1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :
সফলতার গল্প :

বাড়ির নকশা অনুমোদন পেতে!

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। পেনশনের পুরো টাকা একবারে তুলে ঢাকার মাদারটেকে নিজের নামে কেনা প্লটে বাড়ি করবেন বলে ঠিক করেছেন। কিন্তু ঢাকায় বাড়ি করাটা তো আর মুখের কথা না। সে ক্ষেত্রে ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয় অনেক। ঢাকাতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন। সে ব্যাপারেও তিনি জানেন, কিন্তু এই অনুমোদন নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানেন না। একদিন তিনি গেলেন রাজউকের এক কর্মকর্তার কাছে। তাঁর জমি, রাস্তা ও জমিসংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র দেখে ওই কর্মকর্তা বললেন, ‘আপনার কাগজপত্রে কোনো জটিলতা না থাকলেও এই জমিতে রাজউকের নকশা অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।’

এভাবে নয়ছয় বুঝিয়ে তাঁকে অনেক দিন ঘুরতে হয়েছে রাজউক অফিসে। শেষমেশ এক দালালের খপ্পরে পড়ে তিনি তুলে দেন বাড়ি নির্মাণের নকশা অনুমোদনের সবকিছু। সে ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে অনেক দিন ঘুরে তবেই পেতে হয়েছে বাড়ি নির্মাণের নকশার অনুমোদন। ঢাকায় নতুন বাড়ি করেছেন আর রাজউকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি এমন মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে।
সে ক্ষেত্রে রাজউকে বাড়ি নির্মাণের নকশা অনুমোদনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বলছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (পরিকল্পনা বিভাগ) ও যুগ্ম সচিব শেখ আবদুল মান্নান।

রাজউকে সাধারণত তিন ধরনের ভূমি চিহ্নিত করা হয়—রাজউকের প্লট, রাজউক অনুমোদিত আবাসিক প্রকল্পের প্লট, ব্যক্তিমালিকানাধীন প্লট। রাজউকের প্লটে বাড়ি নির্মাণ করার জন্য আবেদন করতে হলে রাজউকের এস্টেট শাখা থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। রাজউক অনুমোদিত বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের প্লট হলে রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখার প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। আর যদি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্লট হয় সে ক্ষেত্রে রাজউকের নগর পরিকল্পনা বিভাগ থেকে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র নিতে হবে। নগর পরিকল্পনা বিভাগ এলাকা অনুযায়ী ছাড়পত্র দেবে। ওই ছাড়পত্র নিয়ে নির্মাণ অনুমোদনের জন্য নকশা রাজউকের ‘ইমারত নির্মাণ কমিটি’তে দাখিল করতে হয়।

ইমারত নির্মাণ কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এর অনুমোদন দেওয়ার পর মালিক তাঁর প্লটে সাইনবোর্ড টানিয়ে নেবে। প্লটে বাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করার পূর্বপরিকল্পনা রাজউককে নির্ধারিত ফরমে জানাতে হবে এবং স্থপতি ও প্রকৌশলীদের হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মতিসহ রাজউককে কাজ শুরুর আগে অবহিত করতে হবে। বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ করার পর বিভিন্ন কারিগরি ব্যক্তিদের প্রত্যয়নপত্রসহ বসবাস বা ব্যবহার সনদপত্রের (ওকোপেন্সি সার্টিফিকেট) জন্য বাড়ির মালিককে রাজউকে আবেদন করতে হবে। এ সনদপত্র পাওয়ার পরই বাড়ির মালিক তাঁর বাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে নগর পরিকল্পনা বিভাগ থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর রাজউক থেকে বিশেষ ধরনের ছাড়পত্র নিতে হয়। আবার বড় ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র নিতে হয়। এই বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র ‘বৃহদায়তন বা বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন কমিটি’র মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে। যেকোনো বড় প্রকল্প বা বহুতল ভবন (১০তলার ঊর্ধ্বে) নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু বিভাগ; যেমন ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সিটি করপোরেশন, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড ইত্যাদি সংস্থার ছাড়পত্র নকশাসহ আবেদনপত্র ইমারত নির্মাণ কমিটিতে নির্মাণ অনুমোদনের জন্য দাখিল করতে হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি তদারকির দায়িত্ব শুধুই কি রাজউকের?
ইদানীং ঢাকা শহরে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ির সংখ্যা। সে ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি নির্মাণের পুরো দায়ভার দেওয়া হচ্ছে রাজউকের ওপর। কিন্তু সম্পূর্ণ দায়ভার কি রাজউকেরই? সে সম্পর্কে বলছিলেন রাজউকের কর্মকর্তা শেখ আবদুল মান্নান। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর ইমারত (উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী রাজউক অনুমোদন দেয় স্থাপত্য নকশা । ভবনের ভিত্তি ও কাঠামো নকশা প্রণয়ন করেন প্রকল্পে নিয়োজিত প্রকৌশলী। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ব্যবহার করে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে কি না এবং বাড়ির মান দেখাও তাঁর দায়িত্ব। বাড়ির বাহ্যিক অবয়ব কী হবে, সেটা দেখে থাকে রাজউক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া ঢাকা সিটি করপোরেশনেরও দায়িত্ব রয়েছে।

ঘুষ না দিলে নকশা অনুমোদন দেয় না
রাজউকে ঘুষ না দিলে নাকি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয় না—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, নকশা দাখিল করার সময় সেবা মূল্যায়ন ফরম দেওয়া হয় সাধারণ জনগণের জন্য, তাতে পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর), দায়িতত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নৈতিকতা ও সার্ভিস পেতে সমস্যা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে মন্তব্য লেখার স্থান আছে কিন্তু আমরা যখন সেই ফরম দেখি তখন সবগুলো মন্তব্যে পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সম্পর্কে ভালো মন্তব্য দেওয়া থাকে। ফলে সেখান থেকে আমরা ধরে নিই যে রাজউকের এসব কর্মকর্তা ভালো সেবা দিচ্ছে। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ নকশা অনুমোদনের জন্য দালালের সাহায্য নেয়; ফলে তারা সেখানে অনেক টাকা ঘুষ দিয়ে প্রতারিত হয়। তবে এখন যেসব নকশা দাখিল করা হয় সেগুলো কম্পিউটারে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। তদারকি আগের চেয়ে আরও উন্নত করা হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে আগে। দালালদের দ্বারা প্রতারিত যেন না হয় সে ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে তাদের নিজেদের।

তথ্যসূত্র: প্রথমআলো ডটকম।

More News Of This Category