ব্যবসার বিভিন্ন প্রকার ঝুঁকি!

যেখানে মুনাফার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে ঝুঁকিও বেশি। এ জন্য একজন সচেতন বিনিয়োগকারী হিসেবে ঝুঁকি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। ব্যবসায়ে সফলতা পেতে আপনাকে বুঝে-শুনে ঝুঁকি বহন করতে হবে। নতুন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে বিনিয়োগ ঝুঁকি পর্যালোচনা করতে সক্ষম হলে ব্যবসায়ে আপনার সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন প্রকার ঝুকি সম্পর্কে:

ঝুঁকির শ্রেণিবিন্যাস: বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন কিছু ঝুঁকি আছে, যেগুলো সবার ওপর বর্তায়। এ ক্ষেত্রে এককভাবে কোনো বিনিয়োগকারীর ওপর পড়ে না। এ ধরনের ঝুঁকি পদ্ধতিগত ঝুঁকি। এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মুদ্রাস্ফীতিজনিত বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকি। আবার আরেকটি রয়েছে সুদহার। এ ধরনের ঝুঁকি সব বিনিয়োগকারীর ওপর আসে। অন্যদিকে কিছু ঝুঁকি আছে যেগুলো বিনিয়োগকারীরা একটু সতর্ক হলে রেহাই পাবেন। এ ধরনের ঝুঁকিকে অপদ্ধতিগত ঝুঁকিও বলে। এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ব্যবসায় ঝুঁকি, আর্থিক ঝুঁকি, তারল্য ঝুঁকি, পুনর্বিন্যাস ঝুঁকি ও বাজার ঝুঁকি।

মুদ্রাস্ফীতিজনিত বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া: একজন বিনিয়োগকারী অনিশ্চয়তার কারণে এ ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হন। ফলে বিনিয়োগকারীর ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। দেখা যায়, বিনিয়োগকারী আগের অর্থ দিয়ে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে পারবেন না। এতে তার মুনাফা ও লভ্যাংশ কম পাবেন।

সুদের হারসংক্রান্ত ঝুঁকি : বাজারে সুদের হার পরিবর্তন হলে সুদের হারসংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হয়। সুদের হার কমে গেলে বিনিয়োগ থেকে ফেরতের পরিমাণ কমে যায়। আর বাড়লে বিনিয়োগ থেকে ফেরতের পরিমাণ বেড়ে যায়। সুদের হার পরিবর্তিত হলে বিনিয়োগের বাজারমূল্য পরিবর্তিত হয়। যদি কোনো বিনিয়োগের বাজারমূল্য সুদের হারের স্তরের ফাংশন হয়, তবে ওই বিনিয়োগ থেকে মুনাফা পাওয়া অনিশ্চিয়তার তৈরি হয়। যদি ঝুঁকিবিহীন বিনিয়োগ ফেরতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তবে অধিকাংশ বিনিয়োগের মূল্য কমে যেতে পারে।

ব্যবসায় ঝুঁকি: অনিশ্চিত ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে বিনিয়োগ থেকে ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তাকে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলে। ব্যবসায়িক ঝুঁকির কারণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার ভুল সিদ্ধান্ত বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব, অদক্ষতা, দেশীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্যের প্রতিকূল পরিবর্তন, নতুন প্রতিযোগিতর আবির্ভাব। ব্যবসায়িক ঝুঁকি পরিহারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ না করে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

আর্থিক ঝুঁকি: কোনো প্রতিষ্ঠান তার আর্থিক দায়গুলো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটি তার শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিনিয়োগ থেকে ফেরত পাওয়ার এই অনিশ্চয়তাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে। যে প্রতিষ্ঠানে ঋণের পরিমাণ বেশি, সুদের শর্ত কঠিন, সুদের হার বেশি সে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি তত বেশি। আবার দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চেয়ে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়া অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে আর্থিক ঝুঁকি পরিহারের উপায় এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা, যাদের মূলধন কাঠামোয় ঋণ-মূলধনের অনুপাত কম। প্রতিষ্ঠান যত কম ঋণ নেবে, তার আর্থিক ঝুঁকির পরিামণ তত কম। আবার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য বা প্রদত্ত সেবার প্রকৃতির ওপরও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। যেমন নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যের চাহিদা স্থিতিশীল। আবার বিলাস দ্রব্যাদি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যের চাহিদা স্থিতিশীল নাও হতে পারে। আর্থিক ঝুঁকি পরিহারের আরেকটি উাপায় হচ্ছে স্বল্পমেয়াদের জন্য বিনিয়োগ।

তারল্য ঝুঁকি: বিনিয়োগ (সম্পত্তি) বিক্রয় করা না গেলে যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয় তাকে তারল্য ঝুঁকি বলে। যেকোনো সম্পত্তিই বিক্রয় করা যায়। সম্পত্তির চলতি বাজারমূল্য থেকে কিছু বাট্টা দিতে হয়। তবে বাট্টা দেওয়ার অনিশ্চয়তাও রয়েছে। সম্পত্তি বিক্রি করতে হলে যত বাট্টা দিতে হবে, তারল্য ঝুঁকি তত বেশি। বাজারের প্রকৃতির ওপর তারল্য ঝুঁকি নির্ভর করে। বাজার নিষ্ক্রিয় হলে সে ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাজার নিষ্ক্রিয় হওয়ার পেছনের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগের অভাব, ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়া, সম্পত্তি নতুন ধরনের হওয়া। যেসব সম্পত্তির সক্রিয় বাজার আছে, সেসব সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে তারল্য ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

পুনর্বিনিয়োগ: মূল বিনিয়োগ থেকে যে হারে আয় পাওয়া যায়, প্রাপ্ত আয় যদি একই হারে বা তার চেয়ে বেশি মুনাফার হারে বিনিয়োগ করা না হয় তাহলে পুনর্বিনিয়োগে ঝুঁকি তৈরি হয়। যেসব বিনিয়োগ থেকে পুনর্বিনিয়োগের জন্য নগদ প্রবাহ পাওয়া যায় না, সেসব বিনিয়োগের পুনর্বিনিয়োগ ঝুঁকি নেই। যে বিনিয়োগ চলতি সময়ে অর্থ পাওয়া যায় না, সেসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে পুনর্বিনিয়োগ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে স্থাবর সম্পত্তি দীর্ঘমেয়াদি সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করলেও পুনর্বিনিয়োগ ঝুঁকি কমানো যায়।

তথ্যসূত্র: আমাদের সময়।

SHARE