1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

বাবার অনুপস্থিতিতে সন্তানের কিছু অধিকার জেনে নিন!

বাবা কোনো কারণে কাছে না-ও থাকতে পারেন। এমন হতে পারে যে বাবা বেঁচে নেই। বাবার অনুপস্থিতিতে মা সম্বল। মায়ের কাছে থেকেই বড় হতে হয় কোনো কোনো সন্তানকে। আবার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হতে পারে। আলাদাও বসবাস করতে পারেন। যেকোনো কারণেই হোক না কেন বাবা কাছে না থাকলে বা বাবার অনুপস্থিতিতে সন্তানের কিছু অধিকার জন্মায়।

বাবা বেঁচে না থাকলে
বাবা বেঁচে না থাকলে সন্তান যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন তাহলে উত্তরাধিকারী হিসেবে বাবার সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ ভোগদখল করতে পারবে। সন্তান কর্মক্ষম হলে আর মা যদি বয়স্ক এবং কর্মহীন হন তাহলে মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় এক সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকিরা নাবালক তাহলে নাবালক ভাইবোনদের ভরণপোষণের দায়িত্বও নৈতিকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ওপর আসে।

সন্তান বাবার সম্পত্তি পেলেও জীবিত মায়ের সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারবে না। মা যদি দান করে দেন সে ক্ষেত্রেই কেবল ভোগদখল করতে পারবেন। অন্য নাবালক ভাইবোনদের সম্পত্তিও সে ভোগদখল করতে পারবে না। এমন যদি হয় যে বাবা বেঁচে নেই কিন্তু সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। মা আদালতে অনুমতি নিয়ে সন্তানের অভিভাবক নিযুক্ত হতে পারেন। এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার সম্পত্তির মালিক হন তাহলেও মা আদালতের অনুমতি নিয়ে এ সম্পত্তি ভোগদখল এবং বিক্রি করতে পারবেন।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে
মুসলিম আইন অনুযায়ী বাবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আইনগত অভিভাবক আর মা হচ্ছে সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক। বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হলে মা সন্তানের তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা হারাবেন না। অবশ্য মা অন্য কোথাও বিয়ে করলে ক্ষেত্রবিশেষে এ অধিকার হারাতে পারেন। বিচ্ছেদের পর সন্তান মায়ের কাছে থাকলেও তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ বাবার। সন্তান পাশে থাকলে বাবা যেমন ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন তেমনি বিচ্ছেদের পরেও সন্তানের ভরণপোষণ চালিয়ে যেতে হবে।

মা যদি আলাদা থাকেন
মা যদি আলাদা বসবাস করেন এবং সন্তান যদি মায়ের সঙ্গে থাকেন তাহলেও বাবাকে সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁর ভরণপোষণ চালিয়ে যেতে হবে। সন্তান যদি প্রাপ্তবয়স্ক অথচ যুক্তিসংগত কারণে কর্মহীন থাকে তাহলেও বাবাকে তার সন্তানের ভরণপোষণ দিতে হবে। আসল কথা হচ্ছে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ বা আলাদা থাকা সেটি কেবল বাবা-মায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সন্তানের ক্ষেত্রে নয়। সন্তানের কাছে বাবা এবং মা দুজন একই মর্যাদার তা বিচ্ছেদ হোক বা না হোক। তার সঙ্গে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয় না। এমনকি সন্তানকে ত্যাজ্য করার যদি ঘোষণাও দেওয়া হয়, এতেও আইনগত ত্যাজ্য হবেন না। মনে রাখতে হবে সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক এবং কর্মজীবী হলে বাবা আলাদা থাকলেও যদি বাবা বয়স্ক এবং কর্মহীন হন তাহলে সন্তানকে তার বাবার দায়িত্ব উল্টো নিতে হবে।

আদালতে যাওয়া যাবে?
বাবা কোনো কারণে কাছে না থাকলে এবং জীবিত থাকলে মা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ভরণপোষণের জন্য পারিবারিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারে। বাবা যদি বেঁচে না থাকেন তাহলে তাঁর সম্পত্তির ভাগ যদি অন্য উত্তরাধিকারীরা না দিতে চায়, তাহলে দেওয়ানি আদালতে বণ্টনের মোকদ্দমা দায়ের করার সুযোগ আছে।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
তথ্যসুত্র: প্রথম আলো ডটকম।

More News Of This Category