1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির নতুন গন্তব্য উজবেকিস্তান!

দুই দশক আগেও বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানির মূল গন্তব্য ছিল উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত (জিসিসি) ছয়টি দেশ। এরপর নতুন গন্তব্য হিসেবে যুক্ত হয় মালয়েশিয়া। তবে অর্থনৈতিক মন্দা, বৈশ্বিক রাজনীতি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফার লোভ, কূটনৈতিকসহ নানা কারণে ক্রমেই আস্থা হারাচ্ছে বিদ্যমান বৈদেশিক শ্রমবাজারগুলো।

এ অবস্থায় নিরাপদ অভিবাসন ও ধারাবাহিক রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখতে নতুন গন্তব্যে শ্রমবাজারের বিস্তৃতির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যার ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো কর্মী পাঠানো হচ্ছে উজবেকিস্তানে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানে প্রথমবারের মতো ২৩৯ জন বাংলাদেশী কর্মী পাঠানো হয়েছে।

ওইসব শ্রমিককে নিয়ে উজবেকিস্তান এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে। উজবেকিস্তান যাওয়া কর্মীরা দেশটির রাজধানী তাসকন্দ থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে কারশিতে ইন্টার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে কাজ করবেন। উজবেকিস্তানে মূলত দক্ষ কর্মীরা আসবেন।

প্রথম ধাপে দক্ষ কর্মী রফতানির এ প্রক্রিয়ায় চারটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মোট ৮৮৮ জন কর্মী পরপর তিনটি বিশেষ ফ্লাইটে উজবেকিস্তান যাবেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন শ্রমবাজার হিসেবে জাপান, ইউরোপের বেশকিছু গন্তব্য যেমন ক্রোয়েশিয়া ও পোল্যান্ডকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

উজবেকিস্তান থেকে বেশকিছু চাহিদাপত্র আসায় কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, শিশু ও বয়স্কদের সেবাযত্নের জন্য (কেয়ার গিভার) জাপান, জার্মানি ও থাইল্যান্ডে বাংলাদেশী কর্মী পাঠানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে থাইল্যান্ড থেকেও এ খাতে কর্মীর চাহিদাপত্র এসেছে।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মীর চাহিদা কমে আসছিল। এজন্য বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই নতুন শ্রমবাজারের অনুসন্ধান করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সূত্র বলছে, জন্মহার কম ও কর্মক্ষম জনশক্তি দিন দিন কমে আসছে এমন ৫৩টি দেশে শ্রমবাজার অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল আগে থেকেই।

যার ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে সেশেলস ও মরিশাসে জনশক্তি পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত বিকল্প শ্রমবাজার তৈরির লক্ষ্যে পোল্যান্ড, আলজেরিয়া ও জাপানে যোগাযোগ বাড়িয়েছে মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক তত্পরতা চলছে এসব দেশের শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্তির জন্য। নতুন শ্রমবাজার হিসেবে ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও সাড়া পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে ছয়টি নতুন দেশে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে। দেশগুলো হলো কম্বোডিয়া, পোল্যান্ড, চীন, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সেশেলস। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের শ্রমবাজার যাতে সংকুচিত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ মিশনগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে। নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও জোরেশোরে চলছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর (২০১৯) বিভিন্ন দেশে কর্মী গিয়েছিলেন প্রায় সাত লাখ। এর মধ্যে কেবল সৌদি আরবেই গিয়েছিলেন ৩ লাখ ৯৯ হাজার, যা ওই বছরের মোট কর্মী রফতানির ৫৭ শতাংশ। একই বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ৩ হাজার ৩১৮ জন, ওমানে ৭২ হাজার ৬৫৪, কাতারে ৫০ হাজার ২৯২, কুয়েতে ১২ হাজার ২৯৯।

বাহরাইনে ১৩৩, লেবাননে ৪ হাজার ৮৬৩ ও মিসরে একজন কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। আর চলতি বছর বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার কর্মী। এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছেন প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার; যার মোট কর্মী রফতানির ৭৪ শতাংশ। এছাড়া ওমানে ১৭ হাজার ৩৯৮ জন, কাতারে ৩ হাজার ৫০৩, ইউএইতে ৮৫৩, কুয়েতে ১ হাজার ৭৪১ ও বাহরাইনে একজন কর্মী গিয়েছেন চলতি বছর। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা।

More News Of This Category