1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

প্রতিদিনের কেনাকাটায় ভ্যাটের চাপ জনগনের কাধে!

১৯৯১ সাল থেকেই সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট পরিশোধ করে আসছে ভোক্তারা। প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাটের এ হারে পরিবর্তন এনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী অর্থবছরে পাঁচটি স্ল্যাবে ২, সাড়ে ৪, ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট আহরণ করা হবে। বর্তমানে যা রয়েছে নয়টি স্ল্যাবে দেড়, আড়াই, ৩, ৪, সাড়ে ৪, ৫, সাড়ে ৭, ১০ ও ১৫ শতাংশ হারে।

ভ্যাট স্তর কমানোর ফলে কিছু কিছু পণ্যে এরই মধ্যে ভ্যাট বেড়ে গেছে। যেমন তৈরি পোশাকে ভ্যাট এক শতাংশ বেড়েছে। সুপার মার্কেটে কেনাকাটায় এক শতাংশ বাড়ছে। ফার্নিচারের ওপর নতুন করে ২ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। সুপার মার্কেটের এককর্মী জানান, ক্রেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে এক ধরনের বাদানুবাদ তৈরি হবে। তারা ভ্যাট এক শতাংশ বাড়ানো হয়েছে শুনেই অন্য দোকানে চলে যাবে।

এতোদিন পোশাক কেনা বা কোনো সুপার মার্কেটে কেনাকাটায় সংকুচিত হারে ১০০ টাকায় ৪ টাকা ভ্যাট আদায় করা হতো। প্রস্তাবিত বাজেটে এই ভ্যাট এক শতাংশ বাড়ানোর ফলে এখন দিতে হবে ৫ টাকা। ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ খাতের বেচাবিক্রি এমনিতেই স্লো। তার ওপর ভ্যাট বাড়ানোর ফলে দাম বেড়ে যাওয়ায় অনীহা তৈরি হবে। ধরা খাবে এ খাত। এদিকে ভ্যাট স্তর সমন্বয় করে আবাসন খাতে ছোটো ফ্ল্যাটে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। কমানো হয়েছে বড় ফ্ল্যাটে।

বর্তমানে ১ থেকে ১১০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনতে গেলে দেড় শতাংশ মূসক দিতে হয়। তবে আগামী অর্থবছর থেকে একই সাইজের ফ্ল্যাট কিনতে মূসক গুণতে হবে ২ শতাংশ হারে। অর্থাৎ মূসক বাড়ছে দশমিক পাঁচ শতাংশ। এদিকে একই পরিমাণ মূসক কম দিতে হবে যদি কেনা হয়, ১১০১ থেকে ১৬শ’ বর্গফুটের পর্যন্ত কোনো ফ্ল্যাট। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও মূসক ২ শতাংশ।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখানে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করা হয়নি। ফলে তাদের ওপর চাপ বাড়বে। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের পরিচালক প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন শিকদার বলেন, এক হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের দাম যদি ৪ হাজার করে হয়, তবে দাম পড়ে ৪০ লাখ টাকা। খরচ যদি বাড়ে তবে যারা চাকরিজীবী, মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত তারাই কিন্তু ক্ষতিগস্ত হবেন।

তবে এনবিআরের সাবেক সদস্য আব্দুল মান্নান পাটোয়ারি বলছেন, এতে কিন্তু সাধারণ মানুষ বা খেটে খাওয়া মানুষের ওপর তেমন চাপ বাড়ছে না। যারা মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত; পোশাক পরিচ্ছদ বেশি ব্যবহার করেন, তাদের খরচ কিছুটা বাড়াবে।

তথ্যসূত্র: আরটিভি অনলাইন।

More News Of This Category