

এছাড়া ব্যবসায়িক ও বিভিন্ন অফিসিয়াল সভাগুলো আয়োজনেও কমিউনিটি সেন্টারের জুড়ি নেই। কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা একটি সম্মানজনক ও লাভজনক ব্যবসা সিদ্ধান্ত হিসেবে সর্বমহলে বিবেচিত হয়ে থাকে। কমিউনিটি সেন্টারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র ও অন্যান্য বৈধতার কাগজ পত্র সংগ্রহ করে আপনি সহজেই এই ব্যবসাটি পরিচালনা করতে পারেন।

কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা কোথায় শুরু করবেন: সাধারণত ছোট ও বড় শহর গুলোতে এই ব্যবসাটি শুরু করা যায়। এই ব্যবসাটি শুরু করতে হবে যেখানে প্রচুর লোকের সমাগম হয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। সামনে গাড়ি রাখার মাঠ, যথেষ্ট খোলামেলা পরিবেশ কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসার জন্য নির্বাচন করা উতিচ।

কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা যে কারনে করবেন ব্যবসা এবং সুনাম দুই আছে এই ব্যবসায়। এটি একটি আধুনিক ব্যবসার ধারণাও মোটামুটি ঝুকিঁ মুক্ত ব্যবসা ক্ষেত্র। এই ব্যবসায় লাভের পরিমাণ বেশি। কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা সাইড ব্যবসা হিসাবে করা যায়। এই ব্যবসায় একবার বিনিয়োগ করলে দীর্ঘ দিন আর বিনিয়োগ করতে হয় না। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই ব্যবসার চাহিদা।

এই ব্যবসাটি শুরু করে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। একটি বড় মানের মূলধন বিনিয়োগ করতে পারলে যে কোন উদ্যোক্তাই এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। যে কোন উদ্যোক্তাই এই ব্যবসাটিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন। একটি উজ্জ্বলতর ক্যারিয়ার গঠনের লক্ষ্যে অনেক উদ্যোক্তাই এই ব্যবসাটি শুরু করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সম্ভাব্য বিনিয়োগ: এই ব্যবসাটি শুরু করতে আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত পুজিঁ বিনিয়োগ করতে হতে পারে। জায়গা ভেদে বিনিয়োগের পরিমান কম বেশী হতে পারে।

যেভাবে কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা শুরু করবেন: ব্যবসাটি শুরু করতে প্রথমেই উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করতে হবে। তারপর যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে অনুমতি পত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। তারপর কমিউনিটি সেন্টারের জন্য নির্ধারিত স্থানটিকে কমিউনিটি সেন্টারের উপযোগী করে ডেকোরেশন করতে হবে। একটি কমিউনিটি সেন্টার সাধারণত তিন তলা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মূলত প্রথম তলাটি অভ্যর্থনা কক্ষ হিসেবে, দ্বিতীয় তলাটি মেহমানদের খাওয়াদাওয়ার করানোর জন্য এবং তৃতীয় তলাটি বর- কনের বসার জন্য স্টেজ তৈরী করে ব্যবহার করা হয়। খাওয়া-দাওয়া রান্না করার জন্য একজন অভিজ্ঞ বার্বুচি নিয়োগ করতে হবে। তাছাড়া খাওয়া কাজে সহযোগিতার জন্য বেয়ারা হিসবে ৭ বা ৮ জন অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিতে হবে।

ক্ষেত্র বিশেষ কম বেশী হতে পারে। কমিউনিটি সেন্টারে ব্যবহৃত চেয়ার, টেবিল ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী মানসম্মত ও রুচি শীল হতে হবে। এই ভাবে একটি কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। ব্যবসা শুরু করার আগে অন্য কমিউনিটি সেন্টার ঘুরে নানা আইডিয়া নিয়ে এবং সঠিক বিজনেস প্ল্যান দিয়ে শুরু করতে হবে।

গ্রাহক: সকল শ্রেণীর মানুষই এই ব্যবসার গ্রাহক হয়ে থাকেন। গ্রাহক নিজ প্রয়োজনেই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। প্রথম দিকে মার্কেট ধরতে হলে নানা মুখী বিজ্ঞাপন দিতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সভা গুলো আয়োজনের জন্যও কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে।

কত টাকা আয় করতে পারবেন: কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা করে অনেক টাকা ইনকাম করা যায়। প্রতিটি অনুষ্ঠানে সাধারণত ২৫০০০ টাকা থেকে ৫০০০০ টাকা (কম, বেশী) পর্যন্ত আয় করা যায়। যত বেশী ইভেন্ট করতে পারবেন ইনকাম তত বাড়বে। এই ভাবে এই ব্যবসার মাধ্যমে প্রচুর টাকা আয় করা যায়।

SHARE