1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

ফেসবুকের এক্সপ্রেস ওয়াইফাই সেবা আবেদন নাকচ বিটিআরসির

দেশে কম খরচে ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা দিতে ওয়াইফাই ও হটস্পট নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল ফেসবুক। তবে আইনগত বাধা ও অসম্পূর্ণ প্রস্তাবনার কারণে ফেসবুকের এ আবেদনে সম্মতি দেয়নি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। প্রস্তাবনাটি বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা শেষে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের সর্বশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিটিআরসির সঙ্গে এক বৈঠকের পর বাংলাদেশে ওয়াইফাই ও হটস্পট নেটওয়ার্ক স্থাপনে ‘এক্সপ্রেস ওয়াইফাই’ নামের ওই কার্যক্রমের প্রস্তাব পাঠায় ফেসবুক। এর মাধ্যমে বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত বা কম সম্প্রসারিত অঞ্চলগুলোয় কম খরচে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

প্রস্তাবটি পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করে কমিশনের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কাছে মতামত চাওয়া হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী দেশে এ ধরনের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স না থাকায় ফেসবুক দেশে এ সেবা দিতে পারে না। সেবাটি থেকে আয় ভাগাভাগির বিষয়টিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে পর্যালোচনায় মত দেয়া হয়।

কমিশনের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এক্সপ্রেস ওয়াইফাই সেবার মাধ্যমে শুধু ফেসবুক নাকি অন্যান্য ডাটাভিত্তিক সেবাও ব্যবহার করা যাবে, তা প্রস্তাবে সুস্পষ্ট নয়। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আইপি লগ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্সপ্রেস ওয়াইফাই সেবার ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত নয়।

প্রস্তাবিত মডেলে নেটওয়ার্ক সংযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়নি। এ ব্যবস্থার আওতায় ফেসবুকের ক্লাউড সার্ভার ব্যবহার করা হবে। তবে সেলফোন অপারেটরদের নীতিমালার শর্তানুযায়ী, দেশের বাইরের সার্ভারে তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ নেই। এছাড়া নিরাপত্তাজনিত ও জরুরি প্রয়োজনে সেলফোন অপারেটরদের ডাটা সেবা বন্ধ করা হলেও ওয়াইফাই সেবা ব্যবহার করা যাবে। এটি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং বিভাগ তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, সেবাটি দিতে কী ধরনের তরঙ্গ ব্যবহার হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া প্রস্তাবনার সঙ্গে সেলফোন অপারেটরদের সঙ্গে চুক্তি ও আয় ভাগাভাগি, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, ট্যারিফ এবং আয়ের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে কোনো ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে জানান, সেবাটি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই ফেসবুকের। এছাড়াও প্রস্তাবনায় তরঙ্গ ব্যবহার, আয় ও অন্যান্য বেশকিছু বিষয় সুস্পষ্ট নয়। এসব বিবেচনায় ফেসবুকের এক্সপ্রেস ওয়াইফাই সেবার অনুমোদন দেয়া যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ফেসবুকের প্রস্তাবে বলা হয়, প্রথম ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সেবাটি প্রদান করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে এক্সপ্রেস ওয়াইফাই নামের এ সেবা দিচ্ছে ফেসবুক। এসব দেশের তালিকায় প্রতিবেশী ভারত ছাড়াও রয়েছে কেনিয়া, তানজানিয়া, নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। পাশাপাশি এ সেবার উন্নয়নে ইসরায়েল, আয়ারল্যান্ড, দুবাই ও তানজানিয়াতেও পরীক্ষা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা ও সেলফোন অপারেটরদের সঙ্গে যৌথভাবে এক্সপ্রেস ওয়াইফাই প্রযুক্তির সম্প্রসারণে কাজ করছে ফেসবুক। সেবাসংশ্লিষ্ট এলাকার আইএসপি, ওয়াইফাই ও হটস্পট সেবাদাতা কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেবাটি দেয়া হবে। এরই মধ্যে এক্সপ্রেস ওয়াইফাইয়ের একটি অ্যাপও চালু করেছে ফেসবুক।

More News Of This Category